পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে চলছে হরিলুট।। দেখার কেউ নেই

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে চলছে হরিলুট।। দেখার কেউ নেই

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বণ বিভাগে চলছে হরিলুট। খোদ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নানান অনিয়ম অব্যাহত থাকলেও দেখার কেউ নেই। উত্থাপিত অভিযোগ সমূহের মধ্যে রয়েছে জোত ভূমিতে অল্প গাছ থাকা সত্ত্বেও ১০ গুণ বেশি গাছ দেখিয়ে জোত পারমিট ইস্যু,  ২০১৮ সালের বরকল ফরেস্ট অফিসের অধীনে আটককৃত ২ লাখ ঘণফুট কাঠের  সাথে নতুন করে বিভিন্ন বাগান থেকে গাছ কেটে ডি ফর্মের আড়ালে দুর্নীতি, ৭০০ একর বনভূমিতে ANR বাগান সৃজনে বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ২০% টাকা কমিশন গ্রহণ, নিজের খাওয়া বাবদ বিভিন্ন রেঞ্জ/ স্টেশন থেকে ৩০,০০০ টাকা হারে মাসিক আদায় করার অভিযোগ অন্যতম। 

প্রাপ্ত তথ্য মতে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হিসেবে ছালেহ মোঃ শোয়াইব খান যোগদানের পর থেকেই এই বিভাগে অনিয়ম ও দুর্নীতির রেকর্ড ইতোপূর্বকার সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। চাকুরির শেষ মুহূর্তে এসে তিনি আখের গোছাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। 
এই বন বিভাগের আওতাধীন ৭টি রেঞ্জ ও ৫টি স্টেশনে কর্মরতদের উপর খবরদারি করে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে দুহাতে অবৈধ উপার্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এতে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হলেও কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ উজাড়ের ঘটনা ঘটছে। তিনি মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করে এই বন বিভাগে পোস্টিং নিয়ে এসেছেন বলে অধীনস্থদের জানিয়ে বিনিয়োগকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার সহ আর্থিক লাভবান হতে সকল অনিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য করছেন বলে তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী সুত্রে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে এই বন বিভাগে তিনি যোগদানের পরপরই বরকল, সুবলং ও আলিখিয়াং রেঞ্জ এলাকায় জোত ভূমিতে অল্প গাছ থাকা সত্ত্বেও বেশি গাছ দেখিয়ে জোত পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ উজাড় করিয়েছেন।
পাশাপাশি ঐ জোত পারমিটের অনুবলে  সওদাগরদের মাধ্যমে বিভিন্ন বনভূমি থেকে ১০ গুণ কাঠ কাটিয়ে সিএফটি প্রতি ৬ টাকা হারে ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জ  অফিসারদের মাধ্যমে আদায় করে নিজেই লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
অন্যদিকে ২০১৮ সালে বরকল ফরেস্ট অফিস অধীনে ২ লাখ গণফুট গাছ আটক করা হয়। যা প্রায় নষ্ট হবার উপক্রম হলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বিভিন্ন বাগান থেকে নতুনভাবে আরো ২ লাখ ঘনফুট কাঠ সংগ্রহ করে পুরনো ডি ফর্মের আড়ালে তা হালাল করে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। 
এই জালিয়াতিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন বড়কল স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার নজরুল ইসলাম। বিষয়টি বর্তমানে রাঙ্গামাটি দুদক অফিসের তদন্তাধীন।
২০২১-২২ অর্থবর্ষে কাপ্তাই রেঞ্জ, কর্ণফুলী রেঞ্জ, আলিখিয়াং রেঞ্জ ও ফারুয়া রেঞ্জ এলাকায় প্রায় ৭শ একর বনভূমিতে ANR বাগান সৃজন করা হয়। উক্ত বাগানে বরাদ্দকৃত টাকার ২০ শতাংশ টাকা তিনি তার কমিশন হিসেবে নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তাগন বরাদ্দকৃত টাকার অবশিষ্ট নিয়ে নিয়ম মোতাবেক বাগান করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি নিজের খাওয়া খরচার নামে সদর, কর্ণফুলী কাপ্তাই, সুভলং, আলিখিয়াং, ফারুয়া ও সাংগাইছড়ি রেঞ্জস সহ রাইখিয়াং, বরকল, ঘাঘরা, বড়ইছড়ি ও চন্দ্রঘোনা স্টেশন থেকে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা হারে প্রায় ৪ লাখ টাকা আদায় করে থাকেন।
সূত্রমতে এ কর্মকর্তা ইতোপূর্বে সুন্দরবন, চট্টগ্রাম ও কুষ্টিয়া বন বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ অনৈতিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন যা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশসহ মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল বলে জানা যায়।
তিনি কুষ্টিয়া বন বিভাগে কর্মরত থাকাকালীন তার বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগী ফরেস্টার আব্দুল হামিদকে সম্প্রতি এই বন বিভাগে বদলি করিয়ে এনে সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন। ২০১৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত এই ফরেস্টারকে ঐ রেঞ্জে নিয়োজিত ১৯৯০ ও ১৯৯৬ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ জন জ্যেষ্ঠ ফরেস্টারকে বাইপাস করে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সরকারী স্বার্থে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সমূহ অবিলম্বে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে পরিবেশবিদগন মনে করেন। এতদ্বসংক্রান্তে মতামত নিতে এই কর্মকর্তার অফিসিয়াল নাম্বারে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি।