ভূমি সংস্কার বোর্ডে চলছে ভয়াবহ জালিয়াতি, দেখার কেউ নেই
ভূমি সংস্কার বোর্ড (কোর্ট অব ওয়ার্ডস) ভাওয়াল রাজ এস্টেট এর সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) রাউফুল আমিন অবৈধ পন্থায় বনে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক।
ভূমি সংস্কার বোর্ড (কোর্ট অব ওয়ার্ডস) ভাওয়াল রাজ এস্টেট এর সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) রাউফুল আমিন অবৈধ পন্থায় বনে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক। তাকে বলা হয় ভূমি সংস্কার বোর্ডের ঘুষ বাণিজ্যের যুবরাজ। বিগত সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট রাউফুল আমিন দীর্ঘ ৮/৯ বছর যাবত সরকারি সম্পত্তি লুট পাটের দোকান বসিয়েছেন ভূমি সংস্কার বোর্ডে।
ভাওয়াল রাজ স্টেট এর সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকার পরও টাকার বিনিময়ে মানুষের হাতে তুলে দিয়ে নিজেই সেজেছেন সেই সম্পত্তির ভক্ষক। বিনিময়ে তিনি বনে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক। আজকের সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে, রাউফুল আমিনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
এ বিষয়ে এম হযরত আলী, প্রধান সহকারি, কোর্ট অব ওয়ার্ডস ভাওয়াল রাজ এস্টেট, দুর্নীতি দমন কমিশন ও ভুমি মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে ২২-২৩২ স্মারক নম্বরে চেয়ারম্যান ভূমি সংস্কার বোর্ড ও রাউফুল আমিন কে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। উক্ত চিঠিটি রাউফুল আমিনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের অনুলিপি প্রেরণ প্রসঙ্গে প্রদান করা হয়। তবে বিষয়টি এখনো সূরা হয়নি বলে জানা যায়।
এদিকে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাউল আমিনের সহকর্মী জানান, ভাওয়াল রাজ স্টেট এর ঘুষ বাণিজ্যের যুবরাজ হলেন রাউফুল আমিন, তিনি টাকার বিনিময়ে অফিসকে ম্যানেজ করে সরকারের সম্পত্তি তুলে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের হাতে। একাধিক কর্মকর্তা/ কর্মচারি জানান, তখনকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার আবু মাসুদের সাথে যোগ সাজোশ করে হাতিরঝিলের ৪৩ একর সরকারি সম্পত্তি অফিসকে না জানিয়ে কোর্টের মাধ্যমে সরকারের পক্ষে আপত্তি না দিয়ে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে আবেদনকারীর পক্ষে সমর্থন দিয়ে স্বাক্ষর করেন।
জানা যায় উক্ত সম্পত্তির বাজার মূল্য ১২শ কোটি টাকারও বেশি। বিষয়টি জানাজানি হলে তৎকালীন ভূমি সংস্কার বোর্ডের কমিশনার জয়নাল আবেদীন রাউফুল আমিনের কাছে জানতে চান”কার অনুমতি নিয়ে আপনি সরকারি সম্পত্তি নাদাবী দিয়েছেন”। রাউফুলের উত্তরে জনৈক ছাত্রলীগ নেতার নাম উঠে আসলে বিষয়টি সেখানেই ধামাচাপা পড়ে যায়। অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে রাউফুল আমিনের বর্তমানে বনশ্রীতে রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট, টঙ্গীতে ৫ কাঠা, ১০ কাঠা, ১৫ কাঠার একাধিক প্লট, সাভারে নামে বেনামে রয়েছে কয়েক একর জায়গা। তার এই অবৈধ কাজের সহযোগিতায় ভূমি সংস্কার বোর্ডে রয়েছে বিগত সরকারের দোসরদের একটি শক্তীশালী সিন্ডিকেট। তারা সংস্কার বোর্ডেকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাউফুল আমিনের মত প্রত্যেকেই হয়েছেন হাজার কোটি টাকার মালিক।
এই সিন্ডিকেটের প্রত্যেকের রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসবহুল গাড়ি। ভূমি সংস্কার বোর্ডে তারা যোগদানের পর হতে এখনো অন্য কোথাও পোস্টিং হয়নি তাদের। রাউফুল আমিন বর্তমানে গাজীপুর বদলি হলেও সিন্ডিকেটের ক্ষমতা বলে অফিস করেন ঢাকায়। যার অফিসিয়াল কোন আদেশ বা নির্দেশনা নেই। উচ্চতর গভীর তদন্ত করলে তার অবৈধ সম্পদ ও কাজকর্মের অজানা অনেক তথ্য বের হয়ে আসবে বলে জানান ভূমি সংস্কার বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এ বিষয়ে রাউফুল আমিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি আজকের সংবাদ কে বলেন আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। রাউফুল আমিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সাক্ষ্য প্রমাণ আজকের সাংবাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।