ডিএফপিতে এনসিপির নামভাংগিয়ে মব সৃষ্টিকারীদের গ্রেপ্তার দাবি
চলচিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) কার্যসলয়ে এনসিপির নামভাংগিয়ে মব সৃষ্টির মাধ্যমে ক্যামেরাম্যান মশিউর রহমানের উপর হামলা ও হাবিবুল্লাহ কাহার কলেজ ছাত্রদলের উপর দায়ভার দেয়ার প্রতিবাদ ও ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন মশিউর রহমানের ভাই আতিকুর রহমান।
চলচিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) কার্যসলয়ে এনসিপির নামভাংগিয়ে মব সৃষ্টির মাধ্যমে ক্যামেরাম্যান মশিউর রহমানের উপর হামলা ও হাবিবুল্লাহ কাহার কলেজ ছাত্রদলের উপর দায়ভার দেয়ার প্রতিবাদ ও ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন মশিউর রহমানের ভাই আতিকুর রহমান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আতিকুর রহমান বলেন, জুলাই বিষয়ক একটি ডকুমেন্টারি তৈরীর জন্য তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজুর রহমানের মৌখিক নির্দেশে চলচিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) জনৈক মুশফিকুর রহমান জোহানকে কাজ দেয়। যদিও এর কার্যাদেশ তার বড় ভাই ডিএফপিতে কর্মরত ক্যামেরাম্যান মশিউর রহমানের নামে। সেই সুবাদে এর যাবতীয় দায়ভার তার উপরে বর্তায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, মুশফিকুর রহমান জোহান নিজেকে কখনো সমন্বয়ক, সহ-সমন্বয়ক ও উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ বলে জাহির করে ডকুমেন্টারিটি দায়সারাভাবে নির্মাণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। যার সাথে কার্যাদেশের কোন মিল নেই।
আতিকুর জানান, জোহান বিলের অধিকাংশ টাকা নিয়ে গেছেন। কিন্তু এ সম্পর্কিত ভিডিও ডকুমেন্ট বিলের সাথে যতভাবে সরবরাহ করেননি। যা সংরক্ষণ করাটা কার্যাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক। যা নিয়ে মহাপরিচালকের নেতৃত্বে কয়েক দফা মিটিং হয়। গত সোমবারও তার সাথে এ ব্যাপারে মহাপরিচালকের মিটিং ছিলো। কিন্তু সরকারি কাজে ডিজি ব্যস্ত থাকায় উক্ত মিটিংটি আয়োজনের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্ব হয়। যা মেনে নিতে জুলাই বিষয়ক উক্ত ডকুমেন্টারি নির্মাণাকারী মুশফিকুর রহমান জোহান অস্বীকৃতি জানান। সন্ধ্যা ছয়টায় পর মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে মিটিং শুরু হলে শুরুতেই উত্তেজিত ভূমিকায় অবতীর্ণ হন মুশফিকুর রহমান জোহান। ডিজির রুমে আটকিয়ে মব সৃষ্টির মাধ্যমে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে ক্যামেরাম্যান মশিউর রহমানকে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তাৎক্ষনিক পুলিশকে অবহিত করেন। সেই সাথে ডিএফপির ডিজির সাথে কথা বলেন। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত তার বড়ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখন তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধীক্ষনে আছেন। এ ব্যাপারে পল্টন থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
আতিকুর রহমান জানান, দুঃখজনক হলেও সত্য,উক্ত জুলাই বিষয়ক ডকুমেন্টারি বিল আদায়ের নামে মব সৃষ্টিকারী অভিযুক্ত জোহান সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ট্যাটাস এর মাধ্যমে ঘটনার সাথে হাবিবুল্লাহ কলেজ ছাত্র দলকে দায়ী করেন। যার সাথে কোন সত্যতা নেই। হাবিবুল্লাহ কলেজের ছাত্রদলকে নিয়ে একটি মহল দীর্ঘদিন যাবত বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। সোমবারের ঘটনায় হাবিবুল্লাহ কলেজ ছাত্রদলকে জড়ানোর বিষয়টি তারই ধারাবাহিকতা মাত্র। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি বিল আদায়ের নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারীর উপর মব সৃষ্টির মাধ্যমে হামলা, আহতের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আাইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।