ফরেস্টার তাজুলের রমরমা ঘুষ বানিজ্য অব্যাহত
কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের সোয়াগাজী চেক স্টেশনে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি
কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের সোয়াগাজী স্টেশনে চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। খোদ স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার তাজুলের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলেও দেখার কেউ নেই। এ স্টেশনে আগত চোরাই কাঠ ভর্তি ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ড ভ্যান চেকিংয়ের নামে প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য চলছে।
পাশাপাশি প্রতিদিনই কোটি কোটি টাকার চোরাই বনজ সম্পদ পাচার হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত কুমিল্লা বন বিভাগের অধীন চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে সোয়াগাজী নামক স্থানে সড়কের পাশে সোয়াগাজী ফরেস্ট চেক স্টেশনটি বনজ দ্রব্য পরীক্ষা ও ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য স্থাপিত হয়।
এই চেক স্টেশনটি দিয়ে অধিকাংশ চোরাই কাঠ ভর্তি ট্রাক রাতের অন্ধকারে পাচার হয়। স্টেশনটির সামনে প্রায়শ: ৪/৫ টি কাঠ ভর্তি ট্রাক দাড়ানো অবস্থায় দেখা যায়। খোলা কাঠ ভর্তি ট্রাকগুলো দৃশ্যমান হয়। কিন্তু যেসব কাভার ভ্যানের ভিতর কাঠ বোঝাই করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান হতে ঢাকা পাচার করা হয় সেসব কাভার ভ্যানের ভিতরের কাঠ দৃশ্যমান হয় না।
দৃষ্টির অন্তরালে চেক স্টেশন কর্মকর্তা তাজুলের সাথে কাঠ পাচারকারীর গোপন যোগসাজশ ও অর্থ চুক্তির বিনিময়ে কাভার ভ্যান প্রতি গামার ও অন্যান্য কাঠ ভর্তি কাভার ভ্যানে ৩০,০০০/- টাকা, সেগুন গোল কাঠ ভর্তি কাভার ভ্যান প্রতিটি ৪০ হাজার টাকা এবং সেগুন রদ্দা চিরাই কাঠ ভর্তি কাভার ভ্যান প্রতিটিতে ৫০,০০০/- টাকা করে নিয়ে গোপনে চেক স্টেশন থেকে পাশ দেওয়া হয়। প্রতি রাতেই এমন কাঠ ভর্তি কাভার ভ্যান ৫ থেকে ৭টি এই চেক স্টেশন পাশ হয়ে থাকে।
মানুষের চোখে ফাকি দিয়ে কাঠ পাচারকারী কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশে স্টেশন কর্মকর্তা তাজুল প্রতিনিয়ত প্রতি রাত্রে এমনভাবে মূল্যবান কাঠ চেক স্টেশনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতিদিন অবৈধভাবে রোজগার করছেন। এছাড়া প্রতিদিন টেকনাফ ও চট্টগ্রাম পোর্ট হতে এলসির মাধ্যমে যেসব বড় বড় গোল কাঠ ভর্তি ট্রাক উক্ত স্টেশন অতিক্রম করে এগুলিকে টাকা দেওয়া ছাড়া স্টেশন অতিক্রম করতে পারেনা।
বিদেশি কাঠ ভর্তি প্রতিটি গোল কাঠ বোঝাই ট্রাক প্রতি ৫০০ টাকা এবং চিরাই কাঠ বোঝাই ট্রাক প্রতি ১০০০ টাকা স্টেশনকে দিয়ে ছাড়পত্র দিতে হয়। খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম হতে ভূয়া জোত পারমিটের অনুবলে যেসব গোল কাঠ ভর্তি ট্রাক উক্ত চেক স্টেশন পাস হয় ট্রাক প্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা দিয়ে চলাচল পাশ (টিপি) এ ছাড়পত্র লেখাতে হয়। টাকা না দিলে কাঠ ব্যবসায়ীগন বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। দেশি চিরাই (রদ্দা) কাঠ ভর্তি ট্রাক প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম হতে যেসব কাভার ভ্যানে এক ত্রিপল ঢাকা ট্রাকে তৈরি করা ফার্নিচার মহাসড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম আসে সেই সব গাড়ী প্রতি ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে গাড়িগুলো স্টেশন পাশ দেওয়ার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্টার তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। চেক স্টেশনের মূল কাজ হচ্ছে বনজদ্রব্য পাচার রোধ ও আটক করা কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সোয়াগাজী চেক স্টেশনের মূল কাজ হচ্ছে সরকারি বনের কাঠ পাচার করে ঘুষের টাকা গ্রহণ করত: বন ও বনজদ্রব্য ধ্বংস করা।
এতদ্বসংক্রান্তে ফরেষ্টার তাজুল ইসলাম বলেন পদ আমার ফরেস্টার, রেঞ্জার পোস্ট দখল করে স্টেশন কর্মকর্তা পদে আছি। ক্ষমতা আছে বলেই স্টেশন কর্মকর্তা হিসেবে ফরেস্ট রেঞ্জার পদে থেকে অবৈধ টাকা কামিয়ে যাচ্ছি কোন বাপের বেটার আমার কিছু করার মত ক্ষমতা নেই। সিসিএফ, সিএফ, ডিএফও জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন সবাইকে আমি কামনো টাকার ভাগ দেই। মিডিয়াদেরকেও প্রয়োজনে টাকা দেই। টাকা কামাচ্ছি,টাকা কামাবো, এটাই আমার নেশা ও পেশা।
উল্লেখ্য সম্প্রতি তিনি রামগঞ্জ ট্রান্সপোর্ট রায়পুর ট্রান্সপোর্ট নামক দুইটি ট্রাকভর্তি তিন কোটি টাকা মূল্যমানের অবৈধ সেগুন কাঠের ফার্নিচার আটকে দশ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন এই টাকা দিতে তারা অস্বীকার করলে স্টেশন কর্মকর্তা তাজুল ও তার সহযোগী স্টাফরা ট্রাকচালকদের বেধড়ক মারপিট করে একপর্যায়ে ৩ লাখ টাকা নগদ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। ট্রান্সপোর্ট মালিক সিরাজ মিয়া ও সুমন মিয়া ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেছে এভাবে প্রতিনিয়ত ও চোরাই কাঠ ও ফার্নিচারের গাড়ী আটকিয়ে জবরদস্ত এমন কি মারধর করে ও ঘুষ আদায় করে সমগ্র বন বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে এত বড় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ইতোপূর্বে এই সোয়াগাজী স্টেশনে আসেননি।
ফরেস্টার তাজুল এই স্টেশনে যোগদান পরবর্তী কয়েক মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঘুষ স্বরুপ আদায় করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কর্মরত এক বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। জনস্বার্থে এই দুর্নীতিবাজ ফরেস্টারকে অবিলম্বে অপসারণ করে সোয়াগাজী স্টেশনের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সৎ কাঠ ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।