বাহারছড়া শিশু পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন তাসলিমা মুনির রিতা

গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তত্বাবধানে এ্যাকশন মিডিওর এর আর্থিক সহযোগিতায় কিশোর কিশোরী এবং প্রবীনদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন প্রকল্প

বাহারছড়া শিশু পরিষদ নির্বাচন: চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন তাসলিমা মুনির রিতা

গনস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তত্বাবধানে এ্যাকশন মিডিওর এর আর্থিক সহযোগিতায় কিশোর কিশোরী এবং প্রবীনদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন প্রকল্প কর্তৃক আয়োজিত কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ২৫২ টি শিশু পরিষদের কিশোর কিশোরীদের গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ইউনিয়ন শিশু পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে ইউনিয়ন শিশু পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারের দীর্ঘলাইন। একপাশে পুরুষ, আরেক পাশ্বে মেয়ে। আশেপাশ্বে প্রার্থীদের ভোট চাওয়া থেকে শুরু করে গোপন কক্ষে পছন্দের প্রতীকে সিল মারার প্রক্রিয়া সবই আছে। নির্বাচন কমিশনার, রিটার্নিং অফিসার, প্রিসাইডিং অফিসারদের ব্যস্ততা দেখে মনে হবে জাতীয় কোনো নির্বাচন চলছে। স্থানীয় কিংবা জাতীয় নির্বাচনের মতো উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও নেই কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামা। এভাবেই সম্পন্ন হয়েছে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন শিশু পরিষদ নির্বাচন। ৬ -১৬ বছর বয়সী শিশু কিশোররা এই নির্বাচন করেছে।

শনিবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে বাহারছড়ার ৮টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৩টায় শেষ হয়। ওই ইউনিয়নে ৪১২৫ জন ভোটারের মধ্যে ৩২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে ৭ জন (মেয়ে ২ জন, পুরুষ ৭ জন) এবং ওয়ার্ড চেয়ারম্যান পদে ২৫ জন (মেয়ে ১৬ জন, ছেলে ৯ জন) প্রার্থী অংশ নেয়। শিশুদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ইউনিয়ন শিশু পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ভোটারদের লম্বা সারি। শিশু ভোটার নিজেদের পরিচয়পত্র হাতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন ।

প্রিসাইডিং ও পোলিং এজেন্টদের কাছে গিয়ে নিজের নাম ও ভোটার নম্বর শনাক্ত করার পর ব্যালেট সংগ্রহ করতে দেখা যায় তাদের। পরে গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রতীকে সিল মেরে তা ব্যালট বুথে ঢুকিয়ে দিচ্ছিল শিশুরা। শিশু পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান তাসলিমা মুনির রিতা জানান, শিশু শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ও উন্নয়নের কথা স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বার ও প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে এগিয়ে নেওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী, ইভিটিজিং প্রতিরোধ ও অসহায়-গরিবদের সহযোগিতা করাসহ নানা উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন রিতা।নির্বাচন সম্পন্ন করতে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফজলুল করিম। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শিশুরা গণতান্ত্রিক চর্চা করছে। কীভাবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব গড়ে তোলা হয় তা শিখছে। তারা তাদের পছন্দমত নেতা নির্বাচন করেছে। শিশুরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার মতামতকে শ্রদ্ধা জানাতে শিখছে ও পরস্পরের প্রতি সহনশীল হতে শিখেছে। তারা জয় পরাজয় মেনে একে অপরকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গিকার করেছে। তাদের দেখে অন্যরা শিখবে। এভাবে তাদের মধ্যে বিকল্প আরো যোগ্য নেতা তৈরি হবে। এই প্রক্রিয়ায় তারা বড় হলে একদিকে নিজেদের তারা আরও যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবে।

শিশুরা বড় হয়ে যে সব জায়গায় কাজ করবে সেখানেও তারা তাদের যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে সুন্দর একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। শিশু পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার নার্গিস আক্তার রনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত হয়ে শিশুরা গণতান্ত্রিক ভোট প্রদানের মাধ্যমে তাদের যোগ্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এবং একইসঙ্গে ওয়ার্ড চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছে। প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাপ্ত ভোটে এবারের নির্বাচনে বাহারছড়া ইউনিয়ন শিশু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে তাসলিমা মুনির রিতা। সে পেয়েছে ৭৪৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ওমর ফারুক পেয়েছে ৭০৭ভোট।