আপনাদের সতর্ক হতে হবে, সামনের নির্বাচন অনেক কঠিন হবে: তারেক রহমান

নির্বাচন এতো সহজ নয় বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদেরকে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।

আপনাদের সতর্ক হতে হবে, সামনের নির্বাচন অনেক কঠিন হবে: তারেক রহমান

নির্বাচন এতো সহজ নয় বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদেরকে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। সামনের নির্বাচন কিন্তু অনেক কঠিন হবে। জনগণই আমাদের শক্তি। আমরা যদি ভুল করি তখন কিন্তু জনগণ আবার ৫ আগষ্টের মতো দেখিয়ে দিবে। তখন কিন্তু আমার আপনার পস্তাতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জনগণের সাথে থাকতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে এ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়ালি উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ অনেকগুলো রাজনৈতিক দল আছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন মতবাদ আছে আদর্শ আছে। থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে একটি ব্যাপারে আমাদের সকলকে এক জায়গা আসা উচিত। দেশের নিয়ম আইন-কানুন সংবিধান যে সময়টি বেঁধে দিবে সে সময় পরে অবশ্যই রাষ্ট্রের বা সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে ভোট হতে হবে। ভোটের অধিকার একমাত্র জবাবদিহিতা তৈরি করতে পারে। রাষ্ট্রের এবং সমাজের সকল জায়গা যদি আমরা জবাবদিহিতা তৈরি করতে পারি তাহলেই ধীরে ধীরে আমরা এগুতে সক্ষম হব। সরকার যদি প্রতিটি কাজের জন্য জনগণকে জবাবদিহিতা করতে বাধ্য থাকে তাহলেই আস্তে আস্তে জনগণের দুঃখ দুর্দশা জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হবে সরকারের কাজের মাধ্যমে।

গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই জানিয়ে তিনি বলেন, যেখানে সবরকম সুবিধা ও নিরাপত্তা জনগণ ভোগ করবে। একটি জায়গায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, নির্দিষ্ট সময়ের পর আইন মেনে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

এসময় শহীদ জিয়াউর রহমান যেভাবে মানুষের কাছে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন, ঠিক তেমনভাবে রাজনৈতিক প্রতিটা নেতা কর্মীকে নিজেকে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দলের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা আছে সরকার গঠন করা। কোন কারনে যদি অন্যকেউ সরকার গঠন করে সেটা কি দেশ এবং জাতির জন্য ভালো হবে? প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, অন্য কেউ সরকার গঠন করলে দেশ ও জাতির জন্য ভালো হবে না, তাই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় আছে। মানুষ যেভাবে চায় সেভাবে নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেন। জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধরে রাখতে হলে সতর্ক থাকতে হবে।

দেশে ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নামে বিভিন্ন মামলা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধুমাত্র জুলাই আগস্ট আন্দোলনেই প্রায় ৫০০ নেতাকর্মীরা শহীদ হয়েছেন। বহু শত হাজারের মত নেতাকর্মীরা জখম হয়েছেন। যারা বিগত সময়ে নির্যাতন করেছে তাদেরকে সুবিধা দিতে বিএনপি লড়াই করেনি, তাদেরকে কাছে ভিড় করতে দেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ডক্টর মঈন খান,আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মোহাম্মদ কামরুল আহসান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, তাইফুল ইসলাম টিপু, আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, আবুল কালাম আজাদ সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।