ব্রেস্ট থেরাপীর নামে তরুনীদের ভোগের নেশায় মত্ত ইঞ্জিনিয়ার খালিদ হাসান শাওন গ্রেফতার
ফেসবুকে ফেক আইডি তৈরি করে নিজেকে নাসা’র ব্রেস্ট ক্যান্সার গবেষক, আকর্ষণীয় পাত্র আবার কখনো ব্রস্ট থেরাপিস্ট দাবি করে বহু তরুনীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করার অভিযোগে ইঞ্জিনিয়ার খালিদ হাসান শাওন (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের একটি দল। রাজধানীর বাড্ডা থানায় ভুক্তভোগী এক তরুণীর দায়ের করা মামলায় গত শনিবার সন্ধ্যায় উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কের ২৬/এফ নম্বর বাড়ির ২য় তলার বি-১ নং ফ্ল্যাটে “স্বপন ইঞ্জিনিয়ারিং, অঞ্জন বিল্ডটেক ও আইকন এসোসিয়েটস” নামে একটি অফিস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একই মালিকের তিনটি প্রতিষ্ঠানে এ্যাকাউন্টস ও ফাইনান্স বিভাগে শাওন ম্যানেজার পদে কর্মরত। শাওনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার বুলকুচি থানায়।
বাড্ডা থানায় জনৈক এক যুবতীর দায়ের করা মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, খালিদ হাসান শাওন ডঃ শ্রাবন হাসান সাগর নামে ফেসবুকে একটি আইডি খুলেন। এই আইডিতে নিজেকে নাসা’র ক্যান্সার গবেষক পদে আমেরিকায় কর্মরত উল্লেখ করা হয়। এই আইডি থেকে তিনি ভুক্তভোগী যুবতীর আইডিতে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। দীর্ঘ কয়েক মাস পর ওই যুবতী ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টটি একসেপ্ট করেন। এক পর্যায়ে তাদের দু’জনের মধ্যে ম্যাসেঞ্জারে চ্যাটিং হয়। এরপর কথিত ডঃ শ্রাবন হাসান সাগর জানান, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত তার পরিবার তার জন্য পাত্রী খুজঁছে।
পাত্রী হিসেবে ভুক্তভোগী যুবতীকে তার খুব পছন্দ হয়েছে। তাই তার জীবনবৃত্ত দিতে বলেন এবং জীবন বৃত্তান্ত দেওয়ার পর ডঃ শ্রাবন হাসান সাগর আইডি থেকে জানানো হয় তার বাবা মা ও পছন্দ করেছে। তাদের কথা বলার জন্য নাসা সংস্থা থেকে পারমিশনের জন্য যুবতীর কাছে তার এনআইডি কার্ড, পাসপোর্ট এর ফটোকপি চেয়ে নেন। যে হেতু উভয় পক্ষ বিয়েতে রাজি তাই যুবতীর কাছে তার ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ডও চান। তাতে তার অতীত সম্পর্কে জানার জন্য। সরল মনে ওই যুবতী তাতে পাসওয়ার্ড দিয়ে দেন। তাকে সব সময় অনলাইনে পাওয়া যাবে না তাই তার ঘনিষ্ট বন্ধু আইডি হলো ‘শ্রাবন মেঘ’ এ আইডির সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। শ্রাবন মেঘ আইডিতে নিজেকে ব্রেস্ট থেরাপিস্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এক পর্যায়ের ব্রেস্ট ক্যান্সার গবেষক ডঃ শ্রাবন হাসান সাগর,এভাবে ইঞ্জিনিয়ার খালিদ হাসান শাওন ডাঃ ফারজানা নদী নামে আরেকটি ফেসবুক আইডি তৈরি করে ভুক্তভোগীকে ব্রেস্ট থেরাপি নিতে মানসিকভাবে ফসলানো এবং চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
তাতেও ভুক্তভোগী রাজি না হলে ইঞ্জিনিয়ার খালিদ হাসান শাওন ভুক্তভোগীর নাম ছবি ব্যবহার করে ফেক আইডি খুলে পর্ণোছবি দিয়ে তাকে হয়রানী করতে থাকে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী অন্তর বাড্ডা থানায় একটি জিডি করেন। সর্বশেষ বাড্ডায় থানায় মামলা করা হলে এই মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে গতকাল ঢাকা মহনগর গোয়েন্দা পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের এস আই নাসিরের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। জানা যায়, খালিদ হাসান বহু যুবতীকে ব্ল্যাক মেইলিং করে ভোগ করতো। বরে বলে বেড়ায় তার হাত অনেক লম্বা তাকে কেউ কিছুই করতে পারবে না।