এলজিইডি’র ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল বারী প্রকল্পের উন্নয়নের নামে করেছে হরিলুট
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দোসর এলজিইডির বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক ও শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আস্তা ভাজন দুনীতিবাজ ঢাকা জেলার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল বারীর নেতৃত্বে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্যর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্রে জানা জায়, এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল বাছেদ মোহাম্মদ রেজাউল বারী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে থেকে বরাদ্ধের বিপরীতে কমিশন বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দেদারসে। দুনীতিবাজ রেজাউলবারীর পদোন্নতি ঘিরে ব্যপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল এলজিইডি তে। খোদ বর্তমান বিনপি সরকার প্রধান তাঁর আর্থিক দুনীতির বিষয়ে প্রকাশ্যে দুনীতির বর পুত্র আবুল বাছেদ মোহাম্মদ রেজাউল বারী (এ বি এম রেজাউল বারী) দুনীতির বিষয়ে কথা বলতে দেখা গেছে। অথচ এখন লীগের দোসর ও লীগের সুবিধাভোগী অতিরিক্ত প্রধান রেজাউল বারী কর্মক্ষেত্রে বহাল তবিয়তে আছেন।
ঢাকা বিভাগ, এলজিইড ঘুষখোর বি এম রেজাউল বারীর দুনীতির কারণে বিগত সময়ে তাঁর প্রকল্পের কার্যক্রম ভারা ডুবেয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকা বলে একাধিক কর্মকর্তারা আজকের সংবাদ কে জানান। এ বি এম রেজাউল বারীর বর্তমান কর্মস্থলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তার অফিস,এখন দুনীতির আখরায় পরিনত করেছেন। তাঁর প্রধান সেনাপতি হিসেবে আছেন সদ্য নিবাহী প্রকৌশলী থেকে পদায়ন কৃত তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দুনীতিবাজ নারী কেলেংকারী হোতা কামরুল জামান ও লীগের দোসর ঢাকা জেলার নিবাহী প্রকৌশলী শরিফুজ্জামান।
এলজিইডি, ঢাকা বিভাগকে ঘুষ দুনীতির অভয়ারণ্যে পরিনত করেছেন এই ৩ কর্মকর্তা মিলে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। খোঁজ নিয়ে আরও যানা গেছে, বিগত ২০১৮ সালে ১৭ মে থেকে ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক হিসেবে, বন্য ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো পুর্নবাসন প্রকল্পের ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। বনে গেছেন শত কোটি টাকার মালিক এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ বি এম রেজাউল বারী। এছাড়া প্রকল্প খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ হরি লুট করেছে লীগের দাপট দেখিয়ে, প্রকল্পে কাজ না করে কেবল কাগজ দেখিয়ে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে পিরোজপুর জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকার সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বড় অংকের অর্থ তছরুপের অভিযোগ থাকলেও অদৃশ্য শক্তি কারণে সেই সকল অভিযোগ আজও আলোর মুখ দেখেনি।
দুর্নীতির প্রধান অভিযোগ সমূহ কাগজে-কলমে কাজ দেখানো: মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার ও কাগজ পত্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে দুনীতিবাজ রেজাউল বারীর বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক প্রভাব: বিগত লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও বিতর্কিত সংসদ সদস্যদের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। প্রকল্পের আওতায় অর্থ আত্মসাৎ: পিরোজপুরসহ নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বরাদ্দকৃত বিশাল পরিমাণের অর্থের সুনির্দিষ্ট হদিস না পাওয়ার অভিযোগ আলোচিত হয়েছেন তিনি অথচ তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি সংসৃষ্ট মন্ত্রণালয়। একাধিক সুত্রে আরও জানা জায়, বিগত সময়ে পতিত স্বৈরাচারী লীগের দাপটে এলজিইডিতে কাজ না করে টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত রেজাউল বারীর পদোন্নতি বাগীয়ে নিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ঘুষ দুনীতি কমিশন বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন দের্দাচ্ছে।
আওয়ামী আমলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ ছিলেন আলোচনায়, শেখ সেলিম ও এমপি জ্যাকবের ঘনিষ্ঠতার কারণে কাউকে পরোয়া করতেন না রেজাউল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলঅধিদপ্তরের তার গঠিত সিন্ডিকেট বাহীনি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন মহা ঘুষখোর রেজাউল। তার বিরুদ্ধে পিরোজপুর জেলার কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান চলছে বলে দুদক সুত্রে যানা গেছে। দুনীতি পরায়ন লীগের দোসর কে এমন অবস্থায় তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে কোন পন্থায় যা এখন সকলের মুখে মুখে। অভিযোগ উঠেছে রেজাউল বারীকে বেশ মোটা অঙ্ক খরচ করতে হয়েছে পদন্নোতি ঘীরে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ফ্যাসিস্ট সরকারকে সহযোগিতার অভিযোগ থাকায় বিগত ইউনূস সরকারের আমলে পদন্নোতি দেয়া হয়নি। তবে সম্প্রতি সুকৌশলে তিনি পদন্নোতি বাগিয়ে নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ১৭ মে থেকে ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত রেজাউল বারী বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের (এফডিডিআরআইআরপি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় প্রকল্পের কাজ না করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগটির বিষয় দুদকে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত রেজাউল বারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক। শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও ভোলার পালাতক এমপি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সাথে ঘনিষ্ঠতাই ছিল তার এই দাপটের ক্রীড়নক। এ ছাড়া পিরোজপুরের পালাতক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের দাপটে তিনি কাজ না করে কেবল কাগজ দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে শেখ মুজিবের সমাধিতে ফুল দিতে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়েছিলেন রেজাউল বাড়ি। সেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটাক্ষ করে নানা আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে আলোচিত হলেও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন এলজিইডি তে। তার পরিচালিত প্রকল্পের দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। এরপরও তার এই পদোন্নতি, বিষয়টা নিয়ে প্রশাসনে চলছে অস্থিরতা। গত ১১ মে প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুর জেলার উদাহরণ টেনে বলেন, একটি মিনিস্ট্রি (এলজিআরডি) থেকে কাজ না করে কেবল কাগজ দেখিয়ে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে একটি জেলাতেই প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার হদিস নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, অতীতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের তথ্য টাকার বিনিময়ে পরিবর্তন করে দুদকের চলমান তদন্তের বিষয় গোপন করা হয়েছে। রেজাউল বারীর মেয়ের জামাইও এলজিইডির কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব তথ্যও এখন ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং দুদকের চলমান তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পদোন্নতি দেয়ায় এখন জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয় বক্তব্য জানতে চেয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি অভিযুক্ত আবুল বাছেদ মো: রেজাউল বারী।