মোংলা উপজেলা হিসাব রক্ষণ আফিসার তাজুল ইসলাম ও অডিটর মিঠুনের চাহিদা মোতাবেক উৎকোচ না দেয়ায় অবসর প্রাপ্ত কর্মচারীর পেনসন ফাইল ১ বছর আটক

মোংলা উপজেলা হিসাব রক্ষণ আফিসার মোঃ তাজুল ইসলাম ও অডিটর মিঠুন মন্ডল কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ দাবি করে ১০ দিনের স্থলে ১২ মাস গ্রাচুইটি/ পেনশন বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মোংলা উপজেলা হিসাব রক্ষণ আফিসার তাজুল ইসলাম ও অডিটর মিঠুনের চাহিদা মোতাবেক উৎকোচ না দেয়ায় অবসর প্রাপ্ত কর্মচারীর পেনসন ফাইল ১ বছর আটক
অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী মীর জাকির হোসেন

মোংলা উপজেলা হিসাব রক্ষণ আফিসার মোঃ তাজুল ইসলাম ও অডিটর মিঠুন মন্ডল কর্তৃক ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ দাবি করে ১০ দিনের স্থলে ১২ মাস গ্রাচুইটি/ পেনশন বন্ধের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সুত্রমতে, উপজেলা কৃষি অফিস মোংলা বাগেরহাটের অবসরপ্রাপ্ত উচ্চমান সহকারী মীর জাকির হোসেন এর পেনশন কেসটি দীর্ঘ ১২ মাস যাবৎ ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ দাবি করে পেনশন কেসটি নিষ্পত্তি করে নাই মর্মে ভুক্তভূগী কর্মচারী তার আবেদন পত্রে উল্লেখ করেন। ০১/০১/২৪ হতে ৩১/১২/২৪ তারিখ ১২ মাস পিআরএল ভোগ করেন। হিসাব রক্ষণ অফিস তার চাকুরীবহি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সঠিক পান, যার প্রেক্ষিতে ইএলপিসি ইস্যু করেন। লাম্পগ্রান্ট মন্জুর হওয়ায় ১৮ মাসের বিল পরিশোধ করেন।  পরবর্তীতে পেনশন মন্জুরকারী কর্তৃপক্ষ পেনশন মন্জুর করায় পেনশন কেসটি উক্ত হিসাব রক্ষণ অফিসে প্রেরণ করেন। হিসাব রক্ষণ অফিস ২৮/০১/২০২৫ তারিখ পেনশন কেসটি গ্রহন করেন। হিসাব রক্ষণ অফিসার ও অডিটর পেনশন কেসের বিপরীতে ওভারড্রোন বিবরণী তৈরি করেন। যাহাতে ৩,০৩,৯৪৫/- টাকা অতিরিক্ত উত্তোলন হইয়াছে মর্মে মীর জাকির হোসেন কে জানান। অডিটর প্রস্তাব করেন আপত্তির অর্ধেক টাকা অর্থাৎ ১,৫০,০০০/- টাকা প্রদান করিলে কেসটি ছেড়ে দেয়া হবে। কোন উপায়ান্তর না পেয়ে জনাব জাকির ১ম পর্যায়ে ৩০,০০০/- টাকা এবং সর্বশেষ ৫০,০০০/- টাকা তাদেরকে দেবার প্রস্তাব দেন। অডিটর মিঠুন মন্ডল প্রস্তাব নাকোচ করে দেন এবং জানান আপনার কেসটি আপত্তি দেওয়া হবে। রহস্যের বিষয় হল ওভারড্রোন বিবরণীতে হিসাব রক্ষণ অফিসার ও অডিটর স্বাক্ষর ছাড়াই জনাব জাকিরের নিকট বিবরণী হস্তান্তর করেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএও/ মোংলা কর্তৃক ০৬/০২/২৫ তারিখ ৭৪৬ নং স্মারকে আপত্তি উত্থাপন করা হয়। প্রতিশোধ হিসাবে একই স্মারক দেখিয়ে ২টি আপত্তিপত্র তৈরি করা হয়। একটি পত্রে ২টি বিষয়ের উপর, অপর আপত্তিপত্রে ৪টি বিষয়ের উপর আপত্তি দেন। এক্ষেত্রে ২টি আপত্তির কোন টি বাতিল হবে এবং কোনটি বহাল থাকবে তা উল্লেখ করা হয়নি। ক্ষমতার অপব্যহার এর বাস্তব প্রমাণ হলো আপত্তিপত্র টি হিসাব রক্ষণ অফিস তার দপ্তরে ১মাস ১৫ দিন ফেলে রাখেন। পরবর্তীতে মোংলা পোষ্ট অফিসের রেকর্ডের ভিত্তিতে জানা যায় ২৩/০৩/২৫ তারিখে ৪৯৬ নং রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে পত্রখানা খুলনাস্থ অতিরিক্ত পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে প্রেরণ করেন। ভূক্তভূগী জাকির ১মাস ১৫ দিন পেনশন কেসটির কোন হদিস না পাওয়ায় হতাশ হইয়া উক্ত হিসাব রক্ষণ অফিসের অনুকুলে উকিল নোটিশ পাঠায়, যা তার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রনালয় এর অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগ, প্রবিধি শাখা-১ এর জারীকৃত পেনশন সহজিকরণ আদেশ নং-০৭.০০.০০০০.১৭১.১৩.০০২.১৮-০৮ তারিখ ০৬/০২/২০২০ পত্রে গ্রাচুইটি কেসের বিপরীতে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হলে ১ম পর্যায়ে ৮০% গ্রাচুইটি পরিশোধ করা যাবে, সেক্ষেত্রে পরিশোধ করা হয়নি এমন কি উক্ত প্রজ্ঞাপনে ১০ দিনের মধ্যে পেনশন কেস নিষ্পত্তির নিদের্শনা থাকা সত্বেয় উক্ত হিসাব রক্ষণ অফিসার ও অডিটর যোগসাজকে জনাব জাকিরকে আর্থিক অভাব এবং মানষিক কষ্ট দেবার লক্ষে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। 

ইউএও/বটিয়াঘাটা, তেরখাদা, খুলনা ও ইউএও/ মোড়েলগনজ, বাগেরহাট এবং ডিসিএ খুলনা কর্তৃক জনাব জাকির এর চাকুরী বহি পরীক্ষা নিরীক্ষা করিয়া সঠিক পাওয়ায় বেতন নির্ধারণ করেন। দুঃখের এবং পরিতাপের বিষয় হলো ৩১ বছর ০৮ মাস ০১ দিন চাকুরী শেষ করার পর ভুল বেতন নির্ধারণ করা হইয়াছে মর্মে ডিসিএ/ খুলনা অফিস অতিরিক্ত প্রদত্ত অর্থ আদায়ের নির্দেশনা দেন। রহস্যের বিষয় হলো, যে ডিসিএ/ অফিস, খুলনা বেতন নির্ধারণ করিল সেই একই অফিস ৩১ বছর ০৮ মাস ০১ দিন পর ভুল বেতন নির্ধারণ এর জন্য অতিরিক্ত প্রদত্ত অর্থ আদায়ের নির্দেশনা কিভাবে দিলেন তা বোধগম্য হয়নি মর্মে জনাব জাকির আবেদন পত্রে জানান।

জাকির এর দাবি বেতন নির্ধারণ করার ক্ষমতা তার নিজের বা কৃষি অফিসের কোন ক্ষমতা নাই তাই ভুল বেতন যারাই নির্ধারণ করেছেন তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত উত্তোলিত অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন পত্রে তিনি দাবি করেছেন। অডিট বিভাগের এহেনো কর্মকান্ড প্রশ্নবিদ্ধ, যা সরকারি কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের চাকুরী জীবনের শেষ প্রান্তে ভোগান্তি ও হয়রানি ভবিষ্যতে যাতে না হয় তার জন্য অডিট বিভাগের দায়িত্বশীলদের সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য জনাব জাকির মৌখিক ভাবে দাবি জানাচ্ছেন।

অবসর প্রাপ্ত উচ্চমান সহকারী জাকির এর অনুরুপ একই কৃষি বিভাগের  ৪জন কর্মচারী অবসরে গমনের পর তারা যথারীতি গ্রাচুইটি ও পেনশন পেয়েছেন, অথচ জাকির এর পেনশন কেসটি ১২ মাস যাবৎ আটকিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, কাকরাইল, ঢাকা ও হিসাব মহা নিয়ন্ত্রক সেগুনবাগিচা, ঢাকা ও পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, খুলনা মহোদয় দেরকে কেসটি সদয় সুবিবেচনা করে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহন করার আবেদন করেছেন এবং দীর্ঘ ১২ মাস পেনশন কেসটি  আটকিয়ে রাখার জন্য ইউএও/মোংলা জনাব তাজুল ইসলাম ও অডিটর জনাব মিঠুন মন্ডল এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্তের দাবি তার আবেদন পত্রে উল্লেখ করেছেন এবং গ্রাচুইটি ও পেনশন প্রাপ্তির অনুরোধ জানিয়েছেন।