৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে সাসপেন্ড আর ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পদোন্নতি ও প্রাইজ পোস্টিং

নরসিংদী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার ও নকলনবীশ মিলে নানা কায়দায় সরকারী রাজস্ব লোপাটের প্রতিযোগীতায় লিপ্ত ছিল।

৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে সাসপেন্ড আর ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পদোন্নতি ও প্রাইজ পোস্টিং

নরসিংদী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার ও নকলনবীশ মিলে নানা কায়দায় সরকারী রাজস্ব লোপাটের প্রতিযোগীতায় লিপ্ত ছিল। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রে পরিনত হয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ দুর্নীতির পাশাপাশি সরকারী রাজস্বও আত্মসাৎ করে আসছিল। এই পুকুর চুরি ঘটনাটি জানাজানি হলে তদন্ত শেষে অভিযুক্ত নরসিংদী সদর সাব-রেজিস্ট্রার নিহার রঞ্জনকে সাময়িক বরখাস্ত করে মহা পরিদর্শকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করেছেন।

অভিযুক্ত ঐ সাব-রেজিস্ট্রারের বাড়ী বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার কারফা গ্রামে। মামলার বাদী সাইদুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেন, দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে নিহার রঞ্জন ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ২০ লাখ ১৪ হাজার ৩৭৯, ফেব্রুয়ারিতে ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ১৫২, মার্চে ২৭ লাখ ৭ হাজার ৫৪৩, এপ্রিলে ১৩ লাখ ৮ হাজার ৭৫০, মে মাসে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৫, জুনে ৪৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৫০, জুলাইয়ে ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ৪১০, আগস্টে ৩০ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৯, সেপ্টেম্বরে ৩০ লাখ ৯৯ হাজার ৮২২, অক্টোবরে ৩০ লাখ ৩৪ হাজার ৫৮৮ এবং নভেম্বরে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নিহার রঞ্জন নরসিংদী সদর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার থাকাকালে ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নরসিংদী সদর অফিসে দলিল সম্পাদনকালে উৎস কর বাবদ আদায় করা অর্থ সংশ্লিষ্ট ফি বইতে প্রদত্ত যোগফল প্রকৃত যোগফল অপেক্ষা কৌশলে কম দেখিয়ে দুই কোটি ৭০ লাখ ১২ হাজার ৯৮২ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

সাব-রেজিস্ট্রার নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদকের সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-২ এর উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম ও ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ গঠিত এনফোর্সমেন্ট টিম গতবছরের ৩০ মার্চ অভিযান চালিয়ে প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নরসিংদী সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল সম্পাদনকালে রেজিস্ট্রি খরচ, সরকারি রাজস্ব আদায় বাবদ অর্থ অর্থাৎ উৎস কর, স্থানীয় সরকার কর, রেজিস্ট্রেশন ফি ও স্ট্যাম্প ফি বাবদ আদায় করা অর্থ, পে-অর্ডারগুলো দিনভিত্তিক পৃথক রেজিস্ট্রার মোতাবেক আদায় ও লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। দিন শেষে প্রকৃত আদায় অর্থ, পে-অর্ডারগুলোর অর্থ ব্যাংকে কম জমা দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার নিহার রঞ্জন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দিন শেষে ফি বহিতে প্রদত্ত যোগফল প্রকৃত যোগফল অপেক্ষা কম। এভাবে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ঐ বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত উৎসকর বাবদ আদায় করা টাকা সংশ্লিষ্ট ফি বইতে প্রকৃত আদায়ের যোগফল অপেক্ষা কম দেখিয়ে নিহার রঞ্জন দুই কোটি ৭০ লাখ ১২ হাজার ৯৮২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

পরবর্তীতে নিবন্ধন অধিদপ্তর সাব-রেজিস্ট্রার নিহার রঞ্জনকে সাসপেন্ড করে মহা নিবন্ধকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করেন। ওদিকে নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলেও একই অফিসের ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎকারী নরসিংদী সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার সাব্বির আহমেদ এর বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন না করে জেলা রেজিস্ট্রার পদে পদোন্নতি দিয়ে ঝিনাইদহে বদলী করে প্রাইজ পোস্টিং দিয়েছেন। জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করলে সাসপেন্ড আর ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করলে হয় পদোন্নতি ও প্রাইজ পোস্টিং।

এব্যাপারে বিভাগীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা সাবেক আইআরও হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান অভিযোগটি আইআরও   মোস্তাক আহমেদ তদন্ত করছেন। মোস্তাক আহমেদকে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান অতিরিক্ত মহা পরিদর্শক আব্দুস সালাম আজাদ জানেন। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। একটি সুত্র জানিয়েছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিবন্ধন অধিদপ্তর শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন। ফলে পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। আর ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে জেলা রেজিস্ট্রার সাব্বির আহমেদ এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন।