জুনের শেষে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর-ডেপুটি স্পীকার

১১ জুন চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং এ ৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডেপুটি স্পীকার জানান বাংলাদেশের নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তার সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে সফরের জন্য চীনকে বেছে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সাথে চীনের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে এবং উভয় দেসের সমন্বিত কৌশলগত সহযেগিতাকে আরেক ধাপ এগিয়ে দিবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডেপুটি স্পীকার প্রসঙ্গক্রমে ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর চীন সফরের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের শুভ শূচনা হয় তার হাত ধরেই।
যার ধারাবাহিকতায় মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০২ সালে ঐতিহাসিক চীন সফর সে বন্ধুত্যপূর্ণ সম্পর্ককে আরো জোরদার করেন।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রনীত পররাষ্ট্রনীতিতেই আন্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি বিদ্যমান আছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জিয়াউর রহমানের দক্ষিন এশিয়া আন্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) গঠনের উদ্যোগের কথা ফোরামে তুলে ধরেন। তিনি এমন এক দক্ষিন এশিয়ার স্বপ্ন দেখতেন যেখানে দেশগুলো তাদের জনগণের জন্য শান্তি, উন্নতি এবং সমৃদ্ধির জন্য এক সাথে কাজ করবে। এই প্রেক্ষাপটে আন্চলিক সহযোগিতা এবং আলোচনার প্লাটফর্ম হিসেবে সার্ককে অবশ্যই কার্যকর করার সময় হয়েছে এখন।
দক্ষিন এশীয় দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের অভজার্ভার দেশ হিসেবে চায়না সার্ককে কাজে লাগাতে পারে বলে ডেপুটি স্পীকার মনে করেন।
ডেপুটি স্পীকার বৈশ্বিক বর্তমান জ্বালানী সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, বিশ্ব বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা ইত্যাদি চ্যালেন্জ মোকাবেলা কোন একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য আন্চলিক সহযোগীতা বর্তমান বিশ্বে একটি অপরিহার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে সম্পর্কের ভীত মজবুত করে ডিজিটাল এবং অর্থনৈতিক বহুমুখী উদ্যোগ , আন্তঃ সীমানা অবকাঠামো, বানিজ্য করিডোর এবং ডিজিটাল হাইওয়ে, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং তরুনদের অভিজ্ঞতার আদান প্রদান ইত্যাদি সময়োপযোগী পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি করে একযোগে বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলা করতে হবে।
৭ম চায়না-সাউথ এশিয়া কোঅপারেশন ফোরামে আরো বক্তব্য রাখেন ইউনান প্রভিন্সের গভর্নর মিঃ ওয়াং ইউরো, নেপাল ন্যাশনাল এসেম্বলির ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা কুমারী বান্দরী, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইরাথিশাম আদাম, শ্রীলংকার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিঃ অরুন হিমাচন্দ্র, সার্কের মহাসচিব মোঃ গোলাম সরওয়ার, চায়নাস্থ পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মিঃ খলিলুর রহমান, চায়নাস্থ আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত মিঃ আসাদুল্লাহ বিলাল কারিমি, ভূটানের শিল্প, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য মন্ত্রী মিঃ কর্মা দর্জিসহ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
এর আগে ডেপুটি স্পীকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দল ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন যেখানে বাংলাদেশের বাংলাদেশের বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুকতাদির বাংলাদেশের বানিজ্য ডেলিগেটের প্রধান হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এবারের ১০ম চায়না এক্সপোজিশনের থিম কান্ট্রি বাংলাদেশ হিসেবে বাংলাদেশের ৮৪ টি প্যাভিলিয়ন মেলায় অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের মোট ৯০ টি দেশ কুনমিং এর এ বিশাল বানিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ করছে।
বাংলাদেশে ও চায়নার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় সমূহ নিয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় দল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মিঃ ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিং এর সাথে একান্তে বৈঠক করেন। বাংলাদেশের সংসদীয় দল কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, ইকোনমিক জোন পর্যটন, তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। চীনের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলাদেশের সাথে চীনের দীর্ঘ দিনের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে চীন কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
ডেপুটি স্পীকার চীনা প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তারা আন্তরিকভাবে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অচিরেই বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
সংসদীয় দলের অন্যরা হলেন এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন এমপি, বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব ও সংরক্ষিত স্বতন্ত্র এমপি জেসমিন সুলতানা জুঁই।
