‘ফকল্যান্ড’ ব্যানার ইস্যুতে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন জানাল হোয়াইট হাউস

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৮:১৫:২৫

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে সমর্থন জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে হোয়াইট হাউস বলেছে, খেলোয়াড়দের এমন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ও অধিকার আছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠে 'Las Malvinas son Argentinas' (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। বিষয়টি ফিফার রাজনৈতিক বার্তা নিষিদ্ধ সংক্রান্ত নীতিমালার লঙ্ঘন হতে পারে বলে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্স প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর আওতায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। খেলোয়াড়দের সেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ও অধিকার রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের এই মন্তব্যে ফকল্যান্ড ইস্যুর বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট ফিফার তদন্তের দাবি সমর্থন জানায়।

ডাউনিং স্ট্রিটের একজন মুখপাত্র বলেন, বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের। ফকল্যান্ডের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কখনো বদলাবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটি সম্পূর্ণ ফিফার সিদ্ধান্তের বিষয়।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসনও ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি জড়ানো উচিত নয় এবং ফিফার নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রশাসনের ভাষ্য, আমরা চাই না খেলাধুলাকে রাজনৈতিক বার্তা ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হোক। ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের প্রতিবারই ফকল্যান্ডকে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোও কাম্য নয়।

২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ৯৯.৮ শতাংশ ভোটার যুক্তরাজ্যের অধীন ব্রিটিশ ওভারসিজ টেরিটরি হিসেবেই থাকার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

এদিকে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েলও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এটি শুধু আরেকটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না। ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার।

তিনি আরও দাবি করেন, স্টেডিয়ামে ফকল্যান্ডের ব্যানার নিষিদ্ধ করা হলেও তা আর্জেন্টাইনদের রক্তে ও হৃদয়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধে ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা, তিনজন দ্বীপবাসী এবং ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন সেনা নিহত হন। এরপর থেকে দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এজেএ