টাঙ্গাইল গোপালপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে চলছে চরম অনিয়ম

সাব-রেজিষ্ট্রার জাহিদুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে সেচ্ছাচারীতাসহ ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ।

টাঙ্গাইল গোপালপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে চলছে চরম অনিয়ম

সাব-রেজিষ্ট্রার জাহিদুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে সেচ্ছাচারীতাসহ ব্যাপক ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ। বর্তমান সরকারের দূর্ণাম তৈরী করতে ও বেকায়দায় ফেলতে সে আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সরকারি খাস জমি নিবন্ধন, জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ খাজনা খারিজ ব্যাতিত ভূমি নিবন্ধন করছে অহরহ। ফলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দলিল লেখক, স্ট্যাম্প ভেন্ডার ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত এ সিন্ডিকেটের যোগসাজশে সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদুল হক নানা অনিয়মে জড়িয়ে আছেন।

সাব-রেজিষ্ট্রার কার্যালয়ে ঘুষ ছাড়া সম্পত্তির দলিল হয় না। নিষ্কণ্টক জমিতেও তারপরও সাব-রেজিস্ট্রারের জন্য আলাদা করে ঘুষ দিতে হয়। ভূমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি ফি এর বাইরেও জমির মূল্যের দশমিক (%) শতাংশ অর্থ দিতে হবে সাব-রেজিস্ট্রারের জন্য। দেশের অধিকাংশ সাব-রেজিষ্ট্রার মত কার্যালয়ে ঘুষ আদায়ের নিজস্ব কিছু নিয়মও বানানো হয়েছে। সাব-রেজিষ্ট্রার জাহিদুল হককে ঘুষ না দিলে দলিল নিবন্ধন হয় না। ২০১৯সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায় বলা হয়, সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসগুলোতে দলিল নিবন্ধনের জন্য সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হয়। এর ১০-৫০ শতাংশ সাব-রেজিষ্ট্রার এবং বাকি অংশ অন্যদের মধ্যে বণ্টন হয়।

তাছাড়া আরও জানতে পারা যায়, সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসটির সরকারি কর্মঘন্টা ফেলে গত ২১ আগস্ট ২০২৩ সহকারী হোসনেয়ারা, মোহরার রাশিদা, ফরিদা এবং টি.সি সাজেদা আক্তারকে ১১.৪৫ মিনিটে অফিস চলাকালিন সময়ে বৃক্ষ মেলায় যান। যে কোন সূত্রে অফিসে সাংবাদিক এসেছেন জানতে পেরে, তার প্রায় আধঘন্টা পরে পর্যায় ক্রমে সাজেদা, ফরিদা, রাশেদা এবং পরে হোসনেআরা এসে বসেন। তবে তারা গাছ কিনতে বৃক্ষ মেলায় যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।

বিষয়টি পরদিন মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট’২৩) নিউজের সুবিধার্থে গোপালপুর সাব-রেজিষ্ট্রার জাহেদুল হক এর নিকট স্টাফদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনিও তাদের পক্ষ নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং কোন প্রকার তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানান, এবং স্থানীয় গোপালপুর উপজেলার প্রেসক্লাবের গুটি কয়েক তার সন্তোষভাজন সাংবাদিক ও ভূমি অফিসের সাব-রেজিষ্ট্রার জাহিদুল হকের পালিত সন্ত্রাস বাহিনীদের মাধ্যমে এক সাংবাদিককে অফিস থেকে বেরুতে বাধ্য করান! তাই কোন প্রকার ভাষ্য না পেলেও, ভিন্ন কিছু তথ্য নিয়ে, ঐ সংবাদিককে সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস ত্যাগ করতে হয়েছিল! এছাড়াও, গত বছরের আগস্টে বুধবার (৩আগস্ট’২৩) দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্ট, সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি এক আদেশপ্রত্র জারি করেছে।

সেখানে বলা হয়েছে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতিরেখে কোন কর্মচারী নিজ প্রয়োজনে বাইরে যেতে পারবে না। যদি তা হয় তবে একটি নির্দিষ্ট পরিমান বেতন কেটে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। খুব জরুরী প্রয়োজনে যদি অফিস ত্যাগ করতে হয় তবে সহকর্মীদের জানিয়ে নির্দিষ্ট রেজিষ্ট্রারের কাছে বাইরে যাওয়ার  কারণ, সময়, তারিখ বিস্তারিত উল্লেখ করে অফিস ত্যাগ করা যাবে বলে জানানো হয়। এ বিষয়ে সরকারি কর্মচারী নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা ২০১৯এর উল্লেখ্য আছে, উপযুক্ত কর্মকর্তার অনুমতি ব্যাতিরেখে কোন সরকারি কর্মচারী অফিস ত্যাগ করতে পারবেনা। তবে শর্ত থাকে যে, কোন জরুরী প্রয়োজনে কোন সহকর্মিকে অবগত করে অফিস ত্যাগ করতে পারবেন। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবে।

পাশাপাশি ঐ কর্মচারীর এক দিনের মূল বেতনের সমপরিমান বেতন কেটে নেয়া যাবে। আদেশে বলা হয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস চলার সময় অনুমতি না নিয়ে বিভিন্ন ওজুহাতে অফিসের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই হঠাৎ পরিদর্শন কালে তাদেরকে অফিসে পাওয়া যাচ্ছেনা, যা শৃঙ্খোলা পরিপন্থি যা অফিসের কাজে বিঘ্ন ঘটায়। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা সুপ্রিম কোর্টের নতুন করে নয়, তবে এর আগেও এ সংক্রান্ত বিধান স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য আদেশ জারী করা হয়েছিল।

সরকারের পক্ষ থেকেও এ সংক্রান্ত বিষয়ে নোটিশ জারী করা হয়েছে। সেখানে বিলম্বে কর্মস্থলে উপস্থিতির ব্যাপারে আলাদা করে বলা হয়েছে। সরকারের নির্দেশে আরও বলা হয়, কোন কর্মচারী যদি কর্ম দিবসে ৩০দিনের মধ্যে একাধিক বার দেরিতে উপস্থিতি ও বিনা অনুমোতিতে বাইরে থাকেন তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত কর্মচারীর ৭দিনের মূল বেতনের সমপরিমান অর্থ কর্তন করতে পারবে বা পুনঃবিবেচনা করতে পারবেন। এছাড়াও গোপালপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসটি সম্পর্কে জাতীয় তথ্য বাতায়নে কোন নতুন তথ্য সংযোজন করা হয়নি, অনেক আগের তথ্য সমূহই রয়ে গেছে। জাতীয় তথ্য বাতায়নের গোপালপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস সাইটটি দেখে, যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারে। তথ্য জানতে চাওয়ার ঘটনাটির বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা রেজিষ্ট্রার মোঃ মাহফুজুর রহমান খাঁন জানান, বিষয়টি আমি জেনে নেই।