আত্মবিশ্বাসী হয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না: তারেক রহমান
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি নেতাকর্মীর মধ্যে বিজয়ের আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো, তবে অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি নেতাকর্মীর মধ্যে বিজয়ের আত্মবিশ্বাস থাকা ভালো, তবে অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। জনগণ পছন্দ করেন না এমন কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। জনগণের বিশ্বাস ভালোবাসা অর্জন করুন।
বুধবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একটি প্রবাদ আছে অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে তোমার এক চোখ অন্ধ।
তারেক রহমান বলেন, দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বসে আছেন। তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বাংলাদেশের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। একদিন পরে এই সরকারের মেয়াদ তিনমাস পূর্ণ হবে। এই তিনমাসে তাদের সফলতা নিয়ে আলোচনার যথেষ্ট সময় নয়। তিনি আরও বলেন, সংবিধানে আছে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। সংবিধানে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও মাফিয়া সরকার ১৫ বছর জনগণের ভোট ছাড়াই তথাকথিত জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত কোন ব্যক্তি বা রাজনৈতিক কর্মী জনগনের ভোট ছাড়া জনপ্রতিনিধি হতে সক্ষম হবে না ।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ৭ নভেম্বর কোনো দিবস নয়-৭ নভেম্বর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ইতিহাস রক্ষার ইতিহাস। বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন ও দর্শনের মাধ্যমে স্বৈরাচার পতন ঘটিয়ে ৯০ সালে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি কিন্তু সামনের ভবিষ্যতের দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। ড. ইউনূসকে আমরা শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস করি তিনি অতিদ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এই নভেম্বর এমন একটি দিবস যা জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ১৭ বছর আমরা তা পালন করতে পারি নাই।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের সব সংকটকালে নেতৃত্বে জিয়া পরিবার। ৭ নভেম্বর দিয়েছে জিয়াউর রহমান, ৯০ এর স্বৈরাচার আন্দোলননে খালেদা জিয়া ও এখন দিয়ে তারেক রহমান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বিদায় নিয়েছে কিন্তু দেশে এখনো লেভেল ফ্লিড তৈরি হয়নি। হাসিনা বলেছিলেন গণতন্ত্রের ওপরে উন্নয়ন। আমরা বলব নতুন কোনো বায়না নয় গণতন্ত্র ও দেশের মালিকানা জনগণের ফিরিয়ে দিতে হলে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির নজরুল ইসলাম খান বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের পটপরিবর্তন হয়। সব পটপরিবর্তন মানুষ মনে রাখে না। ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের সব পরিবর্তন করেছেন। জনগণ জিয়াউর রহমানকে মহানায়ক বানিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) বলেন, সংবিধান সংশোধন করতে পারে নির্বাচিত সরকার। কোনো ব্যক্তি কলমের খোচায় সংবিধান পরিবর্তন করতে পারে না। নির্বাচিত সরকার এসে সংবিধান সংশোধন করবে। তাই দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।
আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীগের সভাপত্বিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুর মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মেজর অব: হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আজম খান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড,কামরুল আহসান।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম ও দক্ষিনের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী রবিন, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন,কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিমসহ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভায় সঞ্চালনায় ছিলেন দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।