মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগীতায় দেশে প্রথম সামুদ্রিক কোরালের সফল কৃত্রিম প্রজনন

মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোষ্টাল এন্ড মেরিনফিশারিজ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় গবেষণা করে সামুদ্রিক কোরালের কৃত্রিম প্রজননে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো সফলতা পেয়েছেন কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার গ্রিনহাউজ মেরিকালচারের গবেষকেরা।

মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগীতায় দেশে প্রথম সামুদ্রিক কোরালের সফল কৃত্রিম প্রজনন

মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোষ্টাল এন্ড মেরিনফিশারিজ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় গবেষণা করে সামুদ্রিক কোরালের কৃত্রিম প্রজননে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো সফলতা পেয়েছেন কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার গ্রিনহাউজ মেরিকালচারের গবেষকেরা। এর মধ্য দিয়ে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকাসহ অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশও কোরাল মাছের পোনা উৎপাদন ও চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের রফতানিখাতে একটি নতুনপণ্য যোগ করতে এবং দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রিনহাউজ মেরিকালচার হ্যাচারির মালিক তারিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সামুদ্রিক কোরাল প্রজননের সফলতা অত্যন্ত আনন্দের। এখন থেকে এই হ্যাচারিতে জন্ম নেওয়া কোরালের পোনা নোনা ও মিঠা পানিতে চাষ করা যাবে। এই হ্যাচারিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরামর্শ দাতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রথম বারের মতো এই সফলতা পাওয়া গেছে।হ্যাচারির প্রধান গবেষক মোদাব্বির আহমেদ খন্দকার বলেন, ‘গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় হ্যাচারির ট্যাংকে একটি মা কোরাল প্রায় ১০ লাখ ডিম দেয় এবং সেখান থেকে প্রায় ছয় লাখ রেণু পোনা জন্ম নেয়। এখন রেণু পোনার প্রতিপালন চলছে। বড় হলে ক্রমান্বয়ে রেনু পোনা নার্সারি পুকুরে ও চাষাবাদ পুকুরে ছাড়াহবে। এই মাছ সমুদ্রের নোনা পানির খাঁচা, উপকূলের স্বল্প নোনা পানির পুকুর ও মিঠা পানির পুকুওে চাষ করা যাবে।

গ্রিনহাউজ মেরিকালচার হ্যাচারির জেনারেল ম্যানেজার মাহমুদুল হক বলেন, ‘সাতজন গবেষক তিন বছর ধরে সামুদ্রিক কোরালের কৃত্রিম প্রজনন নিয়ে কাজ করছেন। দেশে এই সামুদ্রিক কোরাল বা  ভেটকির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার অথবা উন্নয়ন সহযোগীরা এগিয়ে এলে এই খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন আসবে।

কোরালের কৃত্রিম প্রজনন ছাড়াও নার্সারি ব্যবস্থাপনা, মেরিকালচার ব্যবস্থাপনা ও চাষের সময়ে গ্রিনহাউজ মেরিকালচার বিভিন্ন স্তরের মানসম্পন্ন খাদ্য প্রস্তুত করবে বলে জানান মাহমুদুল হক। তিনি বলেন, ‘এসব ছাড়াও চাষাবাদে কারিগরি বিষয়ে প্রান্তিক চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ থাকবে।

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে সরকার কক্সবাজারসহ উপকূলীয় অন্যান্য জেলায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রায়োগিক গবেষণা কাজ পরিচালনা করছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী।তিনি জানান,‘বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ‘সাসটেইনেবল কোষ্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প’ থেকে গবেষণা সহায়তায় গ্রিনহাউজ মেরিকালচার এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে। আর এই গবেষনার ফলে নিরবিচ্ছিন্ন পোনা সরবরাহের মাধ্যমে সামুদ্রিক কোরাল বা সী বাস চাষে প্রান্তিক চাষিরা ব্যাপক সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

কক্সবাজার চেম্বার অবকমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, ‘কক্সবাজার পর্যটন শহর। রোহিঙ্গাসহ প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বসবাস। কোরাল স্থানীয়ভাবে খুবই জনপ্রিয়। সামুদ্রিক কোরাল মাছের কৃত্রিম প্রজনন খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে কোরাল দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে পাঠানো যাবে।