সার বিক্রয় বন্ধের হুশিয়ারী ব্যবসায়ীদের
আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাবি না মানলে সার বিক্রয় ও সরবরাহ বন্ধ করে সারা দেশে অবরোধ কর্মসূচি পালনের হুমকি দিয়েন সার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ অলিউর রহমান।
আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাবি না মানলে সার বিক্রয় ও সরবরাহ বন্ধ করে সারা দেশে অবরোধ কর্মসূচি পালনের হুমকি দিয়েন সার ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ অলিউর রহমান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫ বাতিলের দাবিতে আজ ২২ এপ্রিল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সার ডিলারদের সংগঠন বিএফএ ও খুচরা সার বিক্রেতাদের যৌথ আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সারা দেশ থেকে আগত কয়েক হাজার সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, ২০২৫ সালের নীতিমালা অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু আমলা একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে অংশীদারদের মতামত না নিয়ে তাড়াহুড়ো করে এই নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। এটি বাস্তবায়ন হলে বিদ্যমান ৪৬ হাজার খুচরা সার বিক্রেতা বেকার হয়ে যাবে এবং মাঠপর্যায়ে তাদের বিনিয়োগকৃত লক্ষ লক্ষ টাকা অনাদায়ী থেকে যাবে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
এমতাবস্থায় আগামী ৭ দিনের মধ্যে জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা ২০২৫ বাতিল করে সকল অংশীদারদের মতামত নিয়ে নতুন করে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। নতুবা সারাদেশব্যাপী সকল সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাগণ কৃষকদের কাছে সার বিক্রয় ও সরবরাহ বন্ধ করে দেবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সারাদেশে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করে রাস্তাঘাট অচল করে দেওয়া হবে বলেও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এর ফলে সামনে আমন মৌসুমে কৃত্রিম সার সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং কৃষি খাতে বিরাট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। এর দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।
ইতিপূর্বে সার ডিলারদের দাবিতে জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা ২০২৫ বাতিলের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আরও দু’বার বিএফএ ও খুচরা সার বিক্রেতাগণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তারা বলেন, এরপরও সরকার এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো সুষ্ঠু সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
সম্প্রতি কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদের নির্দেশে সার নীতিমালা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের করণীয় বিষয়ে অধিকতর পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম খানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রধান সেলিম খানের কাছে তার কমিটির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুচরা সার বিক্রেতাদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। সরকার সকল অংশীদারের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।