ফ্যাসিবাদের দোসর এলজিইডি’র মাফিয়া ডন দুর্নীতির মাষ্টারমাইন্ড
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলি পরিষদের নেতা নরসিংদী এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহর শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি থাকা শত্বেও এখনো বহাল তবিয়তে
ফ্যাসিবাদের দোসর এলজিইডির দুনীতি পরায়ন সাবেক পিরোজপুরের নিবাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহ, বর্তমান স্হানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন দেদারসে। এলজিইডির দাপটি নিবাহী প্রকৌশলী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর পিরোজপুর জেলার ভান্ডারীয়ার সাবেক এমপি, মিরাজ ও মহারাজের ডানহাত সাবেক পিরোজপুরের নিবাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প পরিচালক) মহা ক্ষমতাধর লীগের সুবিধাভোগী ফুলকাম বাদশাহ শত শত কোটি টাকার কাজ না করে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন এলজিইডি তে। আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক দুনীতির মহা গুরু, দুনীতির বর পুত্র ফুলকান বাদশার বিরুদ্ধে দুদকে তদন্ত চলাকালীন সময়ে স্ব-পদে বহাল থেকে এখনো কমিশন, ঘুঘ বানিজ্য, করে চলেছেন কোন ক্ষমতা বলে নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশা বহাল এখনও।
সুত্রে যানা জায়, সম্প্রতি প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে নরসিংদী থেকে সদরদপ্তরে বদলী করা হলেও তাঁর অবৈধ টাকা ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ও অদৃশ্য শক্তি বলায়য়ের মাধ্যমে সেই বদলীর আদেশ বাতিল করেন লীগ সরকারের আমলে দাপটি নিবাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহ। নারী কেলেংকারী হোতা, নিবাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহর দুনীতি থামাবে কে? ভুয়া বিল ভাউচারের মাস্টার মাইন্ড নিবাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহ, রাজধানীর তেজগাঁও মনিপুর পাড়াতে ২১ শত স্কয়ার ফিট্ ফ্ল্যাট ক্রয় করে সেখানে সুন্দরী রমনীগণকে নিয়ে আমদ ফুর্তি করেন বিভিন্ন সরকারি বন্দের দিন। এছাড়া সুন্দরী রমনীদের কে নিয়ে বিভিন্ন রিসোর্টে আমোদ ফুর্তিতে ব্যাস্ত থাকেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের সংবাদকে জানান এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তারা।
খোঁজ নিয়ে আরও যানা জায়, বিগত সময়ে পতিত লীগ সরকারের আমলে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই মিথ্যা ভুয়া বিলের মাধ্যমে প্রায় (২৩৫) কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে (এলজিইডি) মহা ঘুষখোর দুর্নীতি পরায়ন লীগের দোসর নিবাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশার বিরুদ্ধে।
শতকোটি টাকার দুনীতির অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের কথাও সাম্প্রতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একাধিক তদন্তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্র্নিমাণ/পুনর্বাসন প্রকল্প (ওইজচ)-এর সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে ফুলকাম বাদশার বিরুদ্ধে প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজে কাজ না করে বিল উত্তোলনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও এখনো রয়েগেছেন সকল ধরাছোঁয়ার বাইরে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় ১২৫টি প্যাকেজসহ মোট ১২৮টি প্যাকেজের বিপরীতে কাজ না করে বিলের মাধ্যমে ২৩৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৮ হাজার ৩০০ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সমূদয় টাকা আত্মসাৎ করছে সাবেক পিডি ও নিবাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহ।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফুলকাম বাদশা ২০২১ সালের ৩০ মে থেকে ২০২৩ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্র্নিমাণ/পুনর্বাসন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩ সালের ৩ মে থেকে একই বছরের ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পরও বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এলজিইডি নরসিংদীর তে ঘুষের রাজত্ব চলছে তাঁর নেতৃত্বে।সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে রমরমা কমিশন বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি বলে গোপন সুত্রে যানা গেছে। তাঁর বদলীর আদেশকে ঘিরে চলছে নানান গুনজন এলজিইডি সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে।
বদলি আদেশ নিয়েও প্রশ্ন বৃদ্ধ। সুত্রে আরও যানা গেছে , ২০২৬ সালের ৫ মে জারি করা একটি আদেশে হুমায়ুন কবিরকে নরসিংদীতে বদলি করা হলেও তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি এবং পরবর্তীতে ওই বদলি আদেশ বাতিল হয়। এ ঘটনায় ফুলকাম বাদশার নরসিংদীতে বহাল থাকা নিয়ে প্রশাসনিক, দুর্বলতাকে ঘাটতি আছে বলে এলজিইডি সাধারণ কর্মকর্তা দের নিকট সহ অন্য অন্য মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে একাধিক কর্মকর্তারা আজকের সংবাদ কে জানান। তবে বদলি আদেশ বাতিলের প্রকৃত কারণ, কার সুপারিশে তা বাতিল হয়েছে কিংবা কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না—সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তদন্তে আহবান জানিয়েছেন সাধারণ কর্মকর্তারা।
দুদকের অনুসন্ধানের দাবি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিরোজপুরের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ফুলকাম বাদশার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান চলছে। তবে অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থা, কোনো মামলা হয়েছে কি না এবং অভিযোগের বিষয়ে দুদকের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কী—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
লীগের দোসর নিবাহী প্রকৌশলী ফুলকাম বাদশাহ ব্যাপক আর্থিক দুনীতির তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ না করেই বিপুল অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপরও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। তাই অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র, কাজের বাস্তব অগ্রগতি, বিল-ভাউচার, পরিমাপ বই, ঠিকাদারি নথি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই করে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি উঠেছে। ফলে এখন মূল প্রশ্ন—২৩৫ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগের প্রকৃত সত্য কী এবং তদন্তে দায় কার ওপর নির্ধারিত হয়। এর উত্তর মিলবে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলে।