কক্সবাজার দক্ষিন বন বিভাগের ধোয়া পালং রেঞ্জে ২শ একর বনভূমি অবৈধ দখলে নিয়েছে ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট

কক্সবাজার দক্ষিন বন বিভাগের ধোয়া পালং রেঞ্জে প্রায় ২’শ একর বনভূমি অবৈধ দখলে নিয়েছে ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট। বনবিভাগের জায়গায় তারা গড়ে তুলেছে অবৈধ স্থাপনা। উত্তোলন করছে মাটি ও বালু। উখিয়ার বড়ইতলী মধুরছড়া বায়তুন-নূর আল-ইসলামীয় মাদরাসার পাশে পাহাড় কাটার কার্যক্রম চলছে। রাজাপালং ইউনিয়ন বড়ই তলী মধুরছড়া বায়তুন-নূর আল-ইসলামীয় মাদরাসার পাশের পাহাড় দিনদুপুরে কাটলেও রহস্যজনক কারণে নিরব রয়েছে স্থানীয় রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান।
ট্রাকে মাটি ভরার পরে সেটা চলে গেলে, আবার আরেকটি ট্রাক এসে মাটি ভরছে। পরে মাটি ভর্তি ট্রাকগুলো রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরের রোড দিয়ে চলে যায়। কেউ তাদের বাধা দিচ্ছে না। বনবিভাগ দেখেও না দেখার ভান ধরে আছে। সহজেই পাহাড় কেটে ট্রাক ভরে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এ বিশাল জায়গা দখল করতে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট আগেই বনাঞ্চলের গাছ উজাড় করে নিয়েছে।
জবর দখলকৃত বনভূমি প্লট আকারে বিক্রি করছে বর্তমানে। বনের জায়গা দখল ও প্লট আকারে বিক্রিকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্থানীয় বনবিটের কতিপয় বনকর্মীর গোপন আঁতাত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামুর ধোয়াপালং কমিউনিটি ক্লিনিক ও আবদুল আজিজ মেম্বারের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তার ২ কিলোমিটার পশ্চিমে বনের জায়গা দখল ও প্লট বাণিজ্য চলছে। পশ্চিম ঘোনার পাড়ার সাইরেরক্লেলা মাঠ, জুমের ছরা, বসু হেডম্যানের নালা, নতুন রাস্তার মুখ এলাকায় বনের জায়গা বিভিন্ন নামে ভাগবাটোয়ারা ও বিক্রির মহোৎসব চলছে। অথচ উক্ত বাগানের (সামাজিক বনায়ন) গাছ ১ম পর্যায়ে বনবিভাগ ২০১৫-১৬ সালে নিলামে বিক্রি করে প্রায় ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছিল। ২০১৬-১৭ ২য় আবর্তের বাগান সৃজন করা হলেও সামাজিক বনায়নের কয়েকজন উপকারভোগী সহ দখল ও প্লট আকারে বিক্রি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে। এতে আরও শক্তি সঞ্চার করে সিন্ডিকেট সদস্যরা।সূত্র জানিয়েছে, ২০-২৫ জন যুবক নিয়ে গঠিত সিন্ডিকেটে হামিদ উল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা ক্যাডারও রয়েছে।
গত ১ বছর ধরে বনবিভাগের কয়েক কোটি টাকার গাছ কেটে স্থানীয় স’মিলে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। বনভূমিকে বৃক্ষ শুন্য করে এখন চলছে বনের জায়গা বিক্রির পালা। সিন্ডিকেড সদস্যরা কোটি কোটি টাকার সরকারী বনভূমি বিক্রি করলেও রহস্য জনক ভাবে বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জের বনকর্মীরা নিরব রয়েছে। দখলকৃত বনভূমি থেকে প্রত্যেহ অসংখ্য ডাম্পার ভর্তি মাটি ও বালু উত্তোলন করছে সিন্ডিকেট সদস্যরা। ডাম্পার প্রতি এক হাজার টাকা করে বনকর্মীরা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দখলকারী চক্র প্রভাবশালী হওয়ায় সরকারের সেবা বঞ্চিত উপকারভোগীরা ভয়ে মূখ খোলছেন না। কয়েকজন উপকারভোগী অভিযোগ করে বলেছেন, রেঞ্জ কর্মকর্তা রায়হান ও বিট কর্মকর্তা তানবীর যোগদানের পর থেকে দখল ও বিক্রয়কারীদের বনভূমি দখলের মাত্রা বেড়ে চলছে। তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বন উজাড় ও দখলে গোপনে সহায়তা করে যাচ্ছেন কতিপয় বনকর্মী। কথিত হেডম্যান বশুর মধ্যস্ততায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা এবং বনকর্মীরা নিরব রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার।
এদিকে শত শত একর বনভুমি দখলের কারনে পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে মর্মে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা কমিটির কিছু ভূমিদস্যুর কারণে বনের জায়গা দখল ও গাছপালা উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র। তবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাগন এসকল ক্ষেত্রে রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পার্সেন্টেজ নিয়ে থাকেন এ কারনেই বন ভূমি রেহাই হলেও দেখার কেই নেই। এব্যাপারে উখিয়া সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান এসব বিষয় অস্বীকার করেন। মোটা অঙ্কের টাকা নেয়ার অভিযোগ সত্য নয় দাবী করে এব্যাপারে ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা রায়হান খান বলেন, এই রেঞ্জের আওতাধীন কোথাও এত বিশাল বনজসম্পদ তথা বনের জায়গা দখল হয়নি। বালু উত্তোলন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
