ফ্যাসিস্টের দোসর মসয়ূদ মান্নান এখনও এফপিএবির সভাপতি পদে বহাল থাকলেও দেখার কেউ নেই
এফপিএবির সভাপতি মসয়ূদ মান্নানের স্বেচ্ছাচারিতা,অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মচারীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছেন।
এফপিএবির সভাপতি মসয়ূদ মান্নানের স্বেচ্ছাচারিতা,অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কর্মচারীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছেন। আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি’র কর্মকর্তা - কর্মচারী বৃন্দ। আন্দোলনরত কর্মচারীরা লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি) ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে যৌন প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, মা শিশু স্বাস্থ্য সেবা, বয়:সন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সেবা, বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। এফপিএবি একটি অরাজনৈতিক ও অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান যা দাতা সংস্থা আইপিপিএফ (International planned Parenthood federation)এর গঠনতন্ত্র নিয়মকানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে।
আইপিপিএফ বাংলাদেশ সহ ১৮৯ টির বেশি দেশে ১৪৯টি সংগঠন নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিগত ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের অবৈধ এমপি এবং কিছু স্বার্থান্বেষী স্বেচ্ছাসেবক ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আইপিপিএফ এর গঠনতন্ত্র পরিপন্থি ভাবে কমিটি দখল, নিয়মবহির্ভূত নির্বাচনের কারণে আইপিপিএফ তাদের ফান্ড সাময়িক বন্ধ রাখেন। তখন সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের ২৩ মাসের বেতন বকেয়া হয়ে যায়। ২০১৯ সালে আইপিপিএফের সাথে পুনরায় সকল সমস্যার সমাধান হলে আবার ফান্ড চালু হয় তখন বেতন ভাতা পুনরায় চালু হয়। কিন্তু দাতা সংস্থা বেশকিছু সংস্কার প্রস্তাব করেন। যা তদানিন্তন কমিটি সংস্কার না করে ২০২২ সালে আইপিপিএফ এর নিয়ম না মেনে অবৈধভাবে গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন করে নির্বাচন দেন ফলে আইপিপিএফ আবার বাংলাদেশের সদস্য পদ সাময়িক স্থগিত করেন। অবৈধ কমিটির বিরুদ্ধে মহামান্য আদালতে মামলা হয়। যার ফলশ্রুতিতে আদালতের রায়ে সমাজসেবাকে দায়িত্ব প্রদান করেন, অবৈধ কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন করে আইপিপিএফের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন করার জন্য সমাজসেবা প্রশাসক নিয়োগ করেন।
সমাজসেবার প্রশাসক হেলাল উদ্দিনসহ তিনজন মিলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন। কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে প্রশাসক মহোদয় নির্বাচনের তারিখ নিয়ে তালবাহানা করা শুরু করেন। পরবর্তীতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদের মুখে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন এবং ২০২৪ সালে আইপিপিএফ এর নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হয় যার প্রধান লক্ষ্য ছিল আইপিপিএফ এর সদস্য পদ ফিরিয়ে নিয়ে আসা, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল বকেয়া বেতন ভাতা পরিশোধ করা, নিয়মিত বেতন ভাতার ব্যবস্থা করা,কিন্তু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য তারা ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যের জৈষ্ঠ্য পুত্র স্বৈরাচার হাসিনার আমলের রাষ্ট্রদূত, মসয়ূদ মান্নান বর্তমান এফপিএবির সভাপতি ৮ মাস পার হয়ে গেলেও কথা রাখেননি, তার স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তার অসহযোগিতা ও অনিচ্ছার কারণে দাতাদের সাথে সঠিকভাবে যোগাযোগ না করার কারণে আইপিপিএফ সম্প্রতি বাংলাদেশে অন্য একটি সংস্থাকে সদস্য পদ প্রদান করেছেন। যাহা আমাদের জন্য গভীর চিন্তার কারণ। ২০১৫ সালের পর থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত স্বার্থান্বেষী মহলের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের ও অত্যাচারের বলি হয়েছেন এফপিএবির সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ।
দীর্ঘ সময় বেতন অনিয়মিত বন্ধ থাকায় সকলেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অর্থের অভাবে অনেকের ছেলে মেয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারছেন না, অসুস্থ হয়ে অনেকেই সুচিকিৎসা পর্যন্ত করাতে পারছেন না, এ সকল চিন্তায় অনেকেই স্টোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকেই অবসরে গিয়েছেন তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে পরবর্তী সময় চলতে পারবেন কিন্তু তারাও তাদের প্রাপ্য টাকা বুঝে পাননি। আর এদিকে স্বৈরাচারী বর্তমান সভাপতি অসহায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের কথা না ভেবে গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বিভিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন। এফবি এবির টাকার ভোগ বিলাসে মেতে উঠেছেন। বিভিন্ন প্রকল্প আনার নাম করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘুরে ঘুরে নিজেকে শুধু পরিচিত করছেন। বন্ধের দিন সহ প্রত্যেকদিন অফিসের গাড়ি ব্যবহার করছেন। সংকটকালীন সময়ে এফপিএবি শাখা ভিজিট দেখিয়ে এপিএবির কষ্টের অর্জিত অর্থ হতে পারডিয়াম গ্রহণ করছেন। নানা রকম দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে নানাভাবে এফপিএবির অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এছাড়াও তিনি কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এফপিএবির গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ভাবে এফপিএবি নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
পরিচালক প্রোগ্রাম, পরিচালক অর্থ, নিয়োগ না দিয়ে উক্ত পদগুলিকে অলিখিত ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। যা এফপি এবির গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। কিছুদিন আগে গোপনীয়ভাবে কাগজে কলমে দেখিয়ে তাদের সাজানো পরিচিত লোক দ্বারা পরিচালক প্রোগ্রাম ও নির্বাহী পরিচালকের পরীক্ষা গ্রহণ করেন এবং একজন পরিচালক প্রোগ্রাম নিয়োগ প্রদান করেন। উক্ত কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবী সহ বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা কর্মচারীদের মনে ক্ষোভ অনাস্থা তৈরি হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে স্বেচ্ছাচারী এফপিএবির বর্তমান সভাপতি মসয়ূদ মান্নান ও তার দোসর দুর্নীতিবাজ সহযোগীদের পদত্যাগ সহ ৭ দফা দাবি নিয়ে কার্যালয় ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছেন।
নিম্নে উল্লেখিত ৭ দফা দাবি সূমহ : (১). ২১ মাসের বকেয়া বেতন ভাতা সম্পন্ন পরিশোধ করতে হবে (২). বেতন ভাতা নিয়মিত প্রদান করতে হবে। (৩). সাবেক সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রাপ্য সকল দেনা পাওনা পরিশোধ করতে হবে। (৪). দাতা সংস্থা আইপিপিএফ এর পূর্ণ সদস্য পদ ফিরিয়ে আনার জন্য সকল কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। (৫). স্বৈরাচারী সভাপতি ও তার দোসর কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা। (৬) অবৈধভাবে সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের হয়রানিমূলক বদলি প্রত্যাহার সহ তা বন্ধ করা। (৭) এফপিএবি এর কর্মকর্তা কর্মচারীদের পরিষদ গঠনের অনুমোদন প্রদান করা।