খুলনা রূপসার সেই হাইব্রিড নেতা জাহাঙ্গীর চেয়ারম্যান এখন চরম বিপাকে
রূপসার সেই নানান অপকর্মের হোতা আলোচিত সমালোচিত হাইব্রিড জাহাঙ্গীর রাজনৈতিক এবং সামাজিক ভাবে চরম বিপাকে রয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন শেষ হতেই এক প্রকার পালিয়ে ঢাকায় চলে আসতে বাধ্য হয়। নাহলে যেকোন মূহুর্তে পরিষদের মেম্বার ও দলীয় কর্মীদের হাতে হেনস্থা হতে পারে এমন আশংকা ছিল তার।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে নৌকা প্রতিকের সুনামকে পুজি করে ২য় বার বাগিয়ে নিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান পদ। আর সেই সুবিধাবাদী হাইব্রিড নেতা জাহাঙ্গীর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ম কয়েক দিন পর্যন্ত নৌকার পক্ষে ভোট প্রর্থনা করে গনসংযোগ করলেও পরবর্তীতে নৌকা বিরোধী মিছিলে নেমে পড়েন। হঠাৎ করে তার ইউটার্ণকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হতবাক করে। তারা জাহাঙ্গীরের প্রতি ঘৃণাভরে মুখ ফিরিয়ে নেয় কারণ এই চাটুকার জাহাঙ্গীর বর্তমান এমপি-র কাছ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্যতম।
নেতৃবৃন্দরা বলেন জাহাঙ্গীর তার বড় ভাই আলমগীরের নেতৃত্বে একটি ত্রাস এর রাজত্ব কায়েম করেছে। গত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থীকে তালতলা গ্রামের মেম্বার হিসেবে অবৈধভাবে বিজয়ী করতে না পেরে সাংবাদিক বুদ্ধদেব হালদার জুয়েলকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে মারাত্মক আহত করে। এর আগেও সে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খান শাহজাহান কবীর প্যারিস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোরশেদুল আলম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফ ম আব্দুস সালাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল মিত্র, উপজেলা আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক সোহেল জুনায়েদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউ পি সদস্য শেখ মইন উদ্দীনসহ আরো অনেক নেতা কর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অপমান-অপদস্ত করেছে।
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর প্রেরিত উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের গণ স্বাক্ষরিত এক অভিযোগ পত্র থেকে আরও জানা যায় তার হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন একই উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম ডাবলু।
গত ১৪ই মার্চ ২০২৩ দুপুরে রূপসা উপজেলা পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীগণের বর্ণনা অনুযায়ী তুচ্ছ ঘটনায় অকারণেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সামনে ডাবলুর উপর চড়াও হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজ করে। উপস্থিত সকলেই জাহাঙ্গীরের এ আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে নিভৃত না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারতো।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম ডাবলু জানান, ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর দলের একজন হাইব্রিড নেতা। ২০১৫ সালে গুটি কয়েক নেতাকে সুবিধা দিয়ে দলে আগমন। বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের ঘোষনা অনুযায়ী আগামীতে দলে কোন হাইব্রিড নেতা কে সুবিধাজনক পদে রাখা হবে না। একজন সিনিয়র নেতা হওয়া সত্বেও, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সামনে সে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
বিষয়টি আমি তাৎক্ষনিক সিনিয়ার নেতাদেরকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি এবং পরবর্তীতে লিখিতভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। আগামীতে জাহাঙ্গীরের মত এমন হাইব্রিড নেতা যদি আওয়ামী লীগে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকে তাহলে সাধারণ নেতা কর্মীরা দলের প্রতি আস্থা হারাতে পারে। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠনে জাহাঙ্গীর এর মতো স্বেচ্ছাচারীকে জায়গা না দিতে এবং আগামীতে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ কোন পদে তাকে না রাখার জন্য সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
প্রতাপশালী জাহাঙ্গীর এর প্রতি হাইকমান্ড এবং দলীয় সাধারণ নেতা কর্মীরা,এমনকি বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য ঘৃণা ভরে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায়,তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত,অন্ধকারাচ্ছন্ন সংকটাপন্ন হয়ে গেছে। সে আবারও তার টাকা দিয়ে এবং দলের হাইকমান্ডকে ম্যানেজ করে পার হয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেও এখনো কোথাও থেকে গ্রীন সিগনাল না পাওয়ায় হয়তোবা এবার আর শেষ রক্ষা হচ্ছে না। নিজেই তার রাজনৈতিক অপমৃত্যুর শঙ্কায় চরম উৎকন্ঠা ও অনিশ্চয়তার বিপাকে জাহাঙ্গীর।