অর্থ আয়-ব্যয়ের নেই কোন প্রমাণ
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধনি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বার্ষিক নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির নানান অর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বার্ষিক নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির নানান আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ে। অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য অনেক দৌড়ঝাপ চলমান রয়েছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ধানমন্ডি প্রকল্পের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে গাড়ি বরাদ্দে অনিয়মের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। প্রকল্পের বরাদ্দ-ব্যয় রেজিস্টার, বিলের নথি এবং গাড়ি রেজিস্টার পর্যালোচনা করে ভাউচার নং-১ এর মাধ্যমে এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে তিনটি মটর সাইকেল কেনা হয়। যা প্রকল্পের কাজে ব্যবহার হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত ২ জন উপসহকারী প্রকৌশলী বরাদ্দ দেয়া হয় দুইটি।
অন্যটি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের পি এ কাম ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে অনিয়মিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়। উক্ত বরাদ্দকৃত মটরসাইকেলটি চেয়ারম্যানের পিএ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রকল্প বর্হিভূত কর্মচারীকে অনিয়মিতভাবে মটরসাইকেল বরাদ্দ একটি ইচ্ছাকৃত ভূল। এছাড়াও এই প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে রয়েছে অনেক সংশয়।
কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সদস্য প্রকৌশল ও চেয়ারম্যান এবিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তাই প্রকল্প সংশ্লিষ্টগণ নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী প্রকল্পটি পরিচালনা করেন। গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষন কাজে অনিয়মিত ব্যয় করা হয়েছে নয় লক্ষ সাতাশ হাজার দুইশত আটাশ টাকা। নিরীক্ষা টিমের সদস্যগণ গাড়ি মেরামত ও রক্ষাণাবেক্ষন কাজের বিল, হিসাব বিবরণী পর্যালোচনা করে উল্লেখ করেন নতুন মালামাল ফিটিং এর ক্ষেত্রে পুরাতন মালামাল উদ্ধার দেখানো হয়নি। ঠিকাদারের নিকট হতে সংগ্রহ করার পর তা সংস্থার রেজিস্টারভূক্ত করা হয়নি।
আবার বিতরণের ক্ষেত্রেও কোন রেজিস্টার ব্যবহার করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে গাড়ির মালামাল ক্রয় ও বিতরণ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানান সংশয়। সঠিক হিসেব না থাকায় এবং প্রদত্ত নিয়ম অনুসরণ না করায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ৯ লক্ষ ২৭ হাজার ৬ শত ২৮ টাকা অনিয়মিত ব্যয় হয়েছে। সরকারি কাজের বাইরে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাগণ বরাদ্দকৃত গাড়ি সার্বক্ষনিক ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠানটির ৭ লক্ষ ৪৬ হাজার ৮ শত ১৩ টাকা ক্ষতি হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিবহন অধিশাখার জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের অনুচ্ছেদ ২(গ) লংঘন করা হয়েছে।
এবিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ অদ্যবধি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ই/এম শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী মিরাজ হোসেন সার্বিক মেরামত ও সংরক্ষণ বাবদ অনিয়মিত ব্যয় করেছেন ৮২ লক্ষ ২ হাজার ২ শত ৬৬ টাকা। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ই/এম কার্যালয়ে মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের বিল, এমবি ও সমর্পন বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায় নতুন মালামাল ফিটিং এর ক্ষেত্রে পুরাতন মালামাল উদ্ধার দেখানো হয়নি। কিন্তু নতুন মালামাল প্রতিস্থাপন করা হলে পুরাতন মালামাল উদ্ধার হওয়ার কথা।
সংগৃহিত নতুন মালামাল ফিটিংস এর ক্ষেত্রে ঠিকাদারের নিকট হতে সংগ্রহ করার পর তা সংস্থার স্টোরে অর্ন্তভুক্ত করে কাজের বিপরীতে ইস্যু করা হয়েছে মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নতুন মালামাল সংগ্রহ ও ইস্যুর জন্য কোন গ্রহণ ও বিতরণ রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয়নি।
মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে অনিয়মিতভাবে সংস্থার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তার সাথে বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে নানা অজুহাতে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যায়।