এমপি নির্বাচিত হয়ে মালেক সরকার কেন শুল্ক গোয়েন্দার এডিজি ড. তাজুলকে ফুল দিয়েছিলেন
ছবিটি এনবিআরের শুল্ক, রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের (ডেডো) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মালেক সরকারের।
ছবিটি এনবিআরের শুল্ক, রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের (ডেডো) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল মালেক সরকারের। গেলো বছর জানুয়ারি মাসে তোলা।
নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্যকে জনতা, কর্মী-সমর্থক বা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানোর রীতি থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকার আমলে এনবিআরের ‘ক্ষমতাধর’ ড. তাজুল ইসলামের বেলায় ঘটে উল্টো। গেল বছর জানুয়ারি মাসে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. তাজুলের ক্যারিসমায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোসলেম উদ্দিনকে হারিয়ে সংশ্লিষ্ট আসনে এমপি নির্বাচিত হন ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তাজুলঘনিষ্ঠ আবদুল মালেক সরকার। আর এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরেই সরাসরি ঢাকায় ড. তাজুলের সরকারি অফিসে ফুল নিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাতে আসেন ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ী এমপি মালেক সরকার।
যদিও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর সরকারি অফিসে আইনপ্রণেতা বা সংসদ সদস্যের ফুল নিয়ে এসে ভক্তি জানানো নিয়ে এনবিআরের ভেতরে চাপা আলোচনা উঠলেও তাজুলের ক্ষমতার তাপে চাউর হয়নি। জানতে চাইলে এনবিআর কার্যালয়ে এসে তার নিজ সরকারি কক্ষে এসে ফুল দেওয়ার তথ্য অস্বীকার করলেও এ ছবিটি স্পষ্ট প্রমাণ করে এমপি মালেক সরকার তাজুলের কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দিয়েছিলেন এবং ছবিতে এনরবিআরের লোগো রয়েছে।
আর আইনপ্রনেতা কেন ফুল দিতে গেলেন সে প্রশ্নের জবাবে ড. তাজুল এ প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত জানান, উনি তো (মালেক সরকার) স্বতন্ত্রপ্রার্থী, তাতে দোষের কিছু নেই। ড. তাজুল বলেন, ‘আমার বিচারজ্ঞান মন্দ না, উনি ফুল নিয়ে আসেননি, ঘটনাটি হলো- সচিবালয়ে যাওয়ার পথে আমার অফিস হয়ে গেছে। যেহেতু এমপি নির্বাচিত হয়েছে তাই ভদ্রতার খাতিয়ে ফুল দেওয়া হয়েছে। তাহলে অন্যায়টা কি করলাম ভাই, ওই ভদ্রলেঅক আমার নানা বাড়ির পাশের লোক।’ যদিও জুলাই বিপ্লবে দেশের প্রেক্ষাপট বদলে গেলে গা ঢাকা দেন আওয়ামী লীগ নেতা মালেক সরকার। চলে যায় তার এমপি পদ। তিনি গা ঢাকা দেওয়ায় তাকে সরাসরি বা ফোনে পাওয়া যায়নি।
ড. তাজুল আওয়ামীলীগ আমলেও ডেডোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন। জুলাই বিপ্লবে ক্ষমতার প্রেক্ষাপট বদলে গেলেও বদলায়নি তার ক্ষমতা। মোটেও চির ধরেনি। তিনি এখনো ডেডো কাঁপান। তার নিজ এলাকা ময়মনসিংহ ফুলবাড়িয়ার আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকবর্মীরা তাকেই একমাত্র কাণ্ডারী জানেন, তিনিই একমাত্র প্রশ্রয়দাতা বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মালেক সরকার। তিনি এখন পলাতক, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।