প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হতে জোর তদবীর চালাচ্ছেন দূর্ণীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী পিডি এমদাদ
৭০ কোটি টাকার প্রকল্পে অকল্পনীয় দুর্নীতি করেও তিনি মহাপরিচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
৭০ কোটি টাকার প্রকল্পে অকল্পনীয় দুর্নীতি করেও তিনি মহাপরিচালক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও সেটাকে ধামা চাপা দিয়ে রেখেছেন। এখন তার সব থেকে বড় যোগ্যতা তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রীর এলাকার লোক। সেই যোগ্যতাতেই মাত্র ৪ মাস আগে পেয়েছেন অধিদপ্তরের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ পরিচালক প্রশাসন।
এ ছাড়া প্রভাব খাঁটিয়ে হয়েছেন সক্ষমতা জোরদার করণ প্রকল্পের পিডি। তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কায়েম করেছেন একক রাজত্ব। মহাপরিচালক পদে একজন প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তা থাকলেও সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন এই পরিচালক প্রশাসন। এ নিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। কর্মকর্তা কর্মচারিদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এবার তিনি মহা পরিচালক হচ্ছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা অধিদপ্তরে আতংক নেমে এসেছে। ভাগ্যবান এই কর্মকর্তার নাম ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায় তার জন্ম। বর্তমানে তিনি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন পদে কর্মরত আছেন। তবে এই পদটি পেয়েও তিনি খুশি নন। তাইতো তিনি এবার মহাপরিচালক হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যদিও এই পদের যোগ্যতা তার নেই।
মহাপরিচালক পদে বসতে হলে তাকে অবশ্যই এ গ্রেডের কর্মকর্তা হতে হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, বর্তমান মহাপরিচালক ডাঃ মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা আজ ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ অবসরে যাচ্ছেন। ফলে মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দানের জন্য ফাইল ওয়ার্ক শুরু করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ কথা জানতে পেরেই আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন পরিচালক প্রশাসন ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার।
তিনি মন্ত্রী, সচিব ও গোপালগঞ্জের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার বাসায় ধর্ণা দিচ্ছেন বলে কানাকানি চলছে। প্রধান মন্ত্রীর এলাকার লোক হিসাবে তিনি মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েও যেতে পারেন বলে মন্তব্য বরেছেন অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারি। ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদার ঢাকা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসাবে টানা ৬ বছর দায়িত্বে ছিলেন অ এসময় তিনি নানা প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। খামারিদের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় ছাড়াও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিভিন্ন খাদ্য ও ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহন করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ দিকে গত মাসের মধ্যভাগে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সক্ষমতা জোরদার করণ প্রকল্পে সুনির্দিষ্ট আর্থিক অনিযম-দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। সেই অভিযোগটি এখন প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।
ওই অভিযোগে কলা হয়েছে যে, তিনি প্রকল্প পরিচালকের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে অবকাঠামোগত কাজ না করে ক্রয়খাতে অতি মনোনিবেশ করেছেন। গত তিন বছরে প্রকল্পের কাজ হয়েছে মাত্র ৫% । এটা তার অদক্ষতা ও অযোগ্যতার ক্রণেই হয়েছে। এই তিন বছরে তিনি প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ না করে কেনাকাটার কাজের টেন্ডার আহবান করে বেশুমার দুর্নীতি করেছেন। তিনি অনুমোদিত এপিপি অনুযায়ী ২০ কোটি ২৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মালামালা ক্রয়ের টেন্ডার আহবান করেন।
এছাড়া বিধিখাতে মালামাল যেম, আসবাবপত্র, এসি,কম্পিউটার,ফটোকপিয়ার,কার্পেট,ল্যাপটপ,বই পুস্তক ক্রয় খাতে আরো ৫ কোটি টাকা খরচ করেন। দুদকে জমাকৃত ওই অভিযোগের বর্ণনায় আরো জানা যায় যে, তিনি তার নিজ অফিসের জন্য নানা সামগ্রী ও জ¦ালানী ক্রয় দেখিয়ে কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছেন। যা সরেজমিনে তদ›ত করলেই ধরা পড়বে। এছাড়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে পার্সেন্টেজ গ্রহন করে কার্যাদেশ প্রদান ও বদলী বাণিজ্যের জোরাল অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
গত তিন বছরে তিনি অধিদপ্তর থেকে প্রায় শত কোটি টাকা অবৈধপথে উপার্জন করেছেন এমন দাবী তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগকারীগন। এই ঘটনাগুলো দ্রুত তদন্ত করার জন্য দুদক চেয়ারম্যানের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এই একই অভিযোগ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী,সচিব, রাষ্ট্রিয় গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রধান মন্ত্রীর দপ্তরেও প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পরিচালক প্রশাসন ডা: মো: এমদাদুল হক তালুকদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।
তার অফিসে ফোন করলে বলা হয় স্যার মন্ত্রণালয়ে আছেন। যে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এতোগুলো আর্থিক দুর্নীতি, অযোগ্যতা, অদক্ষতা ও অসাদাচরণের অভিযোগ রয়েছে তাকে মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি দিলে অধিদপ্তরের কি অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা এ ক্ষেত্রে মন্ত্রী এড. শ ম রেজাউল করিম ও সচিব ড. নাহিদ রশীদ এর সুচিন্তিত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।