জনসেবায় দোতলা বিল্ডংসহ ৬৭ শতাংশ জমি আন্জুমান মফিদুল ইসলামকে দান করলেন সাবেব য্গ্মু-সচিব এস, এম, হারুনার রশিদ

জনসেবায় দোতলা বিল্ডংসহ ৬৭ শতাংশ জমি আন্জুমান মফিদুল ইসলামকে দান করলেন সাবেব য্গ্মু-সচিব এস, এম, হারুনার রশিদ

সাবেব য্গ্মু-সচিব ও নারায়নগন্জের সাবেক জেলা প্রশাসক এস, এম, হারুনার রশিদ তার জন্ম ভূমি খুলনার রুপসা উপজেলার ইলাইপুরস্থ তার দোতালা বিল্ডিং সহ ৬৭  শতাংশ বসত ভিটা স্থানীয় জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবার জন্য দেশের অন্যতম ও পুরাতন এনজিও আন্জুমান মফিদুল ইসলাম এর অনুকুলে দান করে দিয়েছেন।

অদ্য ২৩ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার আন্জুমানের নিজস্ব ভবন কাকরালাইস্থ আন্জুমান-জে আর টাওয়ারে দাতাজনাব হারুনার রশিদ ও আন্জুমান মফিদুল ইসলামের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব মোফলে আর ওসমানীরমধ্যে একটি এম ও ইউ সাক্ষরিত হয় এবং স্বাক্ষরিত এম ও ইউ আন্জুমানের স্বমন্বয় কমিটির সভাপতি বিশিষ্টব্যবসায়ী আজিম বক্স এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

সাবেক কুটনীতিক মোসলে আর ওসমানীরসভাপতিত্তে  উক্ত হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্জুমানের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সভাপতি আজিমবক্স, খালেদ শামস্, (সিএসপি), গোলাম রহমান, (সিএসপি), আহমেদ মাহমুদুর রাজা চৌধুরী (সিএসপি), ভয়েজ অব আমেরিকার প্রখ্যাত সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী, আন্জুমানের নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান, সাবেক সচিব, অতিরিক্ত পরিচালক আফজাল হোসেন, সাবেক সচিব, শামসুল আলম, সাবেক সচিব, দাতার স্ত্রী প্রফেসর নার্গিস জাহান ও অনান্য অতিথিবৃন্দ।

আন্জুমানের পরিচালনার সাথে জড়িত বর্নিত বিশিষ্ট ব্যক্তিগন তাদের বক্তব্যে খুলনার দানকৃত সম্পত্তিতে দ্রুততর সময়ে চিকিৎসা সেবা চালু করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানের আকর্ষনীয় বিষয় ছিল ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর পূর্ব বাংলার স্বাস্থ্য মন্ত্রী (১৯৫০-৫৫) ও আন্জুমানের সভাপতি হাবিবুল্লাহ বাহার চৌধুরীর পুত্র আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভয়েজ অব আমেরিকার প্রখ্যাত সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী বক্তব্য।

ইকবাল বাহার চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে আন্জুমানের বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার বিবরণ সহ১৯৬৯-১৯৭১ সালে কিভাবে বিরুপ পরিস্থিতিতে বংগবন্ধু ও গনঅভূথ্থানের সংবাদ সংগ্রহ করে ভয়েজ অবআমেরিকাতে প্রচার করতেন তার বিষদ বিবরণ তুলে ধরেন। খুবই আনন্দঘন পরিবেশে জমি হস্স্তান্তর অনুষ্ঠানশেষ। সমঝোতা স্বারক অনুসারে দানকৃত স্থানে প্রাথমিক অবস্থায় স্থানীয় জনসাধারণকে সাপ্তাহিক বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে এবং মহিলা এ দুস্তদের স্বাবলম্বী করার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

পরবর্তিতে উক্ত স্থানে মহিলা, গরিব নিঃস্ব ও এতিমদের জন্য কারিগরী শিক্ষা এবং আত্বকর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্নকর্মসূচি ও প্রশাক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী আন্জুমান মফিদুল ইসলাম  দেশেরবিভন্ন স্থানে ফ্রি বে-ওয়ারিশ লাশ দাফন, লাশ পরিবহনের  জন্য বিনা মূল্যে এম্বুলেন্স সার্ভিস প্রদান, মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা, দরিদ্র বালকদের বিনামূল্যে সুন্নতে খাতনার ব্যবস্থাকরণ কার্যক্রম সহ বিভিন্ন সেবা মূলককার্যক্রম পরিচালনা করলেও খুলনার উপজেলা পর্যায়ে এই প্রথমবারের মতো আন্জুমান স্বাস্থসেবা প্রদান করতেযাচ্ছে।

আন্জুমান কর্তৃক স্থানীয় জনসাধারণকে সেবা প্রদানের সুযোগ করে দেয়ার জন্য আন্জুমান এর তরফ থেকেযেমনি সাবেক জেলা প্রশাসক জনাব হারুনার রশিদ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে তেমনি স্থানীয়জনসাধারন ও জনপ্রতিধিদের তরফ থেকে ও জনাব হারুনের এ ধরণের মহৎ কাজের জন্য অভিনন্দন এবংধন্যবাদ জানানো হয়।

এ প্রসংগে দাতা সাবেক যুগ্ম- সচিব হারুনার রশিদের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনিজানাল যে তাঁর মরহুম পিতার অভিপ্রায় অনুযায়ী তার নিজের রেকর্ডভূক্ত সম্পত্তি এবং পিতার উত্তরাধিকার থেকেপ্রাপ্ত অংশ স্থানীয় জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবার জন্য দান করতে পেরে তিনি ও তার পরিবার খুবই প্রশান্তি লাভকরছে। জনাব হারুনের এ মহৎ কাজের জন্য স্থানীয় জনসাধারন মনে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।