লুটপাটে ও দুনীতির শীর্ষে লীগের দোসর বিএডিসি’র পিডি নুরুল ইসলাম

সৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে প্রকল্প পরিচালক এর পদটি বাগীয়ে নেন বিএডিসি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম।

লুটপাটে ও দুনীতির শীর্ষে লীগের দোসর বিএডিসি’র পিডি নুরুল ইসলাম

সৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে প্রকল্প পরিচালক এর পদটি বাগীয়ে নেন বিএডিসি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভু-উপরিস্হ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হয়ে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নী। বনে গেছেন রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক। রাজধানীর মিরপুর সহ একাধিক জায়গায় ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে তাঁর নিজের নামে ও তার স্ত্রী -সন্তান দের নামে। কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে তিনি। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে ও বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন নামে বে নামে। লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছিলেন তিনি।

নারী কেলেংকারীতেও পিছিয়ে নেই পিডি নূরুল ইসলাম। তার অধীনস্থ নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে বিভিন্ন ভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে নাজেহাল করে থাকেন তিনি বলে নাম প্রকাশ না করা সর্তে বিএডিসি’র চট্টগ্রাম সার্কেলের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীগন আজকের সংবাদের এই প্রতিবেদককে জানান। তারা আরো জানান বহিরাগত সুন্দরী নারীদের নিয়ে মধ্যেরাত পর্যন্ত অফিস কক্ষ বন্ধ রেখে আমোদপূর্তিতে লিপ্ত থাকেন যা উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তারা।

পতিত সরকারের দোষ রদের অনেক এর বদলী কিংবা শাস্তির আওতায় আনা হলেও পিডি নুরুল ইসলাম রয়েগেছেন বহাল তরিয়াতে সকল ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। সুত্রে মতে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যখন যেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন সেই সকল স্থানেই জড়িয়েছেন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে। ভুয়া বিল ভাও চারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা  আত্মসাৎ করেছেন তিনি। তার এসকল অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষি সেক্টরের। মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকল্পের কর্যক্রম। নুরুল তার সিন্ডিকেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ স্বজনদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়াসহ নানা কারণে বিতর্কিত হলেও অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতার বহাল তরিয়াতে ঘুষ দুনীতি চালিয়ে তিনি।একাধিক সুত্রে যানা যায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতনদের ম্যানেজ ঘুষ দুনীতির সর্গরাজ্য পরিনত করেছেন লীগের দোষর পিডি নুরুল।

মহা ঘুষখোর নামে সু পরিচিত আলোচিত এই কর্মকর্তা বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ‘চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. নুরুল ইসলাম।চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কৃষি উন্নয়ন ও ভূ-উপরিস্থ পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত প্রায় সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়ে ফের দুর্নীতি ও অনিয়মে ডুবতে বসেছে প্রকল্পের কর্যক্রম।  প্রকল্পের আওতায় দায়সারা গোছের কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের আওতায় খাল খনন, কালভার্ট নির্মাণ, পুকুর ও জলাশয় তৈরি, গাড়ি ভাড়া, কম্পিউটারসহ নানা যন্ত্রপাতি ক্রয়ের কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টরা আবেদন জানিয়েছেন।সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষি খাতের উন্নয়নসহ পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছর একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রায় সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকার এই প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ কক্সবাজার অঞ্চলে নানা কার্যক্রম চলছে। কিন্তু এসব কার্যক্রমে দুর্নীতি ও অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতে নজিরবিহীন কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মাত্র দুই মাসে এই প্রকল্পের আওতায় অন্তত ৫শ’ টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ছুটির দিনেও ইস্যু করা হয়েছে ওয়ার্ক অর্ডার। অস্থায়ী লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম করে টাকার বিনিময়ে জনবল নিয়োগ দিয়েছেন তিনি।সুত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার কৃষি উন্নয়ন ও ভূ-উপরিস্থ পানির সুষ্ঠু ব্যবহার প্রকল্পের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি খাল পুনঃখনন, অনাবাসিক ভবন (ইউনিট অফিস), খালের পাড়ে আউটলেট স্থাপন, জলাধার/পুকুর খনন (পাড় বাঁধাই ও বৃক্ষরোপণ, ডাগওয়েল নির্মাণ (সৌরশক্তি চালিত পাম্পসহ), ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, আর্টেশিয়ান নলকূপ খনন ও কমিশনিং, রেগুলেটর বা সাবমার্জড ওয়্যারসহ বড় আকারের সেচ অবকাঠামো নির্মাণ, ক্রসড্যাম কিংবা কালভার্টসহ মধ্যম আকারের সেচ অবকাঠামো নির্মাণ, ফুটব্রিজ কিংবা ক্যাটলক্রসিংসহ ছোট আকারের সেচ অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ের বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সূত্র জানিয়েছে, এসব খাল খননের নামে দুই পাড়ের ঘাষ কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় সামান্য মাটি কাটা হলেও তা ধারেকাছেই ফেলে রাখা হয়েছে। বৃষ্টিতে যা আবার খালে গিয়ে পড়েছে। প্রকল্পের আওতায় কালভার্ট নির্মাণেও অনিয়ম হয়েছে বেপরোয়া ভাবে।

প্রকল্পটির আওতায় ৪০ দিনের কম সময়ে নজিরবিহীনভাবে ৪৬১টি টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে সরকারের  কৃষি উপদেষ্টা বরাবরে প্রেরিত এক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এসব টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কোনো ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। প্রকল্পের ভূমি জরিপের সবগুলো কাজ পেয়েছে ডিজিটাল সার্ভে কনসালটেন্সি ও ল্যান্ড সার্ভে টিম নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সম্পর্কে মা ও মেয়ে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। মেসার্স বিপ্লব ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৪ বছরের জন্য ৪ কোটি ৮১ টাকা ব্যয়ে তিনটি গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির মালিক প্রকল্প পরিচালক নিজে বলেও বিএডিসি অফিসে প্রচারণা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিজের পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ দিতে পিপিআর নীতিমালা লঙ্ঘন করে টেন্ডার বাছাই কমিটির চেয়ারম্যানও হয়েছেন প্রকল্প পরিচালক নিজেই। অন্তত ১০টি টেন্ডার ওটিএম পদ্ধতিতে কল করেও পরে তা স্থগিত করা হয়। পরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজগুলো ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে মোটা অংকের কমিশন গ্রহণের বিনিময়ে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে জাল অভিজ্ঞতা সনদের বিপরীতে ‘এন. মোহাম্মদ প্লাস্টিক ইন্ডাষ্ট্রীজ লিমিটেড’ নামক প্রতিষ্ঠানকে ১২টি টেন্ডারে ১১ কোটি টাকার ঁচঠঈ পাইপ সরবরাহের কাজ পাইয়ে দেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এছাড়াও, পছন্দের ঠিকাদারদের অতিরিক্ত সুবিধা দিতে রীতি ভঙ্গ করা, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করাসহ বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে। পুরো প্রকল্পটি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়সহ বিএডিসি’র সদর দফতরেও অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু প্রকল্প পরিচালকের বড় ভাই বিএডিসি’র শীর্ষ কর্মকর্তা হওয়ায় সব অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএডিসি চট্টগ্রাম অঞ্চলে সংঘবদ্ধ একটি চক্র কোটি কোটি টাকার হরিলুট চালাচ্ছে। বিভিন্ন সময় বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগ করা হলেও রহস্যজনক কারণে অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের  পিডি নুরুল ইসলাম ২০২১ সালে মুজিবনগর সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে ঘুষের রাজত্ব কায়েম করে চলেছিলেন তিনি। তবে মাত্র ৪ মাসের মাথায় একই বছরের ২০ জুন দুর্নীতির দায়ে অপসারিত হন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে কাজ দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের উৎকোচ গ্রহণ ও প্রকল্প পরিচালক নিজেই প্রকল্পে গাড়ি সরবরাহ কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এরপর তাকে হবিগঞ্জ অঞ্চলে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। তবে বদলি করা হলে কি হবে বাংলায় একটা প্রবাদ আছে কয়লা শতবার পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুইলেও ময়লা যায় না ঠিক তেমনি যেখানেই বদলি করা হয়েছে সেখানেই অপরাধ দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়েছেন নুরুল ইসলাম।

হবিগঞ্জ অফিস ভবনের কাজ চলমান ছিল,সেখানে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে নিজের ব্যক্তিগত কোষাঘারকে সমৃদ্ধ করার জন্য তিনি নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের নজরে এলে পুরো কাজটি খতিয়ে দেখা হয়। হবিগঞ্জ অফিস ভবনের নির্মাণ কাজের অনিয়ম নিয়ে বিএডিসি অভ্যন্তরীণ একটি তদন্ত করে। তদন্তে দেখা যায়, ভবন নির্মাণে প্রায় ৩৬টি খাতে অনিয়ম করা হয়েছে। পিডি নূরুল হুদার কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য আজকের সংবাদের হাতে আছে যা যাছাইবাচাই করে প্রকাশ করা হবে। উক্ত অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য পিডি নূরুল ইসলামের মোবাইলে ফোন দিলে তার মতামত পরে দিবেন বলে জানান।