কপ-৩০ দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘ইলিশ বাঁচাও’ দাবিও উত্থাপন বাংলাদেশের
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ দ্বিতীয় সপ্তাহে পা রাখতেই ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩০ দ্বিতীয় সপ্তাহে পা রাখতেই ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ক্ষতিপূরণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। বাংলাদেশ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে-আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে ঋণ নয়, ক্ষতিপূরণ বাবদ নিঃশর্ত অনুদান (গ্রান্ট) চাই।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারি প্রতিনিধিদল জানায়, জলবায়ু ক্ষতির বিপরীতে ঋণ নয়-ক্ষতিপূরণই ন্যায্য দাবি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদা আখতার বলেন- “যারা দূষণ করছে তারাই যেন সুবিধাভোগী, আর আমরা যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি তাদের বলা হচ্ছে ঋণ নাও-এটি অন্যায়। আমরা ঋণ চাই না, নিঃশর্ত ক্ষতিপূরণ চাই। প্যারিস ঘোষণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিও উন্নত দেশগুলো পালন করছে না।”
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন- “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন ‘ডলফিন বাঁচাও’-এর পাশাপাশি আমাদের বলতে হয় ‘ইলিশ বাঁচাও’। ইলিশ রক্ষায় জলবায়ুর প্রভাব বিবেচনায় আরো পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
অতিরিক্ত সচিব মির্জা শওকত আলী প্রথম সপ্তাহের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে জানান- দুবাইয়ের কপ সভায় ঘোষিত ক্ষতিপূরণের ৭ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে এখন সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ জানান- জলবায়ু তহবিলের অন্তত ৩০ শতাংশ অর্থকে অনুদানের পরিবর্তে ঋণ হিসেবে দিতে চায় উন্নত দেশগুলো। “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি-ঋণ নয়, ক্ষতিপূরণ চাই।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক বলেন- “কার্বন নিঃসরণকারী শিল্পোন্নত দেশগুলো মাল্টিট্রেড সুবিধা কমিয়ে কিংবা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।”
এই দিন বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে তরুণ নেতৃত্বের আলোচনা অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। ইয়ুথ লস অ্যান্ড ড্যামেজ গ্রুপের কন্টাক্ট পয়েন্ট এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাসমিমা সাবাতিনা একটি পূর্ণাঙ্গ সাইড ইভেন্ট আয়োজন করেন, যেখানে লস অ্যান্ড ড্যামেজ কাঠামোয় তরুণদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
সম্মেলনের পঞ্চম দিনে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় বিশ্ব সম্প্রদায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।অ্যামাজনের এক লাখ গাছ কেটে ‘রাজকীয় সড়ক’ নির্মাণ করার অভিযোগে ব্রাজিলও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
কপ-৩০ ভেন্যুর পাশেই চলছে ভূমিহীন কৃষক, আদিবাসী, নারী ও তরুণদের বিকল্প জলবায়ু সম্মেলন ‘পিপলস সামিট’, যেখানে অংশ নিয়েছে ৬২ দেশের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। এখানকার দাবি- “জাতিসংঘ আর বিশ্বনেতাদের আশ্বাসে আস্থা নেই; বাস্তব সমাধান চাই।”
বাংলাদেশি প্রতিনিধি দল জানিয়েছে- জলবায়ু অভিযোজন, সামাজিক সুরক্ষা, জীবিকা টিকিয়ে রাখা এবং শক্তিশালী পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল এখন সময়ের দাবি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই পরিবহন ও কার্বন সংরক্ষণে বিশ্ব সহায়তা না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো আরও বিপদে পড়বে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ।