নামের মিল থাকায় অন্যকে ফাঁসিয়ে দিলেন উপ-সচিব সাইফুল ইসলাম

ডিসি নিয়োগে হাতাহাতি ঘটনায় প্রকৃত দুষী ব্যক্তি নিজেকে বাঁচাতে নিরপরাধ ব্যক্তিকে ফাঁসিয়ে দিলেন উপ-সচিব মো. সাইফুল ইসলাম।

নামের মিল থাকায় অন্যকে ফাঁসিয়ে দিলেন উপ-সচিব সাইফুল ইসলাম

ডিসি নিয়োগে হাতাহাতি ঘটনায় প্রকৃত দুষী ব্যক্তি নিজেকে বাঁচাতে নিরপরাধ ব্যক্তিকে ফাঁসিয়ে দিলেন উপ-সচিব মো. সাইফুল ইসলাম। পদ ও নামের মিল থাকায় তদন্ত কমিটির কাছে আইডি নম্বর দিলেন অন্যজনের। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী আরেক উপ-সচিব মো. সাইফুল হাসানের। প্রকৃতপক্ষে ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সাইফুল ইসলামের আইডি নম্বর ৮০৬। আর যার আইডি নম্বর তিনি তদন্ত কমিটিকে দিয়েছেন সেটি সাইফুল হাসানের (১৫৭০১) আইডি নম্বর।

এসিল্যান্ড থাকাকালীন সময়ে অনিয়মের দায়ে ৮০৬ আইডি নম্বরের সাইফুলের পদাবনতি হয় আর এটিকেই তিনি বঞ্চিত হিসেবে পুঁজি করে বসেছিলেন। সরকার পরিবর্তন হলে ৫ আগস্টের পরে এই সাইফুল ইসলাম নিজেকে আওয়ামী সরকারের আমলে বঞ্চিত হিসেবে উল্লেখ করে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি বাগিয়ে নেন এবং পাশাপাশি যে কোন জেলার ডিসি পদ পেতে উঠে পড়ে লাগেন। বর্তমান সরকার তাকে জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন না করলে অন্যদের সাথে তিনিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বিক্ষুব্ধ ও উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুরু করেন।

জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলার সেই ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে। ছবি দেখে জনপ্রশাসনের শৃঙ্খলা কমিটি সাইফুল ইসলামকে তলব করলে জনপ্রশাসনের তদন্ত কমিটির কাছে সাইফুল ইসলাম নিজের নাম পরিচয় গোপন রেখে নামের মিল থাকায় আরেকজনের নাম (সাইফুল হাসান) ও তার আইডি নম্বর বলে দেন। সে অনুযায়ী দোষ না করেও সাইফুল হাসান শাস্তির আওতায় পড়ে যান। গতকাল ভূক্তভোগী সাইফুল হাসান বিষয়টি জনপ্রশাসন সচিবকে লিখিতভাবে জানিয়ে এর প্রতিকার চেয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব ও তদন্তকারী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদনে ডিসি নিয়োগে হাতাহাতি ঘটনায় প্রকৃত দুষী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণ এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের অব্যহতি চেয়েছেন।

ভূক্তভোগী সাইফুল হাসান জানান, 'আমি মোহাম্মদ সাইফুল হাসান পরিচিতি নম্বর-১৫৭০১, উপসচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। গত ২ অক্টোবর একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানতে পারি, ডিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত ১০ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় তলায় যুগ্মসচিব (মাঠ প্রশাসন) রুমে হাতাহাতি ঘটনায় ১৭ জন উপ-সচিবকে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় দোষ নির্ধারণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব স্যারকে তদন্ত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেয়ার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী ৮ জন উপসচিবকে গুরুদন্ড প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়। যার মধ্যে আমার নাম উল্লেখ রয়েছে। আমি এজন্য উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত।

প্রকৃতপক্ষে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না বা ঘটনার সাথে কোনভাবেই জড়িত নই। আমি তখন সরকারি কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তাছাড়াও তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক তদন্ত কাজে আমাকে ডাকা হয়নি বা মৌখিক/লিখিত জবানবন্দী দেইনি। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ (ভিডিও'র স্ক্রিনশট সংযুক্ত) বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, প্রায় একই নামে অন্য একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিল। যার নাম সাইফুল ইসলাম এবং যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট জবানবন্দী প্রদান করেছেন মর্মে জানতে পারি। আমাকে ভিডিও ফুটেজে কোথাও দেখা যায়নি। ওই ঘটনায় উপস্থিত আমারই ব্যাচের কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের নামের পরিবর্তে ভুলক্রমে মো. সাইফুল হাসান এর নাম চলে এসেছে মর্মে আমার বিশ্বাস। ফলে ঘটনার সাথে জড়িত এই নামে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিকে চিহ্নিতকরণ এবং নাম সংশোধন করা প্রয়োজন। এই বিষয়ে জানতে চেয়ে মো. সাইফুল ইসলামের সেলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তিনি কল রিসিভ করেননি।