হোয়াইক্যং রেঞ্জে সুফল বনায়নে কোটি টাকার বানিজ্য

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের হোয়াইক্যং রেঞ্জের শামলাপুর বনবিটের বনাঞ্চলের গাছ নিধন, পাচার ও করাত করে চিরাই করে বিক্রিতে সহযোগীতা করছে খোদ বিট কর্মকর্তা ফরেস্টার ফেরদৌস।

হোয়াইক্যং রেঞ্জে সুফল বনায়নে কোটি টাকার বানিজ্য

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের হোয়াইক্যং রেঞ্জের শামলাপুর বনবিটের বনাঞ্চলের গাছ নিধন, পাচার ও করাত করে চিরাই করে বিক্রিতে সহযোগীতা করছে খোদ বিট কর্মকর্তা ফরেস্টার ফেরদৌস। বোট ও নৌকা নির্মাণে সহযোগিতা করছে দীর্ঘদিন। বনায়ন সৃজন, পরিচর্যার নামে সিংহ ভাগ বরাদ্দ লোপাট করছে। ওই বিটে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে টেকসই বন ও জীবিকা প্রকল্পে বনায়নের নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

সুফল বনায়নের জন্য বরাদ্দের টাকা আত্মসাত করে কথিত অংশীদারদের দিয়ে নামমাত্র বনায়ন সৃজন করলেও বেশির ভাগ চারা মরে যাচ্ছে কিংবা মরার উপক্রম হয়েছে। সুফল প্রকল্পের বনায়ন অংশীদার নিয়োগেও জনপ্রতি ৩০/৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে উক্ত বিট কর্মকর্তা ফেরদৌসের বিরুদ্ধে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলমের সাথে ভালো সখ্যতাকে পুঁজি করে গত দুই বছর ধরে এধরনের দেশদ্রোহী কাজে জড়িত রয়েছে। অবশ্য বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বন ধ্বংসে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।১০০ হেক্টর বাগান করার কথা থাকলেও প্রায় ৬০ হেক্টরে কোন বাগান না করেই বরাদ্দকৃত টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ফরেস্টার ফেরদৌস। চারা তৈরীর কাজেও ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। দিনমজুর দিয়ে কাজ করানোর ক্ষেত্রে ও জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটলেও দেখার কেউ নেই।

রোহিঙ্গা শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করিয়ে তাদেরকে দৈনিক ১৫০/ ২০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে মাস্টাররোলে ৫/৬শ টাকা হারে তুলে এই বিপুল পরিমান টাকা আত্মসাত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পের বাইরে যাবার নিয়ম না থাকলেও বিভিন্ন রোহিঙ্গা নেতাদের মাধ্যমে শত শত রোহিঙ্গাকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্যাম্প থেকে বের করে এনে তাদেরকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।

এ সকল শ্রমিকদের দিয়ে মাটি কাটা, ব্যাগে মাটি ভরা ও ব্যাগে বীজ দেয়ার কাজ করানো হয়। প্রচলিত নিয়ম মোতাবেক বাগান করার সময় শ্রমিক ডাটাবেজ করা হয়। সে মোতাবেক সারাবছর এ সকল দিনমজুর/শ্রমিকরা কাজ করবে। পাশাপাশি এ সকল শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ড সংরক্ষণসহ মাস্টার রোলে সই/স্বাক্ষর রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা শ্রমিকদের কোন এনআইডি না থাকলেও সংশ্লিষ্ট ফরেস্টার ফেরদৌস তার নিজের ল্যাপটপে ভুয়া এনআইডি নাম্বার ও নাম ঠিকানা বসিয়ে প্রিন্ট করে সরকারি ফাইলে সংরক্ষিত করে আসছেন।

মাষ্টার রোলে উল্লেখিত শ্রমিকদের নাম ঠিকানা ও এনআইডি কার্ডের নাম্বারগুলো ওয়েবসাইটে পরীক্ষা করলে শতভাগ গরমিল পরিলক্ষিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। সূত্রমতে শ্রমিক প্রতি গড়ে ৩০০ টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। এভাবে প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। অপরদিকে এই রেঞ্জের অধীন বিভিন্ন এলাকায় গত অর্থবছরে যে বাগান করা হয়েছে তা পরিমাপ করলেও দেখা যাবে কমপক্ষে ৬০ হেক্টরে কোন বাগানই হয়নি। যে অংশে বাগান দেখানো হয়েছে সেখানেও টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের দিকনির্দেশনা উপেক্ষিত হয়েছে।

বনায়নে জৈব সার রাসায়নিক সার ও প্রতিটি গাছের সাথে খুটি লাগানোর নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। বনায়নের চিকরাশি, গামার, আকাশমনি, চাতিয়া, , করই, , বহেরা, অর্জুন গাছ লাগানোর নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি। অপরদিকে ৬ ফুট অন্তর চারা রোপনের কথা থাকলেও একেকটি চারার দূরত্ব করা হয়েছে ১০ থেকে ১২ ফুট। চারা রোপণের পূর্বে গোবর সার ও রাসায়নিক সার দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। আর এ কারণেই গত অর্থবছর করা বাগানের প্রায় ৩০ শতাংশ চারা ইতিমধ্যে মারা গেছে।

তাছাড়া বাগানের সম্মুখভাগের বাগান কিছুটা নিয়মমাফিক হলেও ভেতরে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। কারণ হিসেবে জানা যায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাগান পরিদর্শনে গেলে সম্মুখভাগের বাগান দেখেই চলে আসেন। বিভিন্ন পোকামাকড় ও কাদা পানি থাকায় তারা ভিতরে ঢুকতে চান না। আর এই সুযোগটাই বাগান তৈরীর কাজে নিয়োজিতরা নিয়ে থাকেন। এবিষয়ে জানতে চাইলে শাপলাপুর বিট কর্মকর্তা ফরেস্টার ফেরদৌস কথা বলতে রাজি হয়নি।