রেলওয়ের ইচ্ছে-মতোন রেল লাইনের পাশের গাছ কর্তন, দেখার কেউ নেই

নতুন রেল লাইন সংযোগ, জায়গা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পে রেলের নিজস্ব জায়গাই তাদের প্রাকৃতিক গাছ যেমন খুশি তেমনভাবে গাছ কর্তন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রেলওয়ের ইচ্ছে-মতোন রেল লাইনের পাশের গাছ কর্তন, দেখার কেউ নেই

নতুন রেল লাইন সংযোগ, জায়গা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পে রেলের নিজস্ব জায়গাই তাদের প্রাকৃতিক গাছ যেমন খুশি তেমনভাবে গাছ কর্তন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  সারা বাংলাদেশের তথ‍্য ও সরেজমিনে দেখা যায় রেল লাইনের পাশে বন বিভাগের গাছ ছাড়া, রেল কর্তৃপক্ষের গাছগুলো অভিভাবকহীন। স্থানীয় রেলের কর্মকর্তাদের কর্মচারিদের সহযোগিতায় টেন্ডারবিহীন গাছ বিক্রি করছে অবৈধভাবে। 

ঢাকা চট্টগ্রাম রেললাইন, ঢাকা সিলেট, ঢাকা রাজশাহী,ঢাকা দিনাজপুর, ঢাকা ময়মনসিংহ, ঢাকা ফরিদপুর, ঢাকা কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জায়গাই  রেললাইনে তাদের গাছ অহরহ কাটা হচ্ছে। তাদেরকে সরকারি কোন আইন সংস্থা বা পরিবেশবাধী সংগঠন বাধা প্রদান করলে তারা বলে উন্নয়নের জন‍্যে গাছ কাটতে হচ্ছে। আপনারা কে বাধা দেয়ার? এমন অভিযোগ সরকারি সংস্থা এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার আগে এবং পরে নির্বাচনী ইস্তেহারে যেখানে ২৫ কোটি গাছ লাগানো কথা বলা আছে জলবায়ু প্রভাব মোকাবেলার জন‍্যে সেখানে রেল কর্তৃপক্ষ কিভাবে বন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া গাছ কর্তন করে জনমনে প্রশ্ন।

বিভিন্ন জায়গার তথ্যে জানা যায় যেখানে  নতুন রেল লাইন হয়েছে রেলওয়ের নিজস্ব জায়গাই সেখানে রেল বিভাগের অনেক প্রাকৃতিক গাছ আছে, তৎকালীন সময় বন বিভাগকে বাগান করতে দেয়া হয়নি। ঔই সমস্ত জায়গাই  রেলের প্রাকৃতিক গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে।

নিয়মনুযায়ী বন বিভাগের গাছ বনজদ্রব‍্য পরিবহন ( নিয়ন্ত্রণ ) বিধিমালা ২০১১ বিধি- ৫(১)  অনুযায়ী সরকারি,আধা সরকারি,স্বায়ত্ব শাসিত, সড়ক, বাধ,রেল সংযোগ,উডলট,পৌরসভা, স্হানীয় সরকার বিভাগ,  স্কুল,কলেজ পর্যায় থেকে গাছ কাটতে হলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়।

বর্তমানে রেল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ এই সমস্ত নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তাদের নিজস্ব জায়গাই প্রাকৃতিক গাছ কেটে নিজেদের পকেট ভারী করছে বলে হাজারো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কিছু দিন আগে চট্টগ্রাম রেলওয়ে কোয়াটারে বিশাল বড় একটি গাছ কেটেছে যা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ‍্যমে প্রকাশ হলেও তাদের টনক নরেনি।

সূত্রে জানা যায় স্থানীয় কর্মকর্তাগণ কিছু সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে গাছ কাটার বাহিনী ঠিক করেন। অতঃপর রেলের ঠিকাদারদের অবৈধ সহযোগিতায় গাছ কাটা শুরু করেন। বিভিন্ন জায়গাই বন বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসন বাধা দিলে উল্টো তাদেরকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন।

আগারগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা যায় সরকারি আধা সরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান উন্নয়ন মূলক কাজের জন‍্যে বা অন‍্যন‍্য কাজে গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে। বিষয়টি বিভিন্নভাবে রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এই ব‍্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন জায়গাই দায়িত্ব নিয়োজিত  থাকা কর্মকর্তাদের ফোন দিলেও তারা মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।