বি আর এস এর সভাপতি জামিলুরের ছত্র ছায়ায় সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডল বদলী আদেশ বাতিল করে পুনরায় গাজীপুরে বহাল

পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় পোষ্টিং নিয়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাকির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

বি আর এস এর সভাপতি জামিলুরের ছত্র ছায়ায় সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডল বদলী আদেশ বাতিল করে পুনরায় গাজীপুরে বহাল

পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় পোষ্টিং নিয়ে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাকির মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। মুজিব নগর কর্মচারী হিসেবে ভুয়া শিক্ষা সনদ, মুক্তিযোদ্ধা সনদ সাব-রেজিষ্ট্রার পদে চাকুরী পেয়ে খুলে যায় তার ভাগ্যের চাকা।

চাকুরী পাওয়ার পূর্বে তাদের সুনন আন্তে পান্তা ফুরাতো ওসমান গণি মন্ডলের কৃষক পিতার। বর্তমানে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডল। সূত্রে জানা যায়, গত ০৩-০২-২০২৫ তারিখে মোঃ নুর ইসলাম, মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন অধিদপ্তর কর্তৃক স্বাক্ষরিত যার স্মারক নং ১০.০০.০০০০.১৩০.১৯.০০১.২১-২৭ স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে মহা ঘুষখোর শ্রীপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস গাজীপুর, ওসমান গণি মন্ডল, সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস পাবনা বদলী করেন।

বদলী আদেশ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন ও বিচার বিভাগকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে বদলীস্থল যোগদান না করে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন দেদারচ্ছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে, সাব-রেজিষ্ট্রার হিসেবে যোগদান করে সেখানে ঘুষ, দূর্নীতির সমরাজ্য পরিণত করেছিলেন ওসমান গণি মন্ডল, সাবেক আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের কাছের লোক পরিচয় দিয়ে।

পতিত সরকার পতন হওয়ার পরে দূর্নীতিবাজ, ঘুষখোর সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডল বনে গেছেন এখন পিএনপি পন্থি। তার অবৈধ টাকার প্রভাবে পাবনায় যোগদান না করে পরবর্তীতে গত ২০-০২-২০২৫ তারিখ মহা-পরিদর্শক নিবন্ধন অধিদপ্তর মোঃ নূর ইসলাম এর স্বাক্ষিত স্মারক নং ১০.০০.০০০০.১৩০.১৯.০০১.২১-৪৬ স্মারক মূলে পাবনায় বদলীকৃত সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডলকে কাপাসিয়া সাব-রেজিস্ট্রার অফিস গাজীপুর বদলী করা হয়।

বি আর এস এর সভাপতি খন্দকার জামিলুর রহমান এর যোগসাজসে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সাব-রেজিষ্ট্রার আজকের সংবাদকে জানান বর্তমান বি আর এস এর সভাপতি খন্দকার জামিলুর রহমান কে ২ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে বদলী আদেশটি বাতিল করে গাজীপুর কাপাসিয়া সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে বদলী হয়েছেন বলে প্রকাশ্য অন্যান্য সাব-রেজিষ্ট্রারদের কাছে প্রকাশ পায়।

সূত্রে জানা যায় বর্তমান বি আর এস এর সভাপতি খন্দকার জামিলুর রহমান গাজীপুর, বালিয়াকৈর সাব-রেজিষ্ট্রার পদে কর্মরত থাকাকালীন জানুয়ারী ২০১৩ সালে কালিয়াকৈর উপজেলা আটবহ ইউনিয়নের ১০টি গ্রামের ও সরকারের বন বিভাগের সম্পত্তি সহ ৫০০ শত বিঘা জমি জাল দলিলের মাধ্যমে সম্পাদন করে দেন কয়েক কোটি টাকার বিনিময়ে। সরকারী সম্পত্তি বিক্রয়, আত্মসাতের দায়ে জামিলুর রহমান সহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুদক কে মামলা করার সুপারিশ করেন তদন্ত কমিটি ও তৎকালীন সাব-রেজিষ্ট্রার বর্তমান জেলা রেজিষ্ট্রার চট্টগ্রাম খন্দকার জামিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল।

তৎকালীন গাজীপুর জেলা রেজিষ্ট্রার হাসিনা বেগম এর ছত্র ছায়ায় থেকে এই ধরনের জাল জালিয়াতি করে হাতিয়ে নিয়ে ছিলেন কোটি কোটি টাকা এবং তার অবৈধ টাকার প্রভাবে লীগ সরকারের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সেই সকল অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে যায়। রানায়ণগঞ্জ জেলা রেজিষ্ট্রার কর্মরত থাকাকালীন বি আর এস এর সভাপতি পদবটি বাগিয়ে নেওয়ার পরে জেলা রেজিষ্ট্রার হিসেবে চট্টগ্রামে বদলী হয়েছেন তিনি অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে। জেলা রেজিষ্ট্রার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি, যার তথ্য আজকের সংবাদের হাতে আছে।

সূত্রে জানা যায় গাজিপুর জেলার শ্রীপুরে কর্মরত থাকাকালীন সাব-রেজিষ্ট্রার মোঃ ওসমান গণি মন্ডল (মুজিবনগর কর্মচারী) অবাধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ঘুষের রাজ্যত্ব কায়েম করে চলেছিলেন শ্রীপুর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে। সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডল নারী রেলেঙ্কারীতেও পিছিয়ে নেই। তার অধীনে সুন্দরী নকল নবিশদেরকে বিভিন্ন ভাবে কুপ্রস্তাব দেন, তার ইশারায় রাজি না হলে বিভিন্ন হয়রানি হতে হয় তাদেরকে। এবং প্রকাশ্যে এজলাসে বসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাচ করেন বলে একাধিক সূত্রে জানান নাম প্রকাশ নার শর্তে।

সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি’র বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য হয়রানি’তে দিশেহারা অতিষ্ট হয়ে পড়েছিলেন। সেবা নিতে আসা দাতা- গ্রহিতারা এছাড়াও দুর্নীতির আখরা পরিণত করেছেন শ্রীপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসকে, তার সিন্ডিকেটের বাহিরে দলিল করা অসাধ্য ছিল। সূত্রে জানা যায়, মুজিবনগর কর্মচারী হিসেবে সাব রেজিষ্ট্রার পদে ০৭-১২-২০০৯ সালে চাকুরিতে যোগদান করেন তিনি। অথচ তার জন্ম তারিখ দেওয়া হয়েছে ২৪-০৭-১৯৬৬ সাল ৭ বছর বয়সে তিনি নাকি মুক্তিযোদ্ধায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

মহাক্ষমতাধর সাব রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি মন্ডলের বেপরোয়া হয়ে কাউকে তোয়াক্কা না করে দাপিয়ে বেড়িয়ে ছিলেন শ্রীপুর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে। সাব রেজিষ্ট্রার পদে চাকরিতে জীবন বৃত্তান্তে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন বি.এ পাস অথচ খোজ নিয়ে জানতে পারি তিনি নাকি টাইনে টুইনে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। এইচ.এস.সি ও বি.এ পাসের শিক্ষা সনদ জাল করে এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা দেখিয়ে সাব রেজিষ্ট্রার পদে চাকরি বাগিয়ে নেন তিনি। সাব রেজিষ্ট্রার পদে চাকরিতে যোগদানের পর হইতে বনে যান রাতারাতি কোটিপতি।

একাধিক ফ্ল্যাট, অসংখ্য প্লট তার দেশের বাড়ীতে কয়েক একর অবৈধ সম্পদের মালিক তিনি নামে-বেনামে ও তার আত্মীয়-স্বজনের নামে। হয়তো ক্যালকুলেটরেও ধরবে তার সম্পদের টাকার অংক ডজন, ডজন প্লট, ফ্ল্যাট, ৬ষ্ঠ তলা বাড়ী, একর একর জায়গা জমি কি নেই তার সরকারী চাকুরীর বেতনের টাকা দিয়ে এত সম্পদ বানালেন কোন পথে ওসমান গণি মন্ডল। রাজধানী উত্তরায় ১২নং সেক্টরে ১৩নং রোডে ৫ কাঠা জায়গার উপরে ৬ষ্ঠ তলা বাড়ী নির্মাণ করেছেন কয়েক কোটি টাকা খরচ করে। এছাড়াও তার দেশের বাড়ী কুড়িগ্রামে ২য় তলা ডুপ্লেক্স বাড়ী করেছেন কোটি টাকা খরচ করে। নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন সাব রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি।

দুদক খতিয়ে দেখলে তার অঢেল সম্পদের খোজ মিলবে। সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে বদলি হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে ২৮-১০-২০১০ সালে যোগদান করে বেপরোয়া হয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যে রাজ্যত্ব কায়েম করে চলেছিলেন তিনি। তৎকালীন সময় তার বিরুদ্ধে আইন মন্ত্রণালয় কিংবা আইজিআর অফিসে আর্থিক দূর্নীতি, শ্রেণি পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া অভিযোগ করলেও তার কালো টাকার প্রভাবে সেই সকল অভিযোগ আলোর মুখ দেখেনি আজও পর্যন্ত।

অভিযোগ রয়েছে কেরানিগঞ্জ মডেল সাব রেজিষ্ট্রার দায়িত্বে থাকাকালীন বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানীর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল সম্পাদন করতেন। এছাড়াও মিনিয়াম সিটি হাউজিং কোম্পানীর মালিক তাজুল ইসলামের নিকট হইতেও দলিলের শ্রেণি পরিবর্তন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। তার আর্থিক সুবিধার কারণে কোটি কোটি টাকার রাজ্যস্ব বঞ্চিত হয়েছে সরকার। সূত্রে আরোও জানা যায়, লোভনীয় জায়গায় পোস্টিং নেওয়ার জন্য সাবেক আইন মন্ত্রীর রাজনৈতিক এপিএস বাবু ও আইন মন্ত্রণালয়ের কর্তা ব্যক্তিদেরকে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ২০২২ সালে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে সাব রেজিষ্ট্রার পদে বদলি হয়ে যান তিনি।

যোগদানের পর হইতে বেপরোয়া হয়ে দলিলের ধরন বুঝে ঘুষ নির্ধারণ করে থাকেন তিনি। যে সকল দাতা- গ্রহিতা কিংবা দলিল লেখকগণ তার দাবীকৃত ঘুষের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নাল জমি হয়ে যায় ভিটা, আবাসিক অথবা খাস জমির দোহাই দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি স্বীকার হতে হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখকগণ এই প্রতিবেদক কে জানান। সূত্রে জানা যায়, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই মুজিবনগর সাব রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি চাকরি হইতে অবসরে যাবেন ২৩-০৭-২০২৫ সালে, যে কারণে বেপরোয়া হয়ে ঘুষ বাণিজ্য রাজ্যত্ব কায়েম করে চলেছেন। টাকা পেলে সরকারী বন বিভাগের জমিও ব্যক্তি মালিকানা রেজিষ্ট্রি করে থাকেন ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেন এক শ্রেণির অসাধু দলিল লেখকের সহযোগিতায়।

বিগত আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকালীন তিনি আওয়ামীলীগের বড় নেতা বলে দাবী করতেন। সাব-রেজিষ্ট্রার এর ঘুষ দূর্নীতিতে চাম্পিয়ন নামে খ্যাতি অর্জন করেছেন সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি। আইন মন্ত্রণালয়কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বদলীকৃত স্থানে যোগদান না করে পুনরায় গাজীপুর কালিয়াকৈর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে বদলী হয়ে আসায় এখন সাধারণ সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।

অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য সাব রেজিষ্ট্রার ওসমান গণির মোবাইলে ফোন দিলে তিনি আজকের সংবাদকে জানান আমার বিরুদ্ধে যা পারেন লিখেন আমার হাত অনেক লম্বা বলে লাইনটি কেটে দেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আজকের সংবাদকে জানান সাব-রেজিষ্ট্রার ওসমান গণি দূর্নীতির ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।