থামছেনা কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে মাটিলুট সহ বনজ সম্পদ উজাড়ের প্রতিযোগিতা

থামছেনা কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগে মাটিলুট সহ বনজ সম্পদ উজাড়ের প্রতিযোগিতা

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ও খুটাখালীতে পাহাড় ও টিলা সাবাড় করে মাটি লুট, বিভিন্ন ছড়াখালে অসংখ্য শ্যালো মেশিন ও শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলনের কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভূমিধসের আশঙ্কা করছে পরিবেশ সচেতন মহল।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের এসিএফ প্রান্তোষ ও ডিএফও আনোয়ার হোসেন সরকার এর নামে ভূমিদস্যু, পাহাড় খেকো,মাটি লুটকারীদের থেকে মোটা অংকের টাকা মাসোহারা হিসেবে নেয় বিট ও রেঞ্জ কর্মকর্তাগন। মাস শেষে ডিএফও এবং এসিএফের পকেট ভারী করে পাহাড় দখল,মাটি লুট করে ভূমিদস্যুরা এমন অভিযোগ সচেতন মহলের। তবে বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তারা।

বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণ হলেই ভূমিধসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। জানা গেছে, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজারা বনবিটের পাগলির বিল ও ফুলছড়ি রেঞ্জের খুটাখালী ও মেদাকচ্ছপিয়া বনবিটের মধুশিয়া এলাকা থেকে কয়েক বছর ধরে চিহ্নত বালু ও মাটি খেকোচক্র নির্বিচারে পাহাড় ও টিলা শ্রেণির বনভূমির মাটি লুট করে চলছে।

পাশাপাশি বিভিন্ন ছড়া ও সমতল করে ফেলা বনভূমির ওপর শক্তিশালী শ্যালোমেশিন ও ড্রেজার বসিয়ে ভূ-গর্ভের অন্তত ৪০-৫০ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলন করে দিনরাত সমানে শত শত ট্রাকযোগে পাচার অব্যাহত রেখেছে। এসব এসিএফ এবং ডিএফও দেখেও না দেখার ভান করে আছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা থেকে ডিএফও পর্যন্ত চুপচাপ বসে থাকে।মাস শেষেই তাদের পকেট ভারী হয় বলে জানিয়েছেন তারা।

ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, বনবিভাগের পাগলির বিল শুধুমাত্র ডুলাহাজারা বনবিটের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এখানে কিছু অংশ ফুলছড়ি রেঞ্জের মেদাকচ্ছপিয়া বনবিটেরও আওতাধীন। এরপরও বনবিভাগ পাগলির বিলের বনভূমি রক্ষার জন্য আন্তরিক। তবে বালু ও মাটি খেকোচক্রে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদেরকে কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, কয়েকবছর ধরে নির্বিচারে পাহাড় ও বনভূমি থেকে বালু ও মাটি লুট করায় বর্তমানে পাগলির বিল ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এসব কারণে চলতি বর্ষামৌসুমে ভয়াবহ ভূমিধসসহ বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। ডুলাহাজারা, খুটাখালী বনবিটের পাগলির বিল, মধুশিয়া ও রংমহল, দাঙ্গারবিল থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় কোনোভাবেই ঠেকানো যাবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, রাতারাতি বিপুল টাকার মালিক বনে যাওয়ার লোভে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাহাড় থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করায় ডুলাহাজারার পরিবেশ বিপন্ন হয়ে উঠেছে। এমনকি বর্তমানে ডুলাহাজারার আলোচিত রংমহলের রং-রূপই পাল্টে ফেলা হয়েছে। বনবিভাগ বালি ও মাটি লুটের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করলেও প্রকৃত আসামিরা মামলা থেকে পার পেয়ে যাচ্ছে। দিনমজুর ও নিরিহ শ্রেণির লোকজন আসামি হচ্ছে।