বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিমের ঘুষ আদায়ে নিয়োজিত ৭ সদস্যের টিমের অপতৎপরতা

বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম দীর্ঘ চাকুরী জীবনের প্রতিটা কর্মস্থলেই সীমাহীন অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য অব্যাহত রাখলেও থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ যে কোন মূল্যেই তিনি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছেন।

বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিমের ঘুষ আদায়ে নিয়োজিত ৭ সদস্যের টিমের অপতৎপরতা

বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম দীর্ঘ চাকুরী জীবনের প্রতিটা কর্মস্থলেই সীমাহীন অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য অব্যাহত রাখলেও থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ যে কোন মূল্যেই তিনি ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য মতে গত ৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অঞ্চলের সিএফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ঘুষের নেশায় বেপরোয়া ব্যবহার হয়ে পড়েন।

প্রত্যেক ডিভিশনে মত বিনিময় সভার নামে ঘুষ আদায়ের পদ্ধতিগত সভার আয়োজন করেন। মোল্যা সাহেব এর সভাপতিত্বে এই সভাগুলো সম্পন্ন হয়। সভায় তিনি মাননীয় উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এর বন বিভাগের একমাত্র শুভাকাংক্ষী দাবী করেন এবং প্রতিদিন উপদেষ্টা ৩/৪ বার মোবাইলে যোগাযোগ করেন বলে সকলকে অবগত করেন, যাতে সকলেই মোল্লাকে ভয় পান। চট্টগ্রাম সার্কেলের সিএফ হতে ৩ কোটি টাকা সম্মানী প্রদান করা হয়েছে মর্মে সে প্রত্যেক ডিভিশনের ডিএফও সাহেবদেরকে টাকা প্রদান করতে বাধ্য করেন। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেকে ডিভিশন থেকে টাকা আদায়ের দায়িত্ব পালন করেন আব্দুর রহমান, ডিএফও, আব্দুল্লাহ আল মামুন ডিএফও এবং জয়নাল আবেদীন, সহকারী বন সংরক্ষক, আবদুল হামিদ, ফরেস্টার, মামুন মিয়াঁ, ফরেস্টার। প্রাথমিকভাবে ১ কোটি টাকা মোল্যাকে প্রদান করা হয়। এতে মোল্যাকে সন্তুষ্ট করা যায় নাই, তাকে আরও টাকা দিতে হবে বলে পূর্বে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে শুরু হয় তার অনৈতিক অর্থ আদায়ের লেখালেখি। এই লেখালেখি মূলত অযৌত্তিক এবং অর্থ আদায়ের একটা প্রক্রিয়া মাত্র। ৯ জানুয়ারী ২০২৫ মোল্যা রেজাউল এর ঘুষ আদায় কমিটি কর্তৃক বিভিন্ন ডিভিশনে কর্মরত ফরেস্টার, ফরেস্ট গার্ড এমনকি নৌকা চালক, বাগান মালীও বাদ পড়েনি। নেওয়া হয় তাদের কাছে বদলীর টাকা। কোটি টাকার ব্যবসা বানিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভিশনে কর্মরত ২৬ জন ফরেস্টার, ৩৭ জন ফরেস্ট গার্ড ও ১৩ জন নৌকা চালক সহ মোট ৭৬ জন কে বদলী করা হয়।

টাকা আদায়ের জন্য নিয়োগ করা হয় জয়নাল আবেদীন, সহকারী বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ এর সমন্বয়ে ৭ সদস্য বিশিষ্ট টিম। এই টিমের সদস্যাগন হলেন ডিএফও আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিএফও আব্দুর রহমান, এসিএফ জয়নাল আবেদীন, ফরেস্ট রেঞ্জার, আব্দুল মালেক, ফরেস্টার আব্দুল হামিন, ফরেস্টার জুয়েল চৌধুরী, ফরেস্টার মামুন মিয়াঁ, ফরেস্টার, সাদেকুর রহমান, ফরেস্টার গাজী সফিউর রহমান ও ফরেস্টার জহির উদ্দিন মিনার চৌধুরী। কক্সবাজার বন বিভাগে চাঁদা আদায়ের তৎপরতা সবচেয়ে বেশী, বন বিভাগের যতো রকমের প্রকল্প হয় তার সিংহ ভাগ কাজ কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগে বাস্তবায়ন এর নামে চলে সিএফ এর হরিলুট। যা বর্তমান ও বিগত সালের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ সঠিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যাবে। সিএফ এর জন্য চাঁদা আদায়ের হার প্রতিটি স্টেশন এক লক্ষ টাকা, প্রতিটি রেঞ্জ এক লক্ষ টাকা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ৫%, বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ রাজস্ব ৫%, বদলী বান্দরবান, পাল্পউড, লামা, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ ডিভিশন ৫ লক্ষ, বন ব্যবহারিক, কক্সবাজার উত্তর ও দক্ষিণ বন বিভাগে ৪ লক্ষ, উপকূল বন বিভাগ ৩ লক্ষ টাকা করে ধায্য করতঃ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আদায়কৃত টাকা এসিএফ জয়নাল এর কাছে জমা হয়ে সিএফ এর নিকট নোট আকারে দেওয়া হয় বলে সুত্র জানায়।

মোল্লা রেজাউল করীম বন বিভাগে চাকুরির পূর্বে লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হিসেবে চাকুরিতে কর্মরত ছিলেন জানা যায় মোল্যা রেজাউল করীম সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার অধিক টাকা আত্মসাৎ করে চাকুরি ছেড়ে দেন। ২০০৩ সালে বন বিভাগে তার আগমন ঘটে ২২তম বিসিএস্ এর মাধ্যমে। প্রথন দায়িত্ব হিসাবে পান রাংগামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল এর কাপ্তাই রেঞ্জের। কাপ্তাই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণকালীন সময়ে শুরু হয় তার দুর্নীতি। এক প্রকার প্রতিযোগীতা শুরু করে টাকা কামানোর তৎকালীন কাপ্তাই রেঞ্জের অধিকাংশ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সেগুন গাছ পাচার হয় মোল্যার প্রশিক্ষণকালে। তৎকালীন কাপ্তাই এলাকার দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী বন সংরক্ষক জনাব শাহাবুদ্দিন সাহেব মোল্যার এই অপকর্ম সহ্য করতে না পারতেই মোল্যার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন, এতে মোল্যা ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী বন সংরক্ষক মহোদয়কে জীবননাশের হুমকি প্রদান করেন। সংরক্ষিত বন ধবংস করে কামানো টাকার জন্য সিএফ মোল্যাকে আর পিছনে তাকাইতে হয় নাই। একেএকে শুরু হয় মোল্যার দুর্নীতি আর পোস্টিং বানিজ্য। ফেনী ডিভিশনে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকাকালীন বাগান সৃজন ও ইকোপার্ক প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেন তৎকালীন সিসিএফ ইউনুস সাহেব মোল্লা রেজাউল করীম এর বিরুদ্ধে মন্ত্রনালয়ে রিপোর্ট করেন এবং চাকুরিচ্যুত করার প্রস্তাব প্রেরণ করেন। মন্ত্রণালয়ে ফাইলপত্র দেখলে এর প্রমাণ পাওয়া যাবে। তবে জানা যায় আওয়ামী সরকার এর সাবেক বন মন্ত্রী হাসান মাহমুদ এর পৃষ্ঠপোষকতায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মন্ত্রণালয় হতে সেই প্রস্তাব হাওয়া করে দেয়া হয়। আওয়ামী সরকার থাকাকালীন মোল্যা রেজাউল করীম ধরা কে সরা জ্ঞান করে দিনকে রাত করে ফেলার মতো অসাধ্য চেষ্টাও কম করেননি। বাগেরহাট ডিভিশনের দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের সাবেক বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মাধ্যমে পিরোজপুর এলাকায় ইকোপার্ক করার জন্য মোটা অংকের টাকার প্রকল্প অনুমোদন করায়ে সাবেক বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জর একমাত্র হাতিয়ার পিএস মহারাজকে ঠিকাদার বানিয়ে ইকোপার্কের নামে কোটি কোটি টাকা মহারাজসহ ২ জনে আত্মসাৎ করেন। এই টাকার বড় একটা অংশ সাবেক বন মন্ত্রীর স্ত্রীকেও দেয়া হয়। যার কারণে পববর্তীতে সাবেক বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্ত্রীর অনুরোধে মোল্যা রেজাউল সাহেব কে পুরুস্কার হিসাবে পাল্পউড বাগান বিভাগ, বান্দরবনে পদায়ন ও বদলী করা হয়। মোল্লা বান্দরবানে যোগদান করে অবৈধ জোত পারমিট প্রদান সহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধবংসে মাতোয়ারা হয়ে উঠে এ কাজে মোল্লাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন মোঃ সিরাজুল ইসলাম ফরেস্টার। বান্দরবান হতে অবৈধ জোত পারমিটের আড়ালে লক্ষ লক্ষ ঘনফুট কাঠ সংরক্ষিত বনাঞ্চল হতে পাচার হয় এর মধ্যে গর্জন, চাপালিশ, চাম্পাফুল, সেগুন অন্যতম।

মোল্লা রেজাউল করিম মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন এর পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালেও দুর্নীতির কমতি নাই। গার্ডেন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপনের জন্য চারা ক্রয়সহ রোপনের খরচ ধরা হয় প্রতি চারা ৮০০-১০০০ টাকা। যা বন বিভাগের ইতিহাসে হাস্যকর। আওয়ামী সরকারের অনুসারী হয়ে সেই প্রকল্প সে অনুমোদন করায়ে কোটি কোটি থাকা আত্মসাৎ করেন। জানা যায় বান্দরবান পাল্পউড ও বোটানিক্যাল গার্ডেন এর দুর্নীতির টাকা দিয়ে ধানমন্ডি, ঢাকায় সাবেক বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু যে এলাকায় বসবাস করেন একিই এলাকায় ৪ কোটি টাকা ব্যয় করে অভিজাত ফ্ল্যাট বাসা তৈরী করেন। বাসার দামী দামী আসবাবপত্র সহ দরজা যাবতীয় তৈরী করা হয় বান্দরবানের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ দিয়ে।

মোল্লা রেজাউল করিম যশোর সার্কেল এর বন সংরক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে বান্দরবানে সহযোগীতাকারী ফরেস্টার মোঃ সিরাজুল ইসলাম কে যশোর সার্কেলে বদলি করে নিয়ে যান। সেখানেও সামাজিক বনায়নের লটের কাঠের গড় নীলাম মূল্য কম দেখিয়ে সিরাজুল ইসলাম ফরেস্টার এর পছন্দনীয় কাঠ ব্যবসায়ীকে লট দিয়ে কোটি কোটি টাকা মোল্লা অবৈধভাবে ইনকাম করেন। সিরাজ ফরেস্টার মোল্যার নির্দেশনায় সিএফ অফিস যশোর এর গাছ নীলাম না করে কর্তন করেন। এই খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকগণ কাঠ পরিবহন কালে গাড়ি আটক করেন এবং নিউজ করেন মোল্লা ও সিরাজ ফরেস্টার এর বিরুদ্ধে। মোল্লা রেজাউল দিশেহারা হয়ে সাংবাদিক এর তোপের মূখে ফরেস্টার সিরাজুল ইসলামকে সাসপেন্ড করতে বাধ্য হন। সিরাজুল ইসলামকে সাসপেন্ড করে নিজের পথ সুগম করেন। মোল্লা রেজাউল করিম যশোর সার্কেল এর সিএফ থাকাকালীন সাবেক প্রতি মন্ত্রী হাবিবুর নাহার কে মা বলে সম্মোধন করতেন এমনকি পায়ে হাত দিয়ে কদমবুচি করতেন। হাবিবুন নাহার কে মা ডাকার সুবাধে মোল্লা রেজাউল করিমকে বদলী করা হয় সবচেয়ে লোভনীয় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সার্কেল, ঢাকা। মোল্লা রেজাউল করীম নিজের স্বার্থ আদায়ে আওয়ামী সরকার আমলে যেমন তাদের আস্থাভাজন হয়েছিলেন তেমনি সরকার পতনের পর বিএনপি ও জামায়াত হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা মন্ডলীর ও আনুগত্য লাভ করেছেন বলে নিজেই দম্ভ করে অফিসে আগন্তুকদের সামনে নিজেকে জাহির করে থাকেন।