চেয়ারম্যানের দেশী লোক হবার সুবাদে মাত্র ১ বছরে স্বর্ণ চুরি মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সহকারী কমিশনার থেকে যুগ্ন কমিশনার পদে পদোন্নতি নিয়ে তোলপাড়

চেয়ারম্যানের দেশী লোক হবার সুবাদে মাত্র ১ বছরে স্বর্ণ চুরি মামলায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সহকারী কমিশনার থেকে যুগ্ন কমিশনার পদে পদোন্নতি নিয়ে তোলপাড়

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যান্তরিন সম্পদ বিভাগের সচিব আব্দুর রহমান খান’র অব্যাহত দুর্নীতি কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতি বৈষম্য ও অনিয়মের কারণে এনবিআর এ কর্মরত সমগ্র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিসিএস (কাস্টমস) ২৪ ব্যাচের মেধাক্রমের শেষের দিকের ও ঢাকা বিমানবন্দর গোডাউন থেকে ১০ কেজি স্বণর্ চুরির দায়ে অভিযুক্ত এক কর্মকর্তাকে মাত্র ১ বছর সময়কালের মধ্যে সহকারী কমিশনার থেকে পদোন্নতি দিয়ে যুগ্ন কমিশনার করা সহ অতিরিক্ত কমিশনার পদে পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু করায় কাস্টমস বিভাগের সর্বত্রই চলছে উত্তেজনা। শুধুমাত্র চেয়ারম্যানের দেশী লোক হবার সুবাদে দুর্নীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী ছালাউদ্দিন রিপন নামক কর্মকর্তা কে ১ বছরের মধ্যেই সহকারী কমিশনার থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পদ পর্যন্ত পদোন্নতি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্ব দেয়ার পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রমতে ঢাকা বিমানবন্দর গোডাউনের সোনা চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই কর্মকর্তাকে ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল চাকুরী থেকে অপসারণ করা হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে মামলা চালিয়ে ২০১৯ সালে চাকুরী ফেরত পেলেও গত আগস্ট ২০১৪ পর্যন্ত সাবেক কোন এনবিআর চেয়ারম্যান তাকে পদোন্নতি দেয়নি। বর্তমান চেয়ারম্যান ডঃ আব্দুর রহমান খান যোগদান করেন ২৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে। তিনি নোয়াখালীর বাসিন্দা হবার সুবাদে বৃহত্তর নোয়াখালীর অর্থাৎ লক্ষ্মীপুর বাড়ি হবার কারণে সহকারী কমিশনার ছালাউদ্দিন রিপনকে উপ-কমিশনার পদে পদোন্নতি দেন ৩০-০৯-২০২৪ তারিখে, উপ কমিশনার পদে জোষ্ঠ্যতা দেন ০৮-১০-২০২৪ তারিখে, আবার ১৮-১১-২০২৪ তারিখে যুগ্ন কমিশনার পদে পদোন্নতি ও পরবর্তীতে মাত্র ১০ দিন পর ২৮-১১-২০২৪ তারিখে যুগ্ন কমিশনার পদে জেষ্ঠতা প্রদান করে এনবিআর’র সর্বকালের দুর্নীতির রেকর্ড ভঙ্গ করেন।

পদোন্নতি বৈষম্যের শিকার এক কর্মকর্তা জানান চেয়ারম্যান স্যার খুবই মহান, নিজ লক্ষীপুরের ছেলের পদোন্নতির জন্য তিনি জনপ্রশাসন, অর্থমন্ত্রনালয়, এমনকি উপদেষ্টা মহোদযের অনুমতি ব্যাতিতই ভূতাপেক্ষা জৈষ্ঠ্যতা প্রদান করেন। গ্রেড-৪ কর্মকর্তা পর্যন্ত সকল কর্মকর্তাদের জন্য তিনিই সরকার, তিনিই রাষ্ট্রপতি, সবই পারেন। অক্টোবর, ২০২৪ এ যুগ্ম কমিশনার থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পদোন্নতির আদেশটি দেখলেই সবার মন খারাপ হযে যাবে, কাস্টমস ইতিহাসে এতো সুপারসীড ভবিষ্যতে কখনো হয় নাই। ২০ টি পদে পদোন্নতির সুপারিশে ১২ জন সুপারসীড করা হয়। এখানে আনা হয়, গোযেন্দা ও দুর্নীতিগ্রস্থতার তথ্য এবং সে কারনে ২৯ ব্যাচের ১ম, ২য় সহ প্রথম ৭ জন কর্মকর্তাকে জুনিয়র করা রাখা হযেছে। স্বর্ণ চুরির দাযে প্রমানিত একজনকে সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়া হয় সেখানে গোযেন্দা প্রতিবেদনের নামে পদোন্নতি না দেওয়া কি অন্যায় না?

ছালাউদ্দিনের স্বর্ণ চুরির বিষযে সেই সময় ২০১০ সালে বিমানবন্দর থানায় কাস্টম হাউজ একটি এজাহার দায়ের করা হয়। যেহেতু সরকারের একজন বড় কর্মকর্তা জড়িত তাই মামলাটি তদন্ত ভার দেওয়া হয় দুদককে। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ছিলেন বর্তমান পরিচালক (সেই সময় সহকারী পরিচালক জনাব আখতার হামিদ)। দুদকের অনুসন্ধানে ঘটনাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় ছালাউদ্দিন রিপন ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা নং ১৪, তারিখ: ০৪/০৫/২০১০ এবং পরবর্তী তদন্তে প্রমানিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট ৮৩৩, তারিখ ২৮/১০/২০১০ প্রদান করা হয়। দুদকের নথি নং: দুদক/বি: অনু: ও তদন্ত-১/সি-৯৪/২০১০/২০৩১০। এতে প্রমানিত হয় যে, ২০১০ সাল থেকেই ছালাউদ্দিন রিপন দুদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামী। তাহলে এই মামলা বিচারাধীন থাকাকালে সরকারী চাকুরী আইন অনুসারে তিনি পদোন্নতি যোগ্য নন। দুদক হতে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা বর্তমানে Criminal Appeal ১২৩৭৬/২০১৬, তারিখ ১৫/১২/২০১৬ হাইকোর্ট বিভাগে চলমান আছে।

সরকারী চাকুরীর বিধানে সন্তোষজনক চাকুরী বলতে কোনো বিভাগীয়, ফৌজদারী, দুদক মামলার আসামী/মামলা চলমান বা বিচারাধীন থাকলে তা পদোন্নতির জন্য বিবেচ্য হয় না। ০৭/১১/২০২৪ তারিখে জনাব ছালাউদ্দিন রিপনের সাথে পদোন্নতির তালিকায় ছিলেন জনাব সাজেদুল ইসলাম (গ্রেডেশন ১২৯), সাজেদুলের দুদক মামলা হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন থাকায় তাকে পদোন্নতি প্রদান করা হয় নাই। কিন্তু একই অভিযোগে ছালাউদ্দিন রিপনকে সেই একই ডিপিসিতে পদোন্নতি প্রদান করা হয়, সেলুকাস, অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে দুর্নীতির মামলা লুকিযে ব্যাক্তি বিশেষের বিশেষ আনুকূল্যে এভাবেই দুর্নীতিবাজরা পদোন্নতি পায়। দলিলমূলে ইহা সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত যে, ছালাউদ্দিন রিপনকে উপকমিশনার পদে পদোন্নতি-৩০/০৯/২৪ তারিখের এবং যুগ্ম কমিশনার পদে পদোন্নতি-১৮/১১/২৪ তারিখের সম্পূর্ণ অবৈধ। একইসাথে তাকে প্রদানকৃত ভূতাপেক্ষা জৈষ্ঠ্যতা সম্পূর্ন অবৈধ এবং এ খাতে প্রদেয় ও আহরনকৃত সরকারী ভাতাদি বিপরীতে যে সরকারের পাওনা সৃজিত হযেছে, তা ফেরত দিবে কে?। বলুনতো, সুপারসীড এর নেপথ্যে থাকা গোযেন্দারা ২০২৪ এ কোথায় ছিলেন বা তাদের ক্ষুরধার গোযেন্দা প্রতিবেদনই বা কোথায় ছিলো?

উল্লেখ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে আব্দুর রহমান খান ২৪ অগাস্ট, ২০২৪ সালে যোগদান করেন। এর পূর্বে বিগত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অতি আস্থাভাজন সচিব হিসেবে ব্যাংকিং ডিভিশনের সচিব পদে তিনি পূর্বে দায়িত্ব পালন করেন। আব্দুর রহমান খান একজন আয়কর কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন পরবর্তীতে ডি. এস পুলে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করেন। তিনি দীর্ঘদিন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ২০২৪ এর ডামি নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১ম দফায় সচিব পদে পদোন্নতি পান। অর্ন্তবর্তী সরকারের মনোনীত এবং নিজস্ব ক্যাডারের একজন কর্মকর্তাকে সচিব ও চেয়ারম্যান, এনবিআর হিসেবে যোগদান করায় কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন ভীষন খুশি এবং তাকে আন্তরিকভাবে গ্রহন করে নেয়। কিন্তু যোগদান পরবর্তী তিনি মুষ্টিমেয় কিছু লোকদের দ্বারা ভুল পথে পরিচালিত হতে থাকেন। তাদের মধ্যে একজন বেলাল হোসাইন চৌধুরী, যিনি সম্প্রতি দুর্নীতি মামলার আসামী হিসেবে বিতর্কিত হযেছেন। এছাড়া, সম্প্রতি দুদকের ভ্রমন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি জিও ব্যাতিত সিডনী ভ্রমন করে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হযেছেন। দুদক মামলার আসামীকে চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান আরো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বদলি করলে গণমাধ্যমের চাপে ওএসডি করা হয়। জিও ব্যাতিত ভ্রমনের বিষযে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি, এমনকি দীর্ঘকাল কর্মস্থলে অনুপস্থিতের বিষযে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে, এর অন্য পিঠেই রযেছে বৈষম্যের করুন কাহিনী। তথাকথিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রায় অর্থ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বহিস্কার, বাধ্যতামূলক অবসর, দুদক দ্বারা অনুসন্ধান কার্যক্রম গ্রহন করা হযেছে। এর মধ্যে কাস্টমস ও আয়কর বিভাগের সর্বজনবিদিত Honest কর্মকর্তা যেমন হোসেন আহমেদ, আব্দুর রউফ, জাকির হোসেন, শব্বির আহমেদ প্রভৃতি রযেছেন। এ সকল কর্মকর্তাদের সামান্যতম বিভাগীয় আনুকল্য না দেখিযে তথাকথিত গোযেন্দা তথ্য রযেছে মর্মে সরকারকে ভুল বুঝিযে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও জনপ্রশাসনের নীতিমালায় সাময়িক বরখাস্তের উপযুক্ত কারন থাকা সত্ত্বেও বেলাল হোসাইন চৌধুরীকে এখন পর্যন্ত বাধ্যতামূলক অবসর বা সাময়িক বরখাস্ত করা হলো না। বিষয়টি এমন যে, নোয়াখালী এলাকার কৃতি সন্তান হওয়ায় এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বেলাল হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না। একা হলে হারি, এক হলে জিতি তাই বেলাল হোসাইন কে একা হতে দিবেন না।

শুধু কি বেলাল, বৃহত্তর নোয়াখালীর আরেকজন কর্মকর্তা ছালাউদ্দিন রিপন, ২৪ ব্যাচের মেধাক্রমের শেষের দিকের এই কর্মকর্তার বাড়ী চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খানের বাড়ির ঠিক পাশে লক্ষীপুর। ছালাউদ্দিন রিপন ২৪ ব্যাচে কাস্টমস এ যোগদান করলেও তার ব্যাচমেটদের সাথে নিয়মিত পদোন্নতি পাননি। তার ব্যাচমেটরা অতিরিক্ত কমিশনার (গ্রেড-৪) হলেও তিনি ছিলেন সহকারী কমিশনার (গ্রেড-৯)। এই পার্থেক্যের কারন ছিলো তিনি ২০১০ সালে ঢাকা বিমানবন্দরের গোডাউন হতে ১০ কেজি স্বর্ণ চুরির দাযে অভিযুক্ত ও প্রমানিত একজন কর্মকর্তা।

সুত্রমতে অতি সম্প্রতি তাড়াহুড়া করে তাকে আবার অতিরিক্ত কমিশনার পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করা হযেছে। এ প্রক্রিয়ায় একজন অতিরিক্ত কমিশনার তার দুদক মামলা রযেছে মর্মে অবহিত করায় অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগ তথ্য চেযে দুদকে পত্র প্রেরন করে। দুদক পত্র নং ০০.০১,০০০০.০০০.১১.৯৯.০০০৪.২৫.৫৩৯ তারিখ ১৭/১১/২০২৫ দ্বারা জনাব ছালাউদ্দিন রিপনের দুদক মামলা বিচারাধীন মর্মে অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগকে অবহিত করে এবং এবং তিনি ছাড়া অপর বাকি ৫ জন কর্মকর্তার বিষযে অনাপত্তি প্রদান করে। এই তালিকার ৫ ও ৬ নং কর্মকর্তাকে বিগত অক্টোবর ২০২৪ তারিখের পদোন্নতির সভায় দুর্নীতিগ্রস্থ হিসেবে গোযেন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদান করা হয় নাই। তবে, একই সমযে একজন দুর্নীতি মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামীকে নিয়মবর্হিভুতভাবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। ছালাউদ্দিন রিপনকে অতি দ্রুত কমিশনার (চলতি দায়িত্বে) হিসাবে পদোন্নতি দেয়ার পায়তারা চলছে, হয়ত তা হবে কেননা দুদকের পত্রটি লুকিযে ফেলা হবে, যেভাবে তার ব্যাক্তিগত নথি থেকে দুদকের ২০১০ সালের মামলা সরিযে ২০২৪ সালে আইন বর্হিভূতভাবে পদোন্নতি প্রদান করা হযেছে।

এনবিআর’র সাবেক এক সদস্য বলেন, Procedural Mistake এর জন্য বিভাগীয় মামলা বাতিল করে দেওয়া হলো তাহলে ১০ কেজি স্বর্ণ চুরির বিষযে সরকারের ব্যবস্থা কি? তাহলে কি ২০২৩ সালের ৫৫ কেজি স্বর্ন বা ২০১৯ সালের বেনাপোল গুদামের ২৬ কেজি স্বর্ন মামলা থেকেও দায়ী কর্মকর্তারা খালাস পেযে যাবে?

কাস্টমসে প্রচলিত আছে ছালাউদ্দিন রিপন ২০১৮ সালে Procedural Mistake এর আবরনে মুক্তি পাওয়ায় আবার চতুর গুদাম কর্মকর্তারা আগ্রাসী হযে উঠে। বেলাল হোসাইন চৌধুরী বেনাপোলের কমিশনার থাকাকালে ২৬ কেজি স্বর্ন চুরি হয়। এবারও দায়ী কর্মকর্তাদের কিছুই হয় না, সদস্য হযে তিনি দায়ী কর্মকর্তাদের ভালো জায়গায় পদায়ন এই ২০২৫ সালে এই চেয়ারম্যাকে দিযে নিশ্চিত করেছেন। ২০১০ ও ২০১৯ এর সাফল্য আরো আগ্রাসী করে তোলে চতুর গুদাম কর্মকর্তাদের এবং ফলস্বরূপ ২০২৩ সালে ৫৫ কেজি স্বর্ন চুরি হয়। আশা করি এবারও কর্মকর্তারা Procedural Mistake এর জন্য বেকসুর খালাস পাবে। ভবিষ্যতে আরো স্বর্ন চুরি করবে আর দ্রুত খালাস পাবে।