সমবায়ের নামে প্রতারনা করে অবৈধ ব্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিংশুক বহুমুখী সমবায় সমিতি
সমবায় আইন লংঘন করে অবৈধ ব্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিংশুক বহুমুখী সমবায় সমিতি লি:।
সমবায় আইন লংঘন করে অবৈধ ব্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিংশুক বহুমুখী সমবায় সমিতি লি:। সমবায় সমিতি আইন ২০০১ (সংশোধিত ২০০২,ও ২০১৩) এর ২৬ ধারায় বলা হয়েছে- ”বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক ব্যতিত কোন সমবায় সমিতি উহার সদস্য ছাড়া অন্যকোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে আমানত গ্রহন বা ঋণ প্রদান করতে পারবেনা”। অথচ কিংশুক অসদস্যদের নিকট থেকে আমানত গ্রহন ও ঋণ প্রদান করছে। যাদের বলা হয় প্রকল্প সদস্য।
সমিতির প্রকল্প সদস্য প্রায় ৫৪ হাজার। শেয়ার হোল্ডার সদস্য ৮২ জন। এই ৮২ সদস্যই মুলত: কিংশুকের মালিক ও সুবিধাভোগী। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, কিংশুক সমবায়ের ছদ্মাবরণে প্রাইভেট লি: কোম্পানী। সমবায় আইনে প্রকল্প সদস্য বলে কোন কিছুর স্বীকৃতি নেই। কিংশুকের ২০১৬-২০১৭ সনের ৩৬৮ পৃষ্ঠার বার্ষিক অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে নানা অনিয়ম দুর্নীতি। তথ্য মতে, বিশেষত:কালো টাকার আমানত বেশি।
সমবায় অধিদপ্তরের অডিটে বারবার অবৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম তথা ব্আেইনি কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও কিংশুক কর্র্তৃপক্ষ তোয়াক্কা না করে ঠুনকো যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করছেন। তবে তা বেআইনি হওয়ায় অডিট দল প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া সমবায় সমিতি আইন -২০১৩ (সংশোধন) এর ১৮(১) ধারা ভঙ্গ করে কিংশুক জেলা ও উপজেলায় ২৫ টি শাখা কার্যালয় পরিচালনা করছে।
এসব শাখা কার্যালয়ের মাধ্যমেও আমানত সংগ্রহ ও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।নাম দেয়া হয়েছে কিংশুক সমবায় বিকাশ কেন্দ্র। তারা আইন ভঙ্গ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যে কারনে সম্প্রতি সমবায় অধিদপ্তরও সংবাদ মাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন করার ব্যাপারে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। অথচ লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছেনা এই কথিত সমবায় প্রতিষ্ঠানের।
সমবায় আইন বিধিমালা কিছুই তোয়াক্কা করছে না। সমবায় বিশ্লেষকদের মতে এটা আসলে প্রতারনা। যে বিশাল সদস্য সংখ্যা বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে তারা আসলে শেয়ার হোল্ডার সদস্যের মর্যাদা পায় না। কাগজ কলমে ছাড়া কোন নির্বাচন হয়না। এই সাধারন সদস্যদের কখনোই ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নেয়া হয়না। সাধারন সভায়ও ডাকা হয় না। মূলত: সমবায় আইন রক্ষার জন্য নামকাওয়াস্তে কাগজ পত্রে এদের সদস্য বানিয়ে ঋণ দেয়া হয় এবং আমানত গ্রহন করা হয়। এই ধরনের সমবায় সমিতিতে অপ্রদর্শিত কালো টাকা আমানত রাখা হয়।
ব্যাংকের চেয়ে সুদের হারও এখানে বেশি। তাই লোভে পড়ে অনেকে আমানত রাখে। পরে সর্বস্ব খোয়া যায়। মূলত: এটা সমবায়ের ছদ্মাবরনে মহাজনী সুদের ব্যবসা ছাড়া আর কিছু না। এটা আসলে প্রতারনা। গুটি কয়েক ব্যক্তি, মানুষ এর সুবিধা ভোগী। বিশেষ করে একটি পরিবার। প্রতিষ্ঠান গুলো আসলে প্রকৃত সমবায় নয়। ব্যবসার স্বার্থে সমবায় দর্শনকে ব্যবহর করছে মাত্র। ধনবান ব্যক্তিরা ব্যাংক করতে না পেরে সমবায়ের আশ্রয় নেয়।
আবার ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে সমবায়ের আলাদা কোন লাইসেন্স লাগেনা তাই সুদের ব্যবসায়ীরা সমবায়ের আশ্রয় গ্রহন করে। সমবায়ের নামে প্রতারনা না করে তাদের উচিত ব্যাংকের লাইসেন্স নেয়া। এসকল সমবায় সমিতি সমবায় দর্শন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয় না। সম্প্রতি একই ধরনের সমবায় সমিতি চাটার্ড ক্রেডিট কো-অপারেটিভ গ্রাহকদের টাকা না দিয়ে লাপাত্তা হয়েছে।
আজিজ কো-অপারেটিভ গ্রাহকদের টাকা দিচ্ছে না। এর পূর্বে ডেসটিনি, নিউওয়ে, ম্যাক্সিম, আইডিয়াল সহ অনেক বহুমুখী সমবায় সমিতি আমানতকারীদের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে। কিংশুক যে অনুরূপ পরিনতি বরণ করবে না তার নিশ্চয়তা দেবে কে? তাই এখনই লাগাম টেনে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ।