টিপি বিহীন চোরাই কাঠ ভর্তি গাড়ী থেকে সিএফ, ডিএফও’র নামে চলছে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য

ঢাকা বন বিভাগাধীন কালিয়াকৈর চেক স্টেশনে চলছে চোরাই কাঠ পাচারের সুযোগ দিয়ে ঘুষ আদায়ের প্রতিযোগিতা।

টিপি বিহীন চোরাই কাঠ ভর্তি গাড়ী থেকে সিএফ, ডিএফও’র নামে চলছে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য

ঢাকা বন বিভাগাধীন কালিয়াকৈর চেক স্টেশনে চলছে চোরাই কাঠ পাচারের সুযোগ দিয়ে ঘুষ আদায়ের প্রতিযোগিতা। উত্তরবঙ্গের সমগ্র বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে আহরিত চোরাই কাঠ সহ সকল ধরনের বনজ পণ্য এই চেক স্টেশন দিয়ে ঢাকা শহরে প্রবেশ কালীন গাড়ি প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে ছেড়ে দেয়ায় প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকার বনজ দ্রব্য পাচার হচ্ছে। ফলে বন বিভাগ ও মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই চেক স্টেশনের দায়িত্ব প্রাপ্ত ফরেস্টার রেজাউল হকের নেতৃত্বে প্রতিদিনই এই চেক স্টেশনে চোরাই বনজ দ্রব্য বাহী গাড়ী থেকে লক্ষাধিক টাকা ঘুষ আদায় হলেও তিনি থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায় বাংলাদেশ বন বিভাগের বগুড়া অঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ সহ টাঙ্গাইল, জামালপুর থেকে সামাজিক বন বিভাগের বাঁশ, কাঠ সহ বিভিন্ন বনজদ্রব্য অবৈধভাবে আহরণ করে ট্রাক, লরি, কভার ভ্যান, পিকআপ যোগে রাজধানী ঢাকা অভিমুখে আসে। বনজদ্রব্য ভর্তি গাড়িগুলোতে যে ট্রানজিট পাস (টিপি) উক্ত চেক স্টেশনে প্রদর্শন করা হয় তার বেশিরভাগ গাড়িতে টিপিতে উল্লেখিত কাঠের মাপ, পরিমাপ, জাতে’র কোন মিল থাকে না।

চেক স্টেশনে কাজ হচ্ছে বনজদ্রব্য ভর্তি গাড়ী সমূহের প্রদর্শিত টিপি অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। টিপি বহির্ভূত কোন বনজদ্রব্য আসলেই গাড়ি জব্দ করে মামলা দিতে হবে। কিন্তু এই চেক স্টেশনে গাড়ীপ্রতি প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আবার টিপি ছাড়া আগত সম্পূর্ণ চোরাই কাঠ ভর্তি ট্রাক থেকে ক্ষেত্রবিশেষ ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়।

অনুসন্ধানকালীন দেখা যায় চোরাই কাঠ ভর্তি যানবাহন আটকিয়ে ফরেস্টার রেজাউল হক একটু দূরবর্তী জায়গায় চোরাই কাঠ ব্যবসায়ীদের ডেকে নিয়ে ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে চার্জশিট/ ফাইনাল করছেন। সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের যে কোন কর্মকর্তা গোপন বা প্রকাশ্য অনুসন্ধান চালালে এর সত্যতা মিলবে। হাতেনাতে ঘুষসহ ধরা যাবে দুর্নীতিতে রেকর্ড সৃষ্টিকারী ফরেস্টার রেজাউল হককে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই ফরেস্টার রেজাউল হক এই চেক স্টেশনে নিয়োগ পাবার পর মাত্র কয়েক মাসে প্রায় কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করেছেন। তার দীর্ঘ চাকুরী জীবনে ঘুষ দুর্ণীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে দেশের বাড়ি মাগুরায় বিলাসবহুল বাড়ি, কয়েক বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। তার জীবন যাত্রার মান খোদ ডিএফও’র জীবন যাত্রার মানকেও হার মানায়।

সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ফরেস্টার রেজাউল হক ১৫ তম গ্রেডের একজন ছোট কর্মকর্তা হিসেবে সর্বসাকুল্যে বেতন পান ৩৫ হাজার টাকা। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি প্রতি মাসে তার জীবনযাত্রায় ব্যয় করেন কয়েক লক্ষ টাকা। তার এই অবৈধ আয়ের বিষয়ে অনুসন্ধান চালালে সহজেই বেরিয়ে আসবে চেক স্টেশনে থেকে কিভাবে প্রতিনিয়ত কত গাড়ি অবৈধভাবে পয়সার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।

পাশাপাশি বন বিভাগ কত কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এব্যাপারে চেক স্টেশন কর্মকর্তা রেজাউল হক’র সাথে আলাপকালে জানান মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করেই এই চেক স্টেশনে পোস্টিং নিতে হয়। তার পরেও সিএফ, ডিএফও সহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের মাসিক চাহিদা পূরনের বিষয়। সব কিছু মিলে চেক স্টেশন চালাতে গেলে কিছু অনিয়মতো করতেই হয়। এহেন চোরাই বনজ সামগ্রী পাচার রোধে অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।