কয়েদী পাপিয়া, জেলার, ডেপুটি জেলার ও কারা গোয়েন্দা সিন্ডিকেট মিলে মহিলা কারাগারে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম
কাশিমপুর মহিলা কারাগারকে মগের মুল্লুকে পরিণত করেছেন জেলার ফারহানা আক্তার। অন্যদিকে কারাগারে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন সাবেক যুবলীগ নেত্রী সাজাপ্রাপ্ত শামীমা নূর পাপিয়া। কারাগারে জেল কোড বহির্ভূত প্রতিনিয়ত চলমান অবৈধ কর্মকান্ড কারা কর্তৃপক্ষের কাছে গোপন করেছেন মহিলা কারাগারে কর্মরত কারা গোয়েন্দা মঞ্জুয়ারা ও সাদিয়া আক্তার। যে কারণে মহিলা কারাগার হয়ে উঠে লুটপাটের মহাউৎসবে।
সূত্র জানায়, জেলার ফারহানা আক্তার কারা ক্যান্টিন থেকে ২৬ লাখ টাকা আত্ম সাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি তার ইচ্ছে মতো কারা ক্যান্টিনে পন্য বিক্রি করতেন। এরমধ্যে এক কেজি মুরগীর মাংস ১৮শ’ টাকা গরু মাংস ২৬শ’ এক কেজি ওজন্রে একটি ইলিশ ৪ হাজার ২শ’ টাকা মূল্যে বিক্র করতেন তিনি। তার এই সিন্ডিকেটে রয়েছে ডেপুটি জেলার জান্নাতুল তাইয়্যেবা, মেট্রন ফাতেমা আক্তার , কারা গোয়েন্দা সাদিয়া আক্তার। তারা দুর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি কাটার কুমির বনে গেছেন। এ কজন মহিলা কর্মকর্তা কর্মচারী মিলে কারাগারকে পুরোপুরি তাদের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে নেন।
মহিলা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট ওবায়দুর রহমানকে পাত্তাই দিতেন না জেলার ফারহানা আক্তার। মহিলা কারাগার হওয়ার কারণে সুপারেনটেনডেন্ট ইচ্ছে করলেই কারাগার পরিদর্শনের সুযোগ নেই। জেলার ফারহানা আক্তারের সিন্ডিকেট ভাঙা দুর্লভ হয়ে পড়ে এই কর্মকর্তার কাছে।
সূত্র জানায়, কয়েদী শামীমা নূর পাপিয়া সাধারণ বন্দীদের কাছে চাঁদাবাজি করতো ।এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতেন জেলারের এই সিন্ডিকেট। টাকা না দিলেই বন্দীদের মারধর করতো পাপিয়া। কয়েদী রুনাকে মারধরের ঘটনা কারা কর্তৃপক্ষকে জানায়নি কারাগোয়েন্দা সাদিয়া আক্তার। ঘটনার দিন ছুটিতে ছিলেন বলে জানান অপর কারা গোয়েন্দা মঞ্জুয়ারা খাতুন।
পাপিয়া প্রতিমাসে জেলার ফারহানা আক্তার ছয়লক্ষ টাকা নিতেন, ডেপুটি জেলার জান্নাতুল তাইয়্যেবা তিন লাখ টাকা এবং সাদিয়া আক্তার, ফাতেমা আক্তার মাসে লাখ টাকার বেশি পেতেন পাপিয়ার কাছ থেকে । পাপিয়া কোর্ট থেকে ফিরে প্রথমে জেলারের রুমে ঢুকে টাকা ভাগ ভাটোয়ারা করে দিয়ে তারপর রুমে যেতেন। সারাধন কয়েদী হয়েও মোটা অঙ্কের টাকা মাসোহারা দিয়ে রজনীগন্ধার দ্বিতীয় তলায় ডিভিশন-২ থাকার সুযোগ পান পাপিয়া। এ বিষয়ে কারা অধিদপ্তর তদন্ত শুরু করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে, জেলার ফারহানা আক্তার বলেন, সব অভিযোগ সঠিক নয়। তার কোন মন্তব্য পত্রিকায় না লিখার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। ডেপুটি জেলার জান্নাতুল তাইয়্যেবা এবং অন্যদের বক্তব্য জানার জন্য ফোন করা হলে তাদের ফোনে সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে শামীমা নূর পাপিয়াকে কাশিমপুর মহিলা কারাগার থেকে গত সোমবার বিকেলে কুমিল্লা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।