শারীরিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতায় ফিজিওথেরাপি

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার জম্মঃ

শারীরিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতায় ফিজিওথেরাপি

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার জম্মঃ
ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নতুন কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। তথ্য-উপাত্ত অনুসারে ১৮৯৪ সালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার বর্তমান ধারা শুরু হয়। ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অন্যতম এবং অপরিহার্য শাখা। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বতন্ত্র চিকিৎসা পদ্ধতি। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর রোগ নির্ণয় করে পরিপূর্ণ চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন। 

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক কারাঃ
বাংলাদেশ সরকার কতৃক স্বীকৃত এবং ঢাকা  বিশ্ববিদ্যালয় এর মেডিসিন ফ্যাকাল্টি কতৃক অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি বা বি পি টি  ডিগ্রিধারী চিকিৎসকরাই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত বা  ফিজিওথেরাপিস্ট বা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার উপর স্পেশালিষ্ট  হিসেবে গণ্য হন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল-২০১৮-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকরা স্বাধীনভাবে পেশার চর্চা করতে পারবেন। এজন্য কারও অধীনস্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকগন ফিজিওথেরাপি কনসালটেন্টের অধীনে কাজ করবেন । অন্য কনসালটেন্টের অধীনে নয়। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকদের সাহায্য করবে ফিজিওথেরাপি এ্যাসিসটেন্টগন। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকরা রোগীর রোগ পর্যালোচনা ও সমস্যা নির্ণয়ের মাধ্যমে উপযুক্ত চিকিৎসা দিবেন। তিনি লব্ধজ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়ায় সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বনির্ভর।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ক্ষেত্রঃ
একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক যেসব রোগ বা সমস্যায় চিকিৎসা দেন, সেগুলো হলো মাস্কুলোস্কেলেটাল ও অর্থোপেডিকস কন্ডিশন, নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুতান্ত্রিক কন্ডিশন ও নিউরো সার্জিক্যাল কন্ডিশন,  রেসপিরেটরি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত কন্ডিশন, কার্ডিয়াক বা হার্টে র সঙ্গে সম্পৃক্ত কন্ডিশন। পেডিয়াট্রিক বা শিশুদের সমস্যাজনিত কন্ডিশন, জেরিয়াট্রিক বা বয়স্কদের বিভিন্ন কন্ডিশন,  স্পোর্টস বা খেলাধুলায় আঘাতজনিত সমস্যা, গাইনোকলজিক্যাল কন্ডিশন, বিভিন্ন প্রকার মেডিক্যাল ও সার্জিক্যাল কন্ডিশন,  পেলিয়াট্রিক কেয়ার এবং আর্গোনমিক্যাল উপদেশ। এছাড়াও একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক আই সি ইউ, এন আই সি ইউ, সি সি ইউ, পি আই সি ইউ তে কাজ করে থাকেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার জিজএ্যাবিলিটি ও রি-হ্যাবিলিটেশনের চিকিৎসা করে থাকেন।

যে কারণে দেয়া হয় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা:

যেসব কারণে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দেয়া হয় এর অন্যতম হলো ব্যথা উপশম, অস্থিসন্ধির সচলতা, নড়ন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও যথাযথ অবস্থা বজায় রাখা; মাংসপেশির শক্তিবৃদ্ধি এবং যথাযথ অবস্থা বজায় রাখা, যেকোনো অঙ্গ বিকলাঙ্গতা থেকে রক্ষা করা, শারীরিক ভারসাম্যের উন্নতি করা, মাসলটোনকে স্বাভাবিক করা, ফুসফুসের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও এর ধারণক্ষমতা যথাযথ বজায় রাখা এবং উন্নতি করা, শ্বাসকষ্ট উপশমের ব্যবস্থা করা, স্নায়ুতান্ত্রিক যেকোনো রোগাক্রান্ত শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা (যেমন: সেরিব্রাল পালসি, স্পাইনা বাইফিডা ও অটিজম) এবং জেরিয়াট্রিক ও গাইনোকলজিক্যাল সমস্যা প্রতিরোধ ও প্রশমন। বাংলাদেশে বাত-ব্যথা ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা হয় না। এ কারণে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রোগ নিরাময় ও প্রতিরোধে প্রয়োজন যথাযথ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। দীর্ঘমেয়াদি রোগ, বিশেষ করে বাত-ব্যথা ও পক্ষাঘাতের রোগীদের সমস্যা ওষুধ দিয়ে নিরাময় সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। এবার জেনে নেওয়া যাক কাদের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রয়োজন। আমরা যদি আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের কথা চিন্তা করি তাহলে দেখতে পাব, শুধু ওষুধ সব রোগের পরিপূর্ণ সুস্থতা দিতে পারে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি যেমন অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, তেমনি কিছু রোগে ওষুধের  পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে যেসব রোগের উৎস বিভিন্ন মেকানিক্যাল সমস্যা ও ডিজেনারেটিভ বা বয়সজনিত সমস্যা, সেসব ক্ষেত্রে ওষুধের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম। যেমন : বাতের ব্যথা, স্পোর্টস ইনজুরি, হাড়ের ক্ষয়জনিত ব্যথা, সারভাইক্যাল ও লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস, ডিস্ক প্রলেপস, অস্টিও-আরথ্রাইটিস, ফ্রোজেন সোল্ডার বা  জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া, প্লাস্টার বা অস্ত্রোপচার পরবর্তী জয়েন্ট স্টিফনেসস, স্ট্রোক জনিত প্যারালাইসিস, হেড ইনজুরি জনিত প্যারালাইসিস, ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিস বা বেলস পালসি, সেরেব্রাল পালসি বা সিপি বাচ্চা  ইত্যাদি। এসব রোগ হতে পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভের জন্য ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রয়োজন।

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আবু সালেহ আলমগীর

কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান

ফিজিওথেরাপি মেডিসিন এন্ড রি-হ্যাবিলিটেশন বিভাগ

এ ওয়ান হাসপাতাল রিমিটেড

মোবাইলঃ ০১৬৪১৫৭৬৭৮৭, ০১৭৩৮৩৯৪৩০৯এ