অনুমোদন বিহীন রাজধানীর তিলপাপাড়ায় গড়ে উঠা অবৈধ মাছের বাজারে চলছে ভয়াবহ প্রতারণা ॥ দেখার কেউ নেই

রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেটস্থ তিলপাপাড়ায় গড়ে উঠেছে অবৈধ মাছের বাজার।

অনুমোদন বিহীন রাজধানীর তিলপাপাড়ায় গড়ে উঠা অবৈধ মাছের বাজারে চলছে ভয়াবহ প্রতারণা ॥ দেখার কেউ নেই

রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেটস্থ তিলপাপাড়ায় গড়ে উঠেছে অবৈধ মাছের বাজার। দেদারসে বিক্রি হচ্ছে কেমিক্যাল ও রংযুক্ত ছোট বড় নানা ধরনের মাছ। এছাড়া ওজনেও কারচুপি করছে মাছ বিক্রেতারা। কেজি প্রতি ২০০ গ্রাম কম অর্থাৎ ৮০০ গ্রামে এক কেজি ধরে বিক্রি করছে শতাধিক মাছ বিক্রেতা।

প্রতিদিনই এই বাজারে কয়েক লক্ষ টাকার মাছ বেচা-কেনা হয়ে থাকে। বিষয়টি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল ২ এর দেখার দায়িত্বে নিয়োজিত খাদ্য ও সেনেটারি সাব ইন্সপেক্টরকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন চালিয়ে যাচ্ছে এ ব্যবসা। সূত্রমতে রেলগেট সংলগ্ন মাছের দোকান উচ্ছেদের পর রাস্তার অপর পাড়ের ঢালে তারা চালিয়ে যাচ্ছে এ ব্যবসা। এতে হাজার হাজার নগরবাসী প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছে।

মানহীন ও কেমিক্যালযুক্ত মাছ খেয়ে যেমন অসুস্থ হচ্ছে নগরবাসী তেমনিভাবে ওজনে কম দিয়ে প্রতারিতও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অপরদিকে অনুমোদনবিহীন এ বাজার থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হলেও দুর্নীতি পরায়ণ কর্মচারী কর্মকর্তাদের নীতিহীন কাজের কারণে ডিএসসিসি ও হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব। অন্যদিকে অতিরিক্ত মূল্য, কেমিক্যালযুক্ত ও ওজনে কম পেয়ে ক্রমাগত ঠকেই চলছে নগরবাসী।

গতকাল দিন ও রাতে সরজমিন অনুসন্ধান ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। খিলগাঁও এর বাসিন্দা আব্দুস সবুর জানালেন অতিরিক্ত মূল্যে কেমিক্যাল যুক্ত ও ওজনে কম পেয়েও এ বাজার থেকে তারা মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। কেননা আশেপাশে আর বাজার নেই।

বাসাবোর মালিহা বেগম বলেন, অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও এসব মাছ কিনে নিচ্ছেন তারা এসব দেখার কেউ কি নেই বলে প্রশ্ন করেন তিনি। শাহজাহানপুরের আব্দুল কুদ্দুস বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই বাজারে এ বাজারের মাছ কিনতে আসা এযেন মরার উপর খাড়ার ঘা।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির অঞ্চল ২ এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আবু সাদাত মোহাম্মদ সালেহ এমবিবিএসকে অফিসে না পেয়ে ফোন করলে তিনি বলেন, তার অধসুত্র সাব ইন্সপেক্টর কামরুল ইসলাম এসব দেখাশোনা করেন তার সাথে কথা বলেন। সাব ইন্সপেক্টর (ফুড এন্ড সেনিটেশন) কামরুল মুঠো ফোনে জানান, আমরা এ বাজারটির খবর জানিনা আপনার মাধ্যমে জানলাম। যদি এসব অভিযোগ সত্যি হয় তবে ব্যবস্থা নেব।

তিনি বলেন, তারা যে মামলা করেছেন তা পিআরও জানে। অথচ পিআরও জানালেন এরা তথ্য দিতে চায় না। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, কামরুল প্রতিদিন এ বাজারের বড় মাছ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা হারে মাসে দেড় লাখ টাকা নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ আছে।

নগরীর অন্য মাছ বাজার, হোটেল, রেস্তোরা, বেকারি খাদ্য সহ মানহীন ও অস্বাস্থ্যকর বিভিন্ন বৈধ, অবৈধ, বাজার, দোকানপাট, কারখানা থেকে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ নেয় বলেও এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ থাকলেও এ ব্যাপারে কামরুল অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তারা নিয়মিত বাজার তদারকি ও মামলা করে যাচ্ছেন। তবে সে তথ্য তিনি দিতে পারেননি বলেছেন পিআরওর কাছে আছে। আর পিআরও বলছেন, স্বাস্থ্য বিভাগ তথ্য দিতে চায় না। এ ব্যাপারে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অফিসে যেয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠো ফোনেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য ডিএসসিসির অঞ্চল ২ এর সেনেটারি সাব ইন্সপেক্টর কামরুল যোগদানের পর এতদ্বঞ্চলে প্রতিটি মাছ বাজার, হোটেল, বেকারী থেকে মাসিক কয়েক লক্ষ টাকা ঘুষ আদায় করে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিতে চরম অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন। জনস্বার্থে অবিলম্বে এই র্দর্ণীতিবাজ সাব ইন্সপেক্টর অপসারন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন পরিবেশ বিধগন।