এলডিডিপি প্রকল্পের পিডির অযোগ্যতায় শিবির ক্যাডার সিটিসি রাব্বানি কায়েম করেছে লুটপাটের রাজত্ব
নিজের অযোগ্যতাকে আড়াল করে প্রকল্পের সিটিসি চিহ্নিত শিবির ক্যাডার গোলাম রাব্বানির উপর ভর করে কারিগরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের পিডি যুগ্ম-সচিব আব্দুর রহিম।
নিজের অযোগ্যতাকে আড়াল করে প্রকল্পের সিটিসি চিহ্নিত শিবির ক্যাডার গোলাম রাব্বানির উপর ভর করে কারিগরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের পিডি যুগ্ম-সচিব আব্দুর রহিম।
প্রাণিসম্পদ বিষয়ে নিজের কোন পড়াশোনা বা পূর্ব অভিঙ্গতা না থাকলেও পিডি হিসাবে লুটপাট আর অর্থের অপচয় করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। আর পিডির সকল অপকর্মের প্রধান সেনাপতি বাংলাদেশ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির ক্যাডার সিটিসি গোলাম রাব্বানি। ছাত্র জীবনে শিবিরের রাজনিতি করেও এখন তিনি রাতারাতি বিরাট আওয়ামী লীগ ঘরনার কর্মকর্তা সেজেছেন। এক কথায় বলা যায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বর্তমান সময়ে সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগী কর্মকর্তাও এই রাব্বানী।
নিজসহ আত্নীয় স্বজনের নামে-বেনামে ইতোমধ্যে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। তাই গাইবান্ধায় নিজ জন্মস্থান হলেও রংপুর শহরে করছেন কোটি কোটি টাকা খরচ করে আলিশান বাড়ি। রাজধানীর ৬০ফিটে একাধিক আলিশান ফ্লাটও রয়েছে । একজন সরকারী কর্মকর্তার এমন নামে বেনামে এত সম্পদের উৎস্য কোথায় ? তবে রাব্বানিযে পিডি রহিমের কাধে বন্দুক রেখে নিজেই গুলি করে যাচ্ছেন বিষয়টি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে একদমই ওপেন সিকরেট।
এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে এখনো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এলডিডিপি প্রকল্পের পরিচালক যুগ্ম সচিব আব্দুর রহিম কে প্রকল্প পরিচালক পদে বহাল রেখেছেন। এতে করে একদিকে যেমন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানো হচ্ছে, অন্যদিকে একজন কারিগরি বিদ্যায় অদক্ষ কর্মকর্তাকে দিয়ে একটি জন গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সূত্র জানাই গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারী এনইসি-একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগ সমন্বয় শাখা-১ এর যুগ্ম-সচিব মোছাঃ মাজেদা ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত স্বারক নং-২০,০০,০০০০,৮০৩,০৬,০০২,২০২২-৩৬ স্মারক থেকে জানা তথ্য অনুযায়ী অন্যতম উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত হলো মন্ত্রণালয়/বিভাগ এর কোন কর্মকর্তাকে মন্ত্রণালয়/বিভাগের কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ব্যতীত প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা যাবে না।
উল্লেখিত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায় অধিদপ্তরের সর্ববৃহৎ প্রকল্প এলডিডিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হয়েছে যুগ্ম সচিব আব্দুর রহিমকে। তিনি একদিকে যেমন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ সম্পর্কে তার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা বা পড়াশোনা নাই। প্রশাষন ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে এমন একটি কারিগরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন সেটা অনেকেরই প্রশ্ন? আর এখন যেহেতু সিদ্ধান্ত হয়েছে তাই তাকে দ্রুত প্রকল্প থেকে সরিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া উচিত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, এই প্রকল্পটা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রান্তিক খামারিদের কাছে এই প্রকল্প বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। তাই এটি একটি উপকারী প্রকল্প হলেও প্রকল্প পরিচালকের কারিগরি অদক্ষতায় প্রকল্পের সিটিসি এই সুবিধা নিচ্ছে। পিডির ভেটেরিনারী সম্পর্কে কোন দক্ষতা নাই। তাই দ্রুত তাকে সরিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দানের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করিছ কর্তৃপক্ষের কাছে। অপর একটি সূত্র জানায়, প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম ব্যক্তিগত আমোলনামা জটিলতায় প্রমোশন হবেনা এটা নিশ্চিত বুঝতে পেরে প্রকল্প পরিচালক পদটি আকড়ে ধরে আছেন।
প্রকল্প পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব টাকে তিনি সেভজোনও মনে করছেন। এখানে একদিকে যেমন রয়েছে অবৈধ অর্থের ইনকাম অন্যদিকে অর্থ খরচের ক্ষমতা, দুইটি তিনি বেশ এনজয় করছেন । তাই নিজের চোয়ারটি পোক্ত রাখতে তিনি বিভিন্ন ভাবে তদবির করছেন।