মন্ত্রীর আত্মীয় দাপটে গণপূর্তে বহাল তবিয়তে প্রকৌশলী কামরুজ্জামান

জুলাই অভ্যুস্থানের পরে দেশ সংস্কার শুরু হলেও এখনো বহাল তবিয়তেই আছেন আওয়ামী সরকারের আস্থাভাজনরা।

মন্ত্রীর আত্মীয় দাপটে গণপূর্তে বহাল তবিয়তে প্রকৌশলী কামরুজ্জামান

জুলাই অভ্যুস্থানের পরে দেশ সংস্কার শুরু হলেও এখনো বহাল তবিয়তেই আছেন আওয়ামী সরকারের আস্থাভাজনরা। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের নামে ছাত্র-জনতা হত্যা সহ আওয়ামী স্বার্থ সংশ্লিষ্টটা থাকলেও তারা এখন রয়ে যাচ্ছেন লোকচক্ষুর আড়ালে। অভিযুক্ত প্রকৌশলীদের মধ্যে ঢাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের সার্কেল-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম কামরুজ্জামান একজন। আওয়ামী ক্ষমতা ব্যবহার করে টেন্ডার বানিজ্য ও বদলী বানিজ্যে করে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।  

জানা যায়, কামরুজ্জামান সাবেক সরকারের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর আত্মীয়। এই আত্মীয়তার সুবাদে তিনি গণপূর্তে টেন্ডার বানিজ্য ও বদলী বানিজ্যে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের পছন্দ মতো পদে পদায়নের জন্য বিপুল টাকা উপঢৌকন নিয়েছে তিনি। তার অনুমোদন ব্যতীত গণপূর্তে কোনো বদলি হয়না বলেও অভিযোগ আছে।  

এছাড়াও, কামরুজ্জামান ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-৪ থাকাকলীন ২০২২-২৩ অর্থ বছরে আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগে ৯০ শতাংশ বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি)-র কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার অনুমোদন দিয়ে মোটা কমিশন নিয়েছিলেন। তিনি আওয়ামী পন্থি ঠিকাদারদের কাজ পাওয়ার সুবিধার্থে এই অনুমোদন দিয়েছিলেন। আজিমপুর গণপূর্ত বিভাগের চলমান আবসান কোয়ার্টার থেকে বিপুল কমিশন নিয়ে টেন্ডার সিন্ডিকেট গড়ে তুলে আওয়ামী পন্থি ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

কামরুজ্জামান পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে দীর্ঘ দিন পদায়িত থাকাকলীন ব্যাপক অনিয়ম করেন। পটুয়াখালীর কোষ্টগার্ড ভবন নির্মান প্রকল্পের কাজে দরপত্র অনিয়ম করে আলোচনায় আসেন তিনি। পরবর্তীতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে অগ্রিম বিল প্রদান ও নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করার সুযোগ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

সর্বশেষ গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মন্ত্রীর আত্মীয় দাপটে ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ এর লোভনীয় পোষ্টিং বাগিয়ে নেন তিনি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ক্ষমতার দাপটে ঢাকায় গেঁড়ে বসা প্রায় সকল প্রকৌশলী ঢাকার বাহিরে বদলি হলেও কামরুজ্জামান তার অবৈধ টাকার জোড়ে ঢাকাতেই রয়ে গেছেন।

এই অবৈধ টাকায় তিনি উত্তরা ১২ সেক্টরে ৬ তলা একটি বাড়ি, ঢাকার বসুন্ধারা আবাসিক এলাকার ডি ব্লক একটি ফ্ল্যাট, ধানমন্ডি  ষ্টার কাবাব গলিতে একটি ২০০০ স্কয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট ও গাজীপুরে ৫ একর জায়গার মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে। তার স্ত্রীর নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে কোটি কোটি টাকা সঞ্চয় করেছেন বলে জানা যায়।

এবিষয়ে এ কে এম কামরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যে ফোনে বক্তব্য দেওয়া যাবে না। আপনাকে সরাসরি আমার সাথে দেখা করতে হবে বক্তব্যের জন্য। আমি ফোনে বক্তব্য দিয়ে অপারগ।