ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সাবরেজিস্ট্রার স্বৈরাচারের দোসর রিপন মুন্সির বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য অব্যাহত ॥ দেখার কেই নেই

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার রিপোন মুন্সির বেপরোয়া হয়ে ঘুষ দুনীতি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সাবরেজিস্ট্রার স্বৈরাচারের দোসর রিপন মুন্সির বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য অব্যাহত ॥ দেখার কেই নেই

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার রিপোন মুন্সির বেপরোয়া হয়ে ঘুষ দুনীতি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্রে জানা গেছে, দুনীতিবাজ ঘুষখোর সাবরেজিস্ট্রার রিপন মুন্সি যখন যেখানে কর্মরত ছিলেন সেখানে তাঁর নেতৃত্বে গড়ে তুলেছিলেন সু বিশাল সিন্ডিকেট। তাঁর সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। বিগত সময়ে স্বৈরাচারী পতিত লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিসে কর্মরত থেকে ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে গেছেন দেদারসে। ৫ ই আগষ্টের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিরুদ্ধে লীগের পক্ষে শান্তি সমাবেশ করেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কর্মরত থাকা কালিন। এখন আবার ভোল পাল্টে বিএনপি পন্থা দাবি করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মহা - দুনীতিবাজ সাবরেজিস্ট্রার রিপন মুন্সি। নারী কেলেংকারী তে পিছিয়ে নেই তিনি, তাঁর অধিনে কর্মরত সুন্দরী নকল নবিশ দেরকে বিভিন্ন ভাবে কু প্রস্তাব দেন বলে একাধিক সুত্রে  যানা গেছে। টাকার জন্য মারিয়া হয়ে উঠেছেন সাবরেজিস্ট্রার রিপন মুন্সি। সুত্রে আরও জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর সাবরেজিস্ট্রার থাকা কালিন এক কোটি টাকার বিনিময়ে ভুমিদুস্যদের পক্ষ নিয়ে ভারতীয় নাগরিকের জমি লিখে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছ।

সুত্রে আরও যানা গেছে ভুয়া দাতা সাজিয়ে ২৯/১০/২০২৩  সালে দলিল নাম্বার ৫৩৩৯  দলিল সম্পাদন করেন। টাকা পেলে দিনকে রাত আর রাত কে দিন বানিয়ে ফেলেন তিনি। এককথায় হয়রানির আরেক নাম কালীগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রার অফিস।  রিপন মুন্সির ঘুষ বানিজ্যর কারণে সরকারের রাজস্ব লুট করছেন প্রতিনিয়ত। সাধারণ দলিল লেখক গন তার কাছে জিম্মি হয়ে পরেছেন। একাধিক সুত্রে আরও জানাগেছে, কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যে বিষয়ে  আইনশৃঙ্খলা সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক ব্যাক্তীরা।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার রিপন মুন্সীর বিরুদ্ধে জমি রেজিস্ট্রি করতে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ভরি ভরি থাকলেও অদৃশ্য শক্তি কারণে সেই সকল অভিযোগ আলোর মুখ দেখেনি আজও পর্যন্ত। তাঁর অফিসে দাতা গ্রহীতারা  দলিলপ্রতি দুই  হাজার টাকা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট খাতভেদে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিতে হয় বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও কমিশন দলিল এর ক্ষেত্রে তো কথায় নেই লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

সূত্র জানায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন জমি আবাসিক হলে শতকপ্রতি দুই হাজার টাকা, আবাসিক নয় বা স্থাপনা না থাকলে শতকপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা, আর ওয়ারিশ সত্ত্বে প্রতি শতক জমি রেজিস্ট্রিতে এক হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয় সাবরেজিস্ট্রারকে। হিন্দু বিধবা নারীরা স্বামীর জমি বিক্রি করতে চাইলে দিতে হয় ২০ হাজার টাকা, আর কোনো নামের ভুল থাকলে ঘুষ বাবদ দিতে হয় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার  টাকা পর্যন্ত।  এমনকি পাওয়ার দলিল থেকে কবলা করতে গেলেও ঘুষ নেওয়া হয় ১০ হাজার  থেকে ২০/৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত তাঁর বেধে দেওয়া ঘুষের টাকা। সাবরেজিস্ট্রারের ঘুষের  টাকা সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছেন নকল নবিস নাজমুন সাহাদৎ শিমুল।

সম্প্রতি কালীগঞ্জ পৌরসভার ধানী শ্রেণির সাড়ে ৩ শতক জমি ক্রয় করেন সোহেল রানা। ৭ আগস্ট রেজিস্ট্রি করতে গেলে সাব-রেজিস্ট্রার সরকারি খরচ বাদেই প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। দেনদরবারের পর ২৩ হাজার টাকায় রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে।

আরেক ভুক্তভোগী আমিরুল ইসলাম জানান, ৬ আগস্ট ১২ লাখ ৪ শতক জমির রেজিস্ট্রি করতে সরকারি খরচ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, কিন্তু তার কাছ থেকে আদায় করা হয় ২ লাখ ৮৫ হয়। এ ছাড়া শহরের আড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোশররফ হোসেন একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, জমির খরচ ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, কিন্তু দিতে হয়েছে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ঋণের জন্য মর্টগেজ দলিল করতে গিয়ে ফারুক হোসেনকে ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়, অথচ রশিদ দেওয়া হয় মাত্র ৫ হাজার টাকার।

একাধিক দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অফিস স্থানান্তরের পর এখানে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। অথচ তাদের বসার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই, আর ঘুষের টাকা আদায়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে নকল নবিস শিমুল। তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে যেভাবে সাবেক দলিল লেখক নাসির চৌধুরী কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন, বর্তমানে ঠিক একইভাবে শিমুলের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করছেন সাব-রেজিস্ট্রার রিপন মুন্সী সাবেক চেয়ারম্যান ইলিয়াস রহমান মিঠু বলেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়  রেজিস্ট্রির কাজ হয়, আর এই তিন দিনেই গড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়। দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রেণিভিত্তিক রেজিস্ট্রি করার নিয়ম থাকলেও, কালীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার তা অমান্য করে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। দুনীতিবাজ সাবরেজিস্ট্রার রিপন মুন্সি রাজধানী ঢাকা মিরপুর, মোহাম্মদপুর, উত্তরা ও তাঁর দেশের বাড়ি নড়াইলে নামে - বে নামে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। এছাড়াও দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে ক্যানাডায় তাঁর শালিকার নামে কয়েক কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছিলেন দুনীতিব সাবরেজিস্ট্রার রিপন মুন্সি। দুদুক ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তদন্ত করলে থলের বিরাল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন বিজ্ঞ মহল।