হাসিনার পতনের পেছনে সাংবাদিক মুশফিকের অবদান কম নয়!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আতংক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী।

হাসিনার পতনের পেছনে সাংবাদিক মুশফিকের অবদান কম নয়!

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আতংক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী। বস্তুনিষ্ট প্রকৃত সংবাদ প্রকাশে হাসিনা সরকার দেশীয় গণমাধ্যমগুলোকে জুজু’র ভয় দেখিয়ে কুক্ষীগত করে রাখলেও গত ১৫ বছর ধরে নির্ভয়ে সরব ছিলেন তিনি। জাতিসংঘ, হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন, স্টেট ডিপার্টমেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দপ্তরগুলোতে বিরামহীনভাবে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ, গণহত্যা ও অপশাসনের কথা। বিদেশের মাটিথে থেকেও প্রাণভয় উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় প্রতিনিয়ত দেশী-বিদেশী বিশিষ্টজনদের প্রশংসায় ভাসছেন মুশফিক।

বাংলাদেশে ডেপুটি এ্যাম্বেসেডর হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ মুশফিকুল ফজল আনসারী সম্পর্কে এক টুইটে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সামনে বাংলাদেশের হুমকিসমূহ তুলে ধরার ক্ষেত্রে মুশফিকুল ফজলের অনন্য ভূমিকা ইতিহাস মনে রাখবে। জানা গেছে, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নীতি নির্ধারণীতে যে ক’জন মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের একজন মুশফিকুল ফজল আনসারী।

সাম্প্রতিক ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিটি ঘটনা জাতিসংঘের সদর দপ্তর, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসে তুলে ধরার মাধ্যমে আন্দোলনের আসল চিত্র বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেন এই সাংবাদিক। শুধু সাংবাদিকতাই নয়, মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের তখনকার অবস্থা তুলে ধরে বক্তব্য রেখেছেন ব্রিটেনের হাউস অব কমন্সে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন, হার্ভার্ড, অক্সফোর্ড, জর্জ ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে। মুশফিককে দমিয়ে রাখতে তার পরিবারের সদস্যদেরও নানাভাবে বিরামহীন হয়রানি করেছে পতিত সরকার। হরহামেশাই তার ভাই, বোন, বোনের স্বামীকে অপদস্ত করতো সরকারের পেটুয়া বাহিনী। অন্য সদস্যদের মতো বাদ রাখা হয়নি তার বাবা-মা-কেও। টার্গেট করে পাসপোর্ট জটিলতায় ফেলে রাখা হয়েছিলো তাদের। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে তার বাবাকে লন্ডনে এবং বৃদ্ধ মা-কে সিলেটে থাকতে হচ্ছে।

শেখ হাসিনা সরকারের যন্ত্রণার কারণ এই সাংবাদিক, বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কূটনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন দৈনিক ইত্তেফাকে। বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভিতে কূটনৈতিকদের নিয়ে বিশেষ প্রোগ্রাম সঞ্চালনা করেছেন তিনি। এ ছাড়া ও সংবাদ সংস্থা ইউ এন বি -তে বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ওয়ার্ক এক্সিপিরিয়েন্স রিপোর্টার হিসাবে কাজ করেছেন বিশ্বের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য টাইমস ও সানডে টাইমসে।

এ ছাড়া বিবিসি, আল-জাজিরা, সিএনএন, এনডিটিভিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাংলাদেশের গণমানুষের হয়ে দিয়েছেন একাধিক সাক্ষাৎকার। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইট টু ফ্রিডমের নির্বাহী পরিচালক, জাস্ট নিউজ বিডির সম্পাদক ও ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত ফরেন পলিসি বিষয়ক ম্যাগাজিন সাউথ এশিয়া পার্পেক্টিভসের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে ওয়াশিংটন থেকে কাজ করছেন। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাংবাদিকদের সংগঠন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের দুটি কমিটির নির্বাহী সদস্য তিনি। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেটস এসোসিয়েশন এবং ইউএনসি’র সদস্য মুশফিক। বাংলাদেশের জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যও ছিলেন তিনি। তবে পদলেহী সাংবাদিকদের প্রতি ধিক্কার জানিয়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান।