ভুয়া ভাউচারে ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন নাচোল মেয়রের
পৌরভবন নির্মাণ না করেই ভুয়া ভাউচারে ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু।
পৌরভবন নির্মাণ না করেই ভুয়া ভাউচারে ৬০ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু। এই টাকা ছাড়াও পৌরসভায় নিয়োগ বাণিজ্য, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ঝালুর বিরুদ্ধে। মেয়র হিসাবে চেয়ারে বসার পর থেকে পৌরসভায় চলছে তার একক আধিপত্য। অভিযোগ আছে, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় এই মেয়রের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো কর্মচারী ও কাউন্সিলররা ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব চিত্র উঠে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌরসভা-২ শাখা থেকে ২০১৭-১৮ এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেট (থোক বরাদ্দ) থেকে নাচোল পৌরসভার নতুন ভবন সম্প্রসারণের নির্মাণের জন্য ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। কিন্তু মেয়র ঝালু পৌর ভবন নির্মাণ না করেই ভবন নির্মাণের পুরো টাকাই ভুয়া বিল ভাউচার দিয়ে উত্তোলন করে নেন। কাগজে-কলমে ভবন নির্মাণ দেখানো হলেও বাস্তবে এর অস্তিত্ব নেই। অথচ বরাদ্দপত্রের ৭ নম্বর কলামে নির্দেশনায় স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, বরাদ্দকৃত খাত ছাড়া অন্য কোনো খাতে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না। পৌরসভা-২ শাখার ৪৬.০০.০০০০.০৬৪.১৪.০৫৭.১৫-৬৯৯ নং স্মারক মূলে ১৭-৫-২০১৮ তারিখে উপসচিব ফারজানা মান্নান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যয় সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এদিকে ভবন নির্মাণে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তার তথ্য গোপন করেন পৌর মেয়র কাউন্সিলরদের কাছে। কোনো কাউন্সিলরই জানেন না যে ভবন নির্মাণে ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছিল।
কাউন্সিলর মতিউর রহমান বলেন, আমি দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করে আসছি। মেয়র ঝালু সে সময়ে আমাদের জানিয়েছিলেন, ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। কি কাজে এসেছে তা স্পষ্ট করেননি মেয়র। সে সময়ে কিছু টাকা কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়েছিল আর বাকি টাকা মেয়র কি করেছেন তা আমি বলতে পারব না। পৌরসভা নির্মাণের পর নতুন করে কোনো ভবন নির্মাণ হয়নি। পৌরসভার সাবেক এবং বর্তমান কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সাল থেকে বর্তমানে কাউন্সিলর হিসাবে আছি। মেয়র কোনো বরাদ্দ বা কাজের বিষয়ে আমাদের বলেন না। তিনি এককভাবে সবকিছু করেন। যখন পিডি পরিদর্শনে আসেন তখন মেয়র আমাদের হ্যাঁ বলতে বলেন।
যোগাযোগ করা হলে পৌর মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু বলেন, ভবন নির্মাণের বরাদ্দ এসেছিল, নির্মাণ কাজ এ বছরে শুরু হবে। এদিকে ভবন নির্মাণের মেয়াদ ২০১৯ সালের ৩০ জুন শেষ হয়েছে, তাহলে আপনি এখন ভবন নির্মাণ কীভাবে করবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মোবাইল ফোনটি কেটে দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।