চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের করেরহাট রেঞ্জে ফরেস্ট শিবুর নেতৃত্বে চলছে গাছ পাচারের মহোৎসব
করেরহাট ফরেস্ট রেঞ্জের অধীন করেরহাট বিট কাম চেক স্টেশন চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের অন্তর্গত করেরহাট ফরেষ্ট রেঞ্জের অধীন করেরহাট বিট।
করেরহাট ফরেস্ট রেঞ্জের অধীন করেরহাট বিট কাম চেক স্টেশন চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের অন্তর্গত করেরহাট ফরেষ্ট রেঞ্জের অধীন করেরহাট বিট। যুগযুগধরে বন সমৃদ্ধ এই ফরেস্ট বিটের বিভিন্ন গাছের সমারোহে মানুষ আবির্ভূত হত। বন কাকে বলে তা এই বন দেখলেই মানুষের প্রাণ জুড়িয়ে যেত।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের বারৈয়ারহাট দিয়ে খাগড়াছড়ি যাওয়ার যে নয়নিভিরাম মনজুড়ানো বন সমৃদ্ধ পথ সেটিই হচ্ছে করেরহাট ফরেস্ট বিট এলাকা। বর্তমানে এই করেরহাট বিট এর বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন শিবু দাস রায়। একই সাথে সড়কের পাশে করেরহাট ফরেস্ট রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে বাজারের মাঝখানে করেরহাট ফরেস্ট চেক স্টেশনেরও দায়িত্ব পালন করছেন।
কতইনা ভাগ্যবান এই ফরেস্ট শিবু দাস রায় একাই বিট এবং বিট কাম চেক স্টেশনের দায়িত্ব থেকে বনবিটের বিভিন্ন মূল্যবান গাছ অবৈধ কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে যোগ সাজসে সরকারি বনের কাঠ কাটিয়ে প্রতি ঘনফুট হিসেবে ২ থেকে ৩ হাজার করে টাকা নিয়ে প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করছেন একটি গাছে যদি ১০ থেকে ২০ ঘণফুট কাঠ জমে তাহলে শিবু দাস রায় ফরেস্টার সেই হিসেবে অবৈধ টাকা উপার্জন করে থাকেন।
করেরহাট বনবিট এখন রক্ষার নামে শিবু দাস রায় ফরেস্টার টাকা কামানোর মহোৎসবে নেমে বন ধ্বংসের কাজে নির্লজ্জভাবে লিপ্ত হয়েছেন উক্তবন বিটের একজন বনপ্রহরীর নাম গোপন করার শর্তে বলেন যে করেরহাট বিটের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির যে পথ গেছে উক্ত রাস্তার দুপাশে যে বন দেখা যায় একটু ভিতরে ঢুকলেই দেখা যাবে এমন বৃক্ষহীন উলঙ্গ পাহাড় ছাড়া আর কিছুই নেই। যাও আছে শিবু দাস রায় ফরেস্টার আর কয়েক মাস এখানে থাকলে এই বনের অবশিষ্ট মূল্যবান গাছগুলিও বিক্রি হয়ে যাবে।
খাগড়াছড়ি বারৈয়ারহাট সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ টি কাঠ ভর্তি ট্রাক খাগড়াছড়ি থেকে ফেনী, কুমিল্লা এবং ঢাকায় আসে চলাচল পাশের অণুবলে পরিবাহিত এসব ট্রাকের কাঠের সহিত চলাচল পাশে বর্ণিত কাঠের জাত, মাপ, পরিমাপ, মালিকানা হাতুড়ির সঠিককতা পাওয়া যাবে না যদি সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হয়। এমনকি বন বিভাগের যে হাতুড়ির চিহ্ন কাঠে থাকে তাও পরীক্ষাতে জাল ধরা পড়বে। এ কারণে প্রতি ট্রাকে শিবু দাস রায় প্রকারভেদে পরীক্ষার নামে ১৫ থেকে ২০ হাজার করে টাকা নিয়ে থাকেন।
খাগড়াছড়ি থেকে যেসব কাঠ ভর্তি ট্রাক আসে সব ট্রাক শিবু ফরেস্টরের করেরহাট চেক স্টেশনের ছাড়পত্র নিতে হয়। শিবু এক দিকে করেরহাট বিটের গাছ বিক্রি করছেন অপরদিকে খাগড়াছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, ফটিকছড়ি ইত্যাদি স্থান হতে যে সমস্ত কাঠ ট্রাকে তার চেক স্টেশনের সামনে দিয়ে যায় তা নির্ধারিত অংকের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়।
এক কথায় তিনি সরকারি বনের গাছ বিক্রি এবং অন্যান্য এলাকা থেকে আসা গাছ পাচারে সহযোগিতার মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে ফরেস্টার শিবু রায় দায়িত্বে থাকা করেরহাট চেক স্টেশনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল খাগড়াছড়ি, শিষক, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, মানিকছড়ি এবং চট্টগ্রাম বন বিভাগের সরকারী বনের গাছ যেন পাচার হতে না পারে সেই লক্ষে কিন্তু এখন যা হচ্ছে তার উল্টোটা।
চলাচল পাস ছাড়া সম্পূর্ণ অবৈধভাবে প্রতি রাতে ৭ থেকে ৮ টি কাঠের ট্রাক প্রতি ট্রাক ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা শিবু রায় ফরেস্টারকে দিয়ে করেরহাট চেক স্টেশন ক্রস করে। শিবু রায় ফরেস্টার এর অধীনস্থ একজন বনকর্মীর নিকট থেকে জানা যায় যে শিবু নির্ধারিত হারে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট উপার্জিত অর্থের ভাগ পৌঁছে দিয়ে থাকেন। এ কারণে তিনি কোন কিছু ভয় পান না।
করেরহাট রেঞ্জের অধীন অন্দারমানিক বিট এবং কয়লা ও হিয়াকো বিটের গাছ সমূহ ও শিবু ফরেস্টার এর কারণে নিরাপদ নয়। এই মাসের প্রথম দিকে শিবু ফরেস্টার রাত্র অনুমান ২ ঘটিকার সময় একটি বাল্পিকাঠ ভর্তি অবৈধ কাঠের ট্রাক ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেন যখন তিনি জানতে পারেন ঐ ট্রাকের মধ্যে শুধু বল্লি কাঠ নয় ভিতরে চিরাই কাঠ রয়েছে তখন তিনি আরো বেশি টাকা পাওয়ার মানসে ট্রাকটি আবার আটক করেন তখন ট্রাকের ড্রাইভার হেলপার এবং কাঠের মালিক একত্র হয়ে শিবু ফরেস্টারকে মারধর করে শিবুর হাত ভেঙ্গে দেয় এবং জোর করে ট্রাকটি নিয়ে যায়। স্থানীয় জনগনের প্রশ্ন এমন ঘটনা আর কত ঘটবে এমন কিছু আর কত শুনতে হবে?