বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত এমডি'র বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

সীমাহীন অযোগ্যতা, অদক্ষতা, উদাসীনতা ও গুরুতর আর্থিক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড এর ভারপ্রাপ্ত এমডি মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত এমডি'র বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

সীমাহীন অযোগ্যতা, অদক্ষতা, উদাসীনতা ও গুরুতর আর্থিক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড এর ভারপ্রাপ্ত এমডি মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত ৪ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই অভিযোগ জমা পড়েছে।

অভিযোগকারী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ কায়সার হোসেন। লিখিতভাবে আনা অভিযোগে তিনি জানান, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড এর ভারপ্রাপ্ত এমডি মোঃ শফিকুল ইসলাম একজন অযোগ্য ও অদক্ষ কর্মকর্তা। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেুছেন। তিনি স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করছেন এবং তাদের পরামর্শ মত বংগবন্ধু স্যাটেলাটকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বংগবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সকল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশনা দিলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে তার কোন আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তিনি সরকারী গাড়ীর যথেষ্ট অপব্যবহার করছেন। মোটা অংকের টাকা বেতন নিলেও কোম্পানির উন্নয়ন অগ্রগতিতে কোন ভুমিকা নিচ্ছেন না। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে কোম্পানির পরিচালকদের অংশ গ্রহনের উদ্যোগ নেন না।

২০২০ সালের ডিজিটাল মেলার স্টলে কোন পরিচালকদের অংশ গ্রহনের ব্যবস্থা নেন নি। ফলে তথ্য উপদেষ্টার কাছে বংগবন্ধু স্যাটেলাইটের কার্যক্রম সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। তার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান ক্রমান্বয়ে নিন্মমুখি হয়ে পড়ছে। চুক্তিপত্র অনুযায়ী সকল মিডিয়া গ্রাহকের কাছ থেকে পাওনা টাকা আদায় করার ক্ষেত্রেও তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোন জবাবদিহিতা নেই। একটি সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে জনগনের দারপ্রান্তে পৌছাতে তার কোন উদ্যোগ নেই। তিনি বোর্ড সভায় তথ্য উপাত্ত ছাড়াই হাজির হন। কোন পরিচালকের প্রশ্নের নথিগত জবাব দিতে পারেন না। কোম্পানির পক্ষে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক না থাকায় যে গতিতে কোম্পানির অগ্রগতি হওয়ার কথা তা হচ্ছে না।

এতে করে বংগবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড অত্যন্ত ধীরগতিতে পরিচালিত হচ্ছে। যতটুকু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তা কেবলই চেয়ারম্যান মহোদয় ও ডাক বিভাগের একাগ্রতা ও নিষ্ঠার কারণে। ভারপ্রাপ্ত এমডি মোঃ শফিকুল ইসলাম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন ছাড়াই তার খেয়াল খুশিমতই কোম্পানির বিবিধ কার্যক্রম সমাধা করেন যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

তিনি নিজে একজন জিএম (টেকনিক্যাল)  হলেও কোম্পানির অগ্রগতিতে কোন পদক্ষেপ নেন না। তিনি সরকারী নথিপত্রে স্যাটেলাইট-২ না লিখে পরবর্তী স্যাটেলাইট লিখে থাকেন যা তার অযোগ্যতার প্রমাণ বহন করে। এসব কারণে তাকে এই পদ থেকে অপসারণ ও তার আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি তদন্তের দাবী তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ভারপ্রাপ্ত এমডি মোঃ শফিকুল ইসলামের দপ্তরে বার বার ফোন করেও তার নাগাল পাওয়া যায়নি। প্রতিবারই বলা হয়,স্যার মিটিং এ ব্যস্ত আছেন,পরে কল করুন।