রাজশাহী নগর বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতাদের প্রশ্রয়ের অভিযোগ
আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কিছু নেতা সংগঠনের অভ্যন্তরে হাইব্রিডদের পুনর্বাসন করছেন— এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির রাজশাহীর বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা।
আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির কিছু নেতা সংগঠনের অভ্যন্তরে হাইব্রিডদের পুনর্বাসন করছেন— এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির রাজশাহীর বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা। তারা বলেছেন, এই আশ্রয়-প্রশ্রয়ের মাধ্যমে দলটির মধ্যে চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সরাসরি পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এতে মহানগর বিএনপিতে এখন ‘হাইব্রিডের বাম্পার ফলন’ হচ্ছে।
রবিবার (১১ মে) সকালে নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব অভিযোগ তোলেন তারা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোয়ালিয়া থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান পিন্টু। এ সময় নগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সু্ইটসহ অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সাইদুর রহমান পিন্টু বলেন, “বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে পকেট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। যেসব আওয়ামী সন্ত্রাসীর হাতে অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাদেরকেই এখন নগর বিএনপির কিছু নেতা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন।”
তিনি আরো বলেন, ‘‘রাজপাড়া থানা বিএনপির বর্তমান সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন আহমেদ, মাহমুদুল হক রুবেল, হারুনুর রশিদ (সাবেক জাসদ নেতা), আব্দুর রাজ্জাক (সাবেক জাতীয় পার্টি নেতা) এবং কমিটির সদস্য বদরুদ্দোজা বদর বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তাদের বিএনপিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।’’
এছাড়া সিটি নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে প্রচারণা, ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করা সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা, র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার মতো ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, নওহাটার সালাহউদ্দিন মিন্টুর বাড়িতে গুলিবর্ষণ করে তার বাবাকে হত্যা, নিউমার্কেট এলাকায় রিয়াজকে কুপিয়ে হত্যা এবং কাদিরগঞ্জে রিকশাচালক গোলাম হোসেনকে খুনের ঘটনার অভিযুক্তদের মধ্যে বেশিরভাগই অতীতে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাঁতী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তারা নগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন সমিতি দখলের অভিযোগও তোলা হয় সংবাদ সম্মেলনে। বলা হয়, নজরুল হুদা, মামুনুর রশিদ মামুন ও মনিরুজ্জামান শরীফের নেতৃত্বে ৯ আগস্ট এই সমিতি দখল করা হয়। নজরুল ইসলাম হেলালকে অবৈধভাবে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা দেওয়া হয়। মামুন আগে পেশিশক্তির মাধ্যমে বাস মালিক সমিতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
নজরুল হুদার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ কাউন্সিল অফিসের জায়গা দখলের অভিযোগ তুলে বলা হয়, আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশনা থাকার পরও সেখানে থাকা ভবন দেয়া হয়েছে।
সংগঠনের ওয়ার্ড কমিটি গঠনেও অনিয়ম ও লেনদেনের অভিযোগ উঠে আসে। বলা হয়, রাজপাড়া থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী ও মাহমুদুল হক রুবেল অভিযোগ করেছেন, তাদের না জানিয়ে কমিটিতে রাখা হয়েছে এবং তারা কোনো রাজনীতিতে যুক্ত নন— এজন্য তারা পদত্যাগ করেন। এখানে এক যুবলীগ নেতাকে পদ দেয়া হয়।
এই সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যের কপি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে নগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। যারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ করব, নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে দল, দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করুন। এটাই আমার বক্তব্য।”
আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈসা বলেন, “সাবেক যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ সুইট ৫ আগস্টের পর মাউশির এক কর্মকর্তাকে চেয়ার থেকে টেনে বের করে দিয়েছিলেন। এ জন্য তাকে বহিষ্কার করেছিলাম। পরে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেও তিনি এখন যা খুশি করছেন— এখনকার বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন তারই অংশ।”