গণপূর্তের বদলী বাণিজ্যের হোতা অতি: প্রধান প্রকৌশলী নাছিম খান এবার দ্বৈত দায়িত্বে!
যে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গণহারে বদলী বাণিজ্য ও অবৈধপথে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
যে প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গণহারে বদলী বাণিজ্য ও অবৈধপথে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। যার ওপর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির সদস্যরা চরম ক্ষুব্ধ। নীতি-আদর্শ ও সততার বিন্দুমাত্র যে কর্মকর্তার মধ্যে নেই তাকেই আবার দেওয়া হয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে।
দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একটি লোভনীয় (সংস্থাপন ও সমন্বয়) পদে রয়েছেন। এঘটনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা হতবাক হয়েছেন। তাদের প্রশ্ন;একটি লোভনীয় পদে থাকার পরও আবার কেন তাকে অতিরিক্ত দায়িত্বে আরেকটি লোভনীয় পদে বসানো হলো? গণপূর্ত অধিদপ্তরে কি আর কোন যোগ্য কর্মকর্তা নেই? তবে কি এ ঘটনার নেপথ্যে কোন রহস্য রয়েছে?
সৌভাগ্যবান এই প্রকৌশলীর নাম মো: নাছিম খান। তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী( সংস্থাপন ও সমন্বয়) পদে কর্মরত আছেন। সম্প্রতি তাকে ঢাকা মেট্রো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এই জোনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোভনীয় একটি জোন। এতো অভিযোগ থাকার পরও তাকে কেন ঢাকা মেট্রো জোনের অতিরিক্ত দায়িত্বে দেওয়া হলো?
তার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে জানাগেছে, তিনি গণপূর্ত ম›ত্রণালয়ে মোটা অংকের টাকা ব্যয় করেই এই পদটি হাসিল করেছেন। এজন্য নাকি তাকে ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। এখন দেখা যাক কি কি অভিযোগ রয়েছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: নাছিম খানের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, তিনি ইতিপুর্বে বরিশাল ডিভিশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকাকালে শুধুমাত্র এস্টিমেট পাশ করেই কয়েক কোটি টাকা অবৈধ আয় করেন। তিনি সংস্থাপনের দায়িত্ব পাবার পর প্রায় দেড় শতাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী ,উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ও সহকারি প্রকৌশলীদের বদলী করে প্রায় শত কোটি টাকা হাতয়ে নেন।
শোনা যায় তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী বদলীতে নিয়েছেন ৩০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী বদলীতে নেন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। সহকারি প্রকৌশলী বদলীতে নেন ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। এভাবে অবৈধ পথে টাকা ইনকাম করে তিনি ঢাকা ও গ্রামের বাড়ী কুমিল্লা এলাকায় অগাধ সম্পদ গড়েছেন। এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে ,ঢাকার গুলশানে একটি আলীশান বাড়ী, কুমিল্লা শহরে ( লিফট ব্যবস্থা সম্পন্ন) বিশাল বাড়ী।
নিজ এলাকায় প্রায় শত বিঘা জমিও ক্রয় করেছেন। তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ী। সব মিলিয়ে তিনি শত কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক। অর্থের বিনিময়ে বদলী ও হয়রানিমূলক এসব অন্যায় কাজের প্রতিবাদে গত ২৬ জুলাই ২০২২ ইং তারিখে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নেতারা তার অফিসে ঢুকে ফাইলপত্র ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং তার কাছে কৈফিয়ত চান।
এখানে তাদের চরম বাগবিতন্ডা হয়। পরবর্তীতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নেতারা প্রধান প্রকৌশলীর কাছে গিয়ে তাদের অভিযোগ জানিয়ে প্রতিকার প্রার্থণা করেন। প্রধান প্রকৌশলী নির্দেশনা দেন যে, এরপর যে কোন বদলীতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতির নেতাদের মতামত নিতে হবে বা তাদের সাথে আলোচনা করে তবেই বদলীর প্রস্তাব করতে হবে। প্রধান প্রকৌশলীর এমন নির্দেশনায় তারা খুশি হয়ে স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে চলে যান।
এ ধরনের একজন দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাকে ঢাকা মেট্রো জোনের দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ঠিকাদার সমাজ ও গণপূর্তের দেশ প্রেমিক কর্মকর্তারা। তারা মনে করেন যে, এমন একজন প্রকৌশলীর হাতে কোনভাবেই মেট্রো জোন কাংখিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না ।
বরং বরাদ্দৃত শত শত কোটি টাকা নয়ছয় হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: নাছিম খান জানান, মন্ত্রণালয় আমাকে যোগ্য মনে করেছে তাই ঢাকা মেট্রো জোনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছে। আমি তদবীর করে এই পদে আসিনি। অনিয়ম-দুর্নীতি ও বদলী বাণিজ্য সম্পর্কে বলেন, এসব ভিত্তিহীন কথাবার্তা। অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে বলেন, আমার কোন অবৈধ সম্পদ নেই।