গণতন্ত্রে জবাবদিহি অনির্দিষ্টকাল এড়িয়ে যাওয়া যায় না: শশী থারুর

গণতন্ত্রে জবাবদিহি অনির্দিষ্টকাল এড়িয়ে যাওয়া যায় না: শশী থারুর

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে গণতন্ত্রে জবাবদিহির স্বীকৃতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। তবে তিনি বলেছেন, শুধু মন্ত্রীর পদত্যাগেই দায়িত্ব শেষ নয়; শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সমস্যাগুলোর স্বচ্ছ ও কার্যকর সংস্কার এখন জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে থারুর বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের কয়েক সপ্তাহের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পর এই পদত্যাগ প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্রে জবাবদিহি অনির্দিষ্টকাল এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু তরুণ অপ্রয়োজনীয় পুলিশি বলপ্রয়োগের শিকার হয়েছেন, যা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।

থারুরের ভাষায়, ‘জবাবদিহি শুধু পদত্যাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা স্বচ্ছ সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আর ঝুঁকিতে না পড়ে—সেই অঙ্গীকারের মাধ্যমে দূর করতে হবে।’

তিনি বলেন, যারা আন্দোলন করেছেন, কণ্ঠ তুলেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে গেছেন, তারা এখন এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার অধিকার রাখেন যে, এটি কেবল একটি পদত্যাগের মধ্যেই শেষ হবে না; বরং শিক্ষা ব্যবস্থায় বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা হবে।

অন্যদিকে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) সংসদ সদস্য পি. সান্দোশ কুমার বলেছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণদের সংগ্রামের বিজয়। তবে এটিই শেষ নয়; শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১২ বছরে মোদি সরকার খুব কম ক্ষেত্রেই জনগণের দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছে। কিন্তু এবার শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনের মুখে সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়েছে। তার মতে, এটি ভারতের শিক্ষা সংস্কারের আন্দোলনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

জেএএ