নেত্রকোণা শহরের বড়বাজারজুড়ে আগুনের তাণ্ডব, দেড় কোটি টাকার ক্ষতি
মধ্যরাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নেত্রকোণা শহরের বড়বাজারজুড়ে। একের পর এক দোকান ও বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মালামাল ও ঘরবাড়ি।
ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান ও তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড়বাজারের সুচিত্রা স্টোর থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে দাবি স্থানীয়দের। প্রথমে একটি দোকানে আগুন দেখা গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। দ্রুত পাশের দোকান ও বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। আতঙ্কে মানুষজন দোকানপাট ও ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন।
খবর পেয়ে নেত্রকোণাসহ আশপাশের স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় শুরু হয় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। প্রায় দুই ঘণ্টার প্রাণপণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে পুড়ে যায় সুচিত্রা স্টোর, উর্তি স্টোর, মজুমদার ইলেকট্রনিক্স, একটি জুতার দোকান ও একটি সিরামিকসের দোকানসহ ছয়টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। আগুনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পায়নি বসতবাড়িও। পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে প্রান্ত সাহা, শুভ সাহা ও লিটন চৌধুরীর আধাপাকা টিনশেড ঘর।
আগুন নেভানোর সময় নেত্রকোণা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার খানে আলম খানসহ তিন সদস্য আহত হন। তাঁদের নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁরা আশঙ্কামুক্ত। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে কয়েক কোটি টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
নেত্রকোণা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদ থাকবে বলেও জানান তিনি।