কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি নির্যাতনের মূলহোতা জেলার ফারহানা বহাল তরিয়তে

জেলার ফারজানার অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে চলছে কাশিমপুর মহিলা কারাগার।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি নির্যাতনের মূলহোতা জেলার ফারহানা বহাল তরিয়তে

জেলার ফারজানার অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে চলছে কাশিমপুর মহিলা কারাগার। অদৃশ্য ওই ক্ষমতার দাপটে নিজের রামরাজত্ব প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন জেলার। অদৃশ্য ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কাশিমপুর মহিলা কারাগারকে মাদকের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। তার নিয়ন্ত্রণে চলমান রয়েছে কারাগারে ভিতরে মাদক সেবন ও বিক্রি,মোবাইলে কথা বলা,ক্যান্টিন বাণিজ্যসহ নানান অবৈধ কাজ। কারাগারে এসকল অবৈধ কাজের বৈধতা দিতে সহযোগী হিসাবে কাজ করতেন ওই কারাগারের সাবেক হাজতি ও সমালোচিত যুব মহিলা লীগের নরসিংদী জেলা থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়া, মেট্টন (সুবেদার) ফাতেমা,কারা গোয়েন্দা সদস্য সাদিয়া ও নাসিমা এবং মঞ্জুয়ারা,ক্যান্টিন ম্যানেজার মার্জিয়া।

দীর্ঘ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে জেলার ফারজানার নানা অনিয়ম ও হাজতি নির্যাতনের নির্মম কাহিনি। এদিকে রুনা লায়লা নামের এক হাজতিকে নির্যাতনের অপরাধে ৪ জুন (সোমবার) গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে থাকা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়াকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় এবং চলতি বছরের ৩০ জুলাই কারা অধিদপ্তরের আদেশে ৬ জন মহিলা কারারক্ষীদের বদলি করে বিভিন্ন কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হলেও হাজতিদের নির্যাতনের মাস্টার মাইন্ড জেলার ফারজানা রয়েছেন বহাল তবিয়তে। ঠিক যেন সর্ষের ভিতরে ভূত।

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে রুনা লায়লা নামের এক হাজতিকে চলতি বছরের ১৯ জুন যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়াসহ তার সহযোগীরা অমানবিকভাবে নির্যাতন করে। নির্যাতনে পাপিয়ার সঙ্গে মহিলা কারাগারের মেট্রন (মহিলা কারারক্ষীদের প্রধান) ফাতেমা আক্তারও অংশ নেন।

এ ঘটনায় কারাগারে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়া ও মেট্রন ফাতেমা আক্তারের সম্পৃক্ততার সত্যতা খুঁজে পান। পরে মেট্রন ফাতেমা আক্তারকে  ২০ জুন শোকজ করা হয়। ২৮ জুন শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ১ জুলাই তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়। ৩ জুলাই কারা অধিদপ্তর বরাবর মেট্রন ফাতেমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়। গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্যাতনের শিকার রুনা লায়লা (৩৮) নামে হাজতিকে ২৭ জুন (মঙ্গলবার) মুক্তি দেওয়া হলে,ওই দিনই বিকালে তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

নির্যাতনের শিকার হাজতি লায়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ডেইলি সিটিজেন টাইমস এর অনুসন্ধানী দলের,ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে লায়লা সিটিজেন টাইমসকে বলেন,প্রথম দিন থেকেই তাকে ওই কারাগারের হাজতি যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া,চিফ কারারক্ষী শামীমা,মেট্রন (সুবেদার) ফাতেমা,মহিলা কারারক্ষী হাফিজা,সাহিদা,পাপীয়ার সঙ্গী ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রক্সি,হাজতি আন্দনিকা, অবন্তিকা, সোনালী ও নাজমা কিল, ঘুসি,লাথি ও চড়-থাপ্পর মারতে থাকেন। তার ব্যবহৃত কানের দুল ও স্বর্ণের চুরি খুলে নেন তারা। প্রতিবাদ করলে তারা নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। যার মাস্টার মাইন্ড ছিলেন জেলার ফারজানা। তার নির্দেশেই আমার উপরে এমন অমানুষিক নির্যাতন চালাই তারা। সবাই কমবেশি শাস্তি হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে পারপেয়ে যান জেলার ফারজানা।

কারাগারের ভিতরে হেনকাজ নাই যে ঘটে না। সকল অবৈধ কাজের নাটেরগুরু হচ্ছেন জেলার ফারজানা। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাইনা। তাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে সরাতে না পারলে এমন অসংখ্য অপরাধের ঘটনা অন্তরালেই রয়ে যাবে। তার সঠিক বিচার হওয়া উচিত। কারাগারে নির্যাতিত হাজতি লায়লার কথার সত্যতা যাচাইবাছাই করতে কারাগারের ভিতরের নানা অনিয়ম ও নির্যাতনের খবর সংগ্রহ করতে মাঠে নামে অনুসন্ধানী টিম। ঘটনার ভিতরে ঢুকতেই বেরিয়ে আসতে থাকে জেলার ফারজানার অনিয়ম ও দুর্নীতির চানচল্যকর নানান তথ্য ও কাহিনী,যা শুনলে যেকারও চোখ ছানাবড়া হবে সেকথা বলাই চলে।